রাজশাহীর হাইটেক পার্ক

পুনর্বাসন ছাড়াই বলপ্রয়োগে উচ্ছেদের অভিযোগ

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০১৯, ১২:৩১ এএম

রাজশাহী সিটি করপোরেশনের অন্তর্ভুক্ত বুলনপুর নতুনপাড়ায় বঙ্গবন্ধু হাইটেক পার্ক নির্মাণের জন্য ৩১ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১২০০ পরিবারকে পুনর্বাসন ব্যতীত বেআইনি বলপ্রয়োগে উচ্ছেদ করা হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

‘প্রাণ প্রকৃতি সুরক্ষা মঞ্চে’র সমন্বয়ক ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়ুয়া শুক্রবার রাজধানীর প্রেসক্লাবে ‘হাইটেক পার্ক নির্মাণের কারণে উচ্ছেদ হওয়া নাগরিকদের মৌলিক অধিকার সুরক্ষার দাবিতে’ আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন।

জ্যোতির্ময় বড়ুয়া বলেন, নদী ভাঙনসহ বিভিন্ন কারণে ভূমিহীন এসব পরিবার ওই এলাকায় ১৫ বছরের অধিককাল সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদান করে বসবাস করে আসছিল। জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে খাসজমি বরাদ্দ পাওয়ার জন্য আবেদন করলে ও তা পাননি উল্লেখ করে তিনি বলেন, অথচ ১৯৭২ সালে বোর্ড অফ রেভিনিউয়ের সার্কুলার দ্বারা ভূমিহীন কৃষকদের বিনা মূল্যে খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদান করার আদেশ রয়েছে। ১৯৮৭ সালে খাসজমি ব্যবস্থাপনা ও বন্দোবস্ত নীতিমালা যা ১৯৯৫ সালে সংশোধন করা হয়েছে সেখানে ভূমিহীন কৃষকদের খাসজমি বন্দোবস্ত প্রদানে জোড় দেওয়া হয়েছে। সরকার প্রায় ৬০০ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসাবে পরিবারপ্রতি ৫০ থেকে ৭০ হাজার টাকা প্রদান করলেও ক্ষতিগ্রস্তদের ভাষ্যমতে ১২০০ পরিবারের বসবাস ছিল।

সংগঠনটি দাবি করছে, উচ্ছেদ পূর্বে উক্ত স্থানে বসবাসকারীদের অস্থাবর সম্পত্তির কোন সমীক্ষা করা হয়নি। ব্যক্তি মালিকানাধীন জমি কোনো প্রকার অধিগ্রহণ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে বেআইনিভাবে মাটি ভরাট করে শত শত ফলজ-বনজ গাছসহ ঘরবাড়ির ক্ষতি সাধন করা হয়েছে।

বসবাসকারীদের হঠাৎ বালি ভরাট করে উচ্ছেদ করা হয় এমনকি কোন মালামাল সরাতে সময় দেওয়া হয়নি। স্থানীয়দের কেউ কেউ উচ্ছেদ হওয়া পরিবারকে রোহিঙ্গা সম্বোধন করে হেয় করার কারণে তারা নগরীর মূল জনগোষ্ঠী থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ছে। অধিগ্রহণের পূর্বে সকল ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পুনর্বাসন নিশ্চিত করে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদানের দাবি করছে সংগঠনটি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত