বাংলাদেশে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে দেওয়া প্রিয়া সাহার বক্তব্য বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের নয় বলে জানিয়েছেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক রানা দাশগুপ্ত। তিনি বলেন, প্রিয়া সাহা যা করেছেন নিজ দায়িত্বে করেছেন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন
রানা দাশগুপ্ত। প্রিয় সাহা সম্প্রতি ট্রাম্পের সঙ্গে দেখা করে অভিযোগ করেন, বাংলাদেশ থেকে ৩ কোটি ৭০ লাখ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান উধাও হয়ে গেছেন। তার এ বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার মধ্যে
অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদক প্রিয় সাহাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ।
লিখিত বক্তব্যে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘প্রিয়া সাহা সংগঠনের অন্যতম সাংগঠনিক সম্পাদকÑ এটি সত্য। তবে সাংগঠনিক কোনো সিদ্ধান্ত বা দায়িত্ব নিয়ে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাননি বা মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেননি। তিনি যা করেছেন নিজ দায়িত্বে করেছেন। এর সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই।’
তিনি আরও বলেন, প্রিয়া সাহা ‘ডিজএপিয়ার’ বলতে কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা তিনিই ভালো বলতে পারবেন। এটি যদি স্বাধীন বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের গুম ও নিখোঁজ অর্থে বলে থাকেন, তবে তা অসত্য এবং আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য অব্যাহত আছে উল্লেখ করে রানা দাশগুপ্ত বলেন, ‘দুঃখজনক হলেও এটি সত্য যে স্বাধীন বাংলাদেশে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাবিরোধী অবস্থান থেকে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও বৈষম্য অব্যাহত আছে। তবে এটিও অস্বীকারের উপায় নেই বিগত ১০ বছরে অন্তত এ সরকারের আমলে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষায় বেশ খানিকটা অগ্রগতি ঘটেছে।’
তিনি বলেন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার আন্তরিক সদিচ্ছায় প্রণীত হলেও তার বাস্তবায়ন আজও থমকে আছে। সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য নিম চন্দ্র ভৌমিক, কাজল দেবনাথ, নির্মল রোজারিও প্রমুখ।
