রাজধানীর মালিবাগ চৌধুরীপাড়ায় পোশাক কারখানার এক শ্রমিককে চুরির অভিযোগে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এর প্রতিবাদে ইজি ফ্যাশনস নামের ওই কারখানার শ্রমিকরা গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে রামপুরা-মালিবাগ সড়ক অবরোধ করে প্রায় তিন ঘণ্টা বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাদের সঙ্গে পুলিশের দফায় দফায় সংঘর্ষ হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাস নিক্ষেপ ও কয়েক রাউন্ড গুলি ছোড়ে পুলিশ। ইট-পাটকেলের আঘাতে আহত হয়েছেন হাতিরঝিল
থানার ওসিসহ কমপক্ষে ৫ পুলিশ সদস্য। এ ছাড়া পুলিশের লাঠিপেটায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ শ্রমিক ও পথচারী।
যে শ্রমিককে কারখানার মালিকপক্ষের লোকজন পিটিয়ে হত্যা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে, তার নাম দেলোয়ার হোসেন (২৫)। তিনি ওই পোশাক কারখানার কাটিং সহকারী ছিলেন। নিহত দেলোয়ার চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলার জয়নগর গ্রামের মোশাররফ হোসেনের ছেলে। তাকে হত্যায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইজি ফ্যাশনসের তিন কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার আনিসুর রহমান দেশ রূপান্তরকে জানান, গত বুধবার কারখানা ছুটি হওয়ার পরও নিহত দেলোয়ার বের না হয়ে কারখানার ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। মাঝরাতে তিনি ছয়তলা থেকে কিছু গেঞ্জি জানালা দিয়ে বাইরে ফেললে বাইরে থেকে একজন তা দেখে নিরাপত্তাকর্মীদের খবর দেয়। পরে নিরাপত্তাকর্মীরা কারখানার ব্যবস্থাপককে খবর দেন। এর কিছুক্ষণ পর তিন-চারজন নিরাপত্তাকর্মীকে নিয়ে অফিস সহকারী ইয়াসিন ছয়তলায় লুকিয়ে থাকা দেলোয়ারকে খুঁজে বের করেন। দেলোয়ারকে ধরার পর বেদম মারধর করা হয়। পরে রাতে তাকে কারখানার ভেতরেই আটকে রাখা হয়। পরে শ্রমিকদের কাছ থেকে খবর পেয়ে পুলিশ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে দেলোয়ারকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠায়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দুপুর ১২টার দিকে তিনি মারা যান।
দেলোয়ারকে হত্যার ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানালেও তাদের নাম-পরিচয় জানাননি পুলিশ কর্মকর্তা আনিসুর। আটক তিনজনই মালিক পক্ষের লোক এবং পোশাক কারখানাটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেও জানান তিনি।
এদিকে দেলোয়ারের মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যা দাবি করে ইজি ফ্যাশনসের বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা বেলা পৌনে ৩টার দিকে রামপুরা-মালিবাগ সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। তাদের সঙ্গে আশপাশের বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকরাও যোগ দেন। তাদের বিক্ষোভ-অবরোধে মালিবাগ আবুল হোটেল থেকে রামপুরা পর্যন্ত সড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে প্রায় তিন ঘণ্টা। অফিস ছুটির এই সময়ে প্রধান সড়ক অবরোধের প্রভাবে আশপাশের সড়কগুলোতেও তীব্র যানজট দেখা দেয়। পুলিশ তখন শ্রমিকদের সরিয়ে দিতে লাঠিপেটা করলে আহত হয় অন্তত ২০ শ্রমিক ও পথচারী। এ সময় শ্রমিকরা ৮-১০টি যানবাহন ভাঙচুর করেন। তারা কয়েকটি গাড়িতে আগুন দেওয়ার চেষ্টা করলেও পুলিশ নিবৃত করে।
নিহত দেলোয়ারের সহকর্মী ইজি ফ্যাশনসের মেশিন অপারেটর আনোয়ার হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেলোয়ার চার বছর ধরে এই কারখানায় কাজ করছিল। সে গার্মেন্টস থেকে একটি গেঞ্জি চুরি করেছেÑ এমন অভিযোগে তাকে গার্মেন্টস কর্মকর্তারা মারধর করেন। তাদের গণপিটুনিতে দেলোয়ার মারা যান।’
কারখানার আরেক শ্রমিক আবদুল হাই বলেন, ‘একটি গেঞ্জির দাম কত? নইলে ৫ হাজার টাকা হবে। এ জন্য একজনকে পিটিয়ে মেরে ফেলতে হবে? এটা পরিকল্পিত হত্যা, আমরা এই হত্যাকাণ্ডের বিচার চাই। মালিক ও ম্যানেজারসহ দায়ী সবার শাস্তি চাই।’
