কর্মকর্তাদের এনবিআর চেয়ারম্যান

স্বভাব না বদলালে হজে গিয়ে লাভ কী

আপডেট : ২৮ জুলাই ২০১৯, ১২:৩৮ এএম

ব্যবসায়ীদের হয়রানি করার স্বভাব বদল করতে কর্মকর্তাদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেছেন, এনবিআরের অনেক কর্মকর্তা হজে যাচ্ছেন। হজের মৌসুমে ছুটি দিতে দিতে দিশেহারা হতে হয়। হজে যাওয়ার পরও যদি তাদের স্বভাব না বদলায় হজে গিয়ে লাভ কী?

গতকাল শনিবার ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত

কর্মশালায় রাজস্ব বোর্ডের কর্মকর্তাদের দ্বারা ব্যবসায়ীরা হয়রানির অভিযোগ করলে এনবিআর চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। তিনি বলেন, ‘হয়রানি করার কথাটা অনেকের মুখে আসছে। হয়রানির বিষয়টি কর্মকর্তাদের সঙ্গে সমঝোতায় না গিয়ে আমাদের বলেন ওই অফিসার হয়রানি করছে। তখন তাকে শক্ত হাতে ধরা হবে। যখন কোনো কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপ হয় তখন তিনি তাদের বলেন, ব্যবসায়ীদের বাধ্য করে যেটা নেন সেটা চুরি, সেটা ময়লা খাবার।’

রাজধানীর সিরডাপ অডিটরিয়ামে ‘ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক আইন ২০১২’ বিষয়ক কর্মশালার আয়োজন করে ডিসিসিআই। ঢাকা চেম্বারের সভাপতি ওসামা তাসীরের সভাপতিত্বে এতে বিশেষ অতিথি ছিলেন এনবিআর সদস্য (ভ্যাট বাস্তবায়ন ও আইটি) শাহনাজ পারভীন। এতে ডিসিসিআই ঊর্ধ্বতন সহ-সভাপতি ওয়াকার আহমেদ চৌধুরী সমাপনী বক্তব্য দেন।

মোশাররফ হোসেন ভূঁইয়া বলেন, নতুন ভ্যাট আইন বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে ব্যবসায়ীরা কর কর্মকর্তাদের দ্বারা কোনো ধরনের হয়রানির শিকার হবেন না। তবে নতুন এই আইনের বিষয়ে ব্যবসায়ীদের সচেতন হতে হবে। পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে সচেতন করার প্রয়োজন আছে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, কর্মকর্তারা জানান ইসিআর মেশিন নষ্ট। আর ব্যবসায়ীরা জানান তাদের কাছ থেকে কর্মকর্তারা করের বাইরে জোর করে টাকা নেন। এসব বন্ধ করতে এবার ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন করা হবে। যারা মেশিন নষ্ট করবে তাদের দায়ী করা হবে। ব্যবসায়ী ও কর্মকর্তাদের জবাব দিতে হবে। মেশিন নষ্ট করা যাবে না, নষ্ট করলে নিজের পয়সায় আবার সেটা লাগিয়ে দিতে হবে। অনলাইনে ভ্যাট আদায়ে ইলেকট্রনিক ফিসক্যাল ডিভাইস (ইএফডি) চালু করতে একটু সময় লাগবে জানিয়ে তিনি বলেন, এনবিআর ইএফডি ক্রয় করছে। ক্রয় প্রক্রিয়া শেষ হতে সময় লাগবে। আবার ব্যবসায়ীর সংখ্যাও একটু বেশি। তাই বলে ভ্যাট আদায় বন্ধ থাকবে না। ভ্যাট আদায় করতেই হবে।

এনবিআর চেয়ারম্যান বলেন, গত অর্থবছরে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হওয়ায় খুব সমালোচনা হচ্ছে। রাজস্ব তো গলায় পাড়া দিয়ে আদায় করা যায় না। রাজস্ব আদায়ে সবার সহযোগিতা দরকার। ভ্যাট আইন বাস্তবায়ন নিয়ে তিনি বলেন, বিশে^র সব দেশে ভ্যাটের একটি হার থাকে। দেশের ব্যবসায়ীদের সুবিধার জন্য ভ্যাটের ভিন্ন ভিন্ন হার করা হয়েছে। এই কাঠামো নিয়ে বিতর্কের কোনো অবকাশ নেই। উন্নত দেশে এর চেয়ে অনেক বেশি ভ্যাট ও ট্যাক্স দিতে হয়। তাই এখন ফাঁকি দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যাদের জন্য ভ্যাট প্রযোজ্য তাদের সবাইকে ভ্যাটের আওতায় আনা হবে।

ডিসিসিআইর সভাপতি বলেন, নতুন আইনের সুফল বাস্তবায়নে অংশীজন, ব্যবসায়ীরা কর ও ভ্যাট দিতে চান। কিন্তু ভ্যাট ও কর দেওয়ার ক্ষেত্রে হয়রানিমুক্ত পরিবেশের নিশ্চয়তা দিতে হবে। তিনি বলেন, উৎপাদিত পণ্যের কাঁচামাল আমদানির ওপর অগ্রিম কর অব্যাহতি, ১৫ শতাংশের মতো ১০, ৭.৫, ৭ ও ৫ শতাংশ ভ্যাট দেওয়ার ক্ষেত্রে ভ্যাট রিবেট দেওয়া প্রয়োজন। এ ছাড়া জীবন রক্ষাকারী ওষুধ ভ্যাটের আওতামুক্ত রাখার দাবি জানান। এ সুবিধা না দেওয়া হলে নিত্যপণ্যের মূল্য বাড়বে।

ভ্যাট দিতে ব্যবসায়ীরা হয়রানির শিকার হলে এনবিআরের নজরে আনার আহ্বান জানান সংস্থার সদস্য শাহনাজ পারভীন। তিনি বলেন, নতুন ভ্যাট আইনটি ব্যবসায় ব্যয় কমানোর বিষয়টিকে বিবেচনায় রেখে করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভ্যাট ফেরত পদ্ধতি, ই-পেমেন্ট এবং অডিট ব্যবস্থা অনলাইনের আওতায় নিয়ে আসতে কাজ চলছে। 

কর্মশালায় এনবিআর ভ্যাট অনলাইন প্রকল্পের উপ-পরিচালক জাকির হোসেন নতুন ভ্যাট আইনের বিভিন্ন দিক সম্পর্কে প্রশিক্ষণার্থীদের ধারণা দেন। এতে বিভিন্ন ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রায় ১৫০ প্রতিনিধি অংশ নেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত