বরগুনার আলোচিত রিফাত শরীফ হত্যা মামলার প্রধান সাক্ষী থেকে গ্রেপ্তার দেখানোর পর কারাবন্দি আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নির অসুস্থতা নিয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছে তার বাবা ও কারা কর্র্তৃপক্ষ। মিন্নির বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলছেন, রিমান্ডে নির্যাতনের ফলে মিন্নি অসুস্থ হয়ে পড়েছে এবং দ্রুত তার চিকিৎসা প্রয়োজন। কিন্তু বরগুনা জেলা কারাগারের সুপার দেশ রূপান্তরকে বলেছেন, মিন্নি সুস্থ তাই তাকে এখনো কোনো চিকিৎসক দেখানো হয়নি। বরগুনা জেলা কারাগারের সুপার আনোয়ার হোসেন গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মিন্নির চিকিৎসায় সার্বক্ষণিক একজন ডিপ্লোমা নার্স রয়েছেন। এ ছাড়াও সিভিল সার্জন অফিস থেকে আমাদের কারাগারের জন্য একজন ডাক্তার দেওয়া হয়েছে। প্রতি সপ্তাহে ২ দিন উনি জেলখানার রোগীদের চিকিৎসাসেবা দিয়ে থাকেন।’
মিন্নিকে কারাগারে পাঠানোর পর থেকে এখন পর্যন্ত তাকে কোনো চিকিৎসক দেখানো হয়েছে কি না জানতে চাইলে জেল সুপার বলেন, ‘আমাদের যিনি নার্স রয়েছেন তিনি তাকে (মিন্নি) দেখেছেন। তার (নার্স) কাছে মনে হয়েছে, সে (মিন্নি) সুস্থ, তাই তাকে কোনো ডাক্তার দেখানো হয়নি। তবে সে যদি অসুস্থ বোধ করে তাহলে আমরা তার প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করব।’
বরগুনা জেলা কারাগারের অতিরিক্ত দায়িত্বে থাকা জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের আবাসিক মেডিকেল অফিসার মো. হাবিবুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত মিন্নিকে দেখিনি। খুব শিগগিরই তাকে দেখতে জেলা কারাগারে যাব। তবে ওখানে কর্মরত নার্স আমাকে যেটা জানিয়েছে, তাতে সে (মিন্নি) তেমন কোনো অসুস্থতার মধ্যে নেই।’
তবে কারা কর্র্তৃপক্ষ মিন্নি সুস্থ আছে বলে দাবি করলেও তার বাবা মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেছেন এ কথা সত্য নয়। তিনি গতকাল বিকেলে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার মেয়ে শারীরিক ও মানসিকভাবে অসুস্থ। দ্রুত তার চিকিৎসার প্রয়োজন। রিমান্ডে নিয়ে আমার মেয়ের ওপর শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়েছে। আমার মেয়ে হাঁটতে পারছে না। সে খুবই অসুস্থ।’
প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, ‘যে ওষুধ ব্যবহার করা হচ্ছে তার সম্পর্কে যে বক্তব্য এসেছে তার জন্য ওষুধ পরীক্ষা করা হচ্ছে এবং কার্যকর ওষুধ প্রয়োগ করা হচ্ছে বলে পরীক্ষান্তে পাওয়া গেছে।’
গত মাসের শুরু থেকেই ঢাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেড়ে গেছে। মশাবাহিত এ রোগে বেসরকারি হিসাবে অন্তত ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে বলা হলেও সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আটজন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৮ হাজার ৫৬৫ জন মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে কেবল জুলাই মাসেই রেকর্ড ৬ হাজার ৪২১ জন হাসপাতালে গেছেন।
গত বুধবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ৫৬০ জন ডেঙ্গুজ্বর নিয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকাতেই আছেন ৫৫৯ রোগী। একই দিন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের বিশেষ সমন্বয় সভায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনকে ডেঙ্গু প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ওষুধ দ্রুত সংগ্রহের উদ্যোগ নিতে বলা হয়।
বাংলাদেশে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যা এশিয়ার অনেক দেশের তুলনায় কম দাবি করে অনুষ্ঠানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রী বলেন, ‘গত বছর আমাদের ২৮ জন মারা যাওয়ার রেকর্ড আছে। থাইল্যান্ডে এ পর্যন্ত একশর বেশি মারা যাওয়ার তথ্য পেয়েছি। ফিলিপিন্সে সাড়ে চারশ মানুষের মৃত্যুর খবর পেয়েছি। সিঙ্গাপুরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রেকর্ড অনুযায়ী ৪০-৫০ জন মারা গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি আশা করি আজকে থেকে শুরু হওয়া এই এক সপ্তাহব্যাপী মশক নিধন কর্মসূচি পালনের মধ্য দিয়ে এডিস মশার বংশবিস্তার ধ্বংস করতে পারবÑ এই আশাবাদ ব্যক্ত করে আজকের অনুষ্ঠানে আমি শুভ উদ্বোধন ঘোষণা করছি।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী দাবি করেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ থাকলেও সেটা ‘বাস্তবে সত্য নয়’। তিনি আরও বলেন, ‘আমরা কাজ করছি। হয়তো আমরা লক্ষ্যে পৌঁছাতে পারছি না এবং যে মৃত্যু হচ্ছে তার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত।’
