গুঁড়োদুধও পরীক্ষা করা প্রয়োজন : হাইকোর্ট

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০১:০২ এএম

হাইকোর্ট বলেছে, শুধু পাস্তুরিত তরল দুধ নয়, গুঁড়োদুধও পরীক্ষা করা দরকার। পাশাপাশি বিদেশি গুঁড়োদুধ যেন আমাদের দেশের বাজার দখল করতে না পারে, সেদিকেও নজর দিতে হবে বলে মনে করে আদালত। ১০টি কোম্পানির পাস্তুরিত দুধে অ্যান্টিবায়োটিক ও সিসা পাওয়ার পর

এ বিষয়ে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ কী পদক্ষেপ নিয়েছে এমন প্রতিবেদনের ওপর শুনানিকালে গতকাল সোমবার বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি কে এম হাফিজুল আলমের হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব অভিমত দেয়। আদালতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী ফরিদুল ইসলাম ফরিদ। বিএসটিআইয়ের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী সরকার এম আর হাসান মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক।

নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষের আইনজীবী আদালতকে জানান, যে ১০ কোম্পানির দুধে ক্ষতিকর উপাদান পাওয়া গেছে সেই সব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে মামলা করা হয়েছে। এ ছাড়া বিএসটিআই অনুমোদিত ১৫টি দুধের কোম্পানিকে সতর্কীকরণ চিঠি দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত কয়েক দিনে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে অভিযান চালিয়ে ১৭ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

শুনানিকালে হাইকোর্ট বলে, ‘পাস্তুরিত দুধের উৎপাদন বন্ধ আমাদের লক্ষ্য নয়। আমাদের লক্ষ্য নিরাপদ দুধ। দুধ যেন নিরাপদ হয়। আর বিদেশি গুঁড়োদুধ যেন আমাদের দেশের বাজার দখল করতে না পারে, সেদিকেও নজর রাখতে হবে। পাশাপাশি দুধ উৎপাদনে যে আন্তর্জাতিক মানদ- তা বজায় রাখতে হবে।’

আদালত বলে, ‘আমরা এখন শুধুই তরল দুধ নিয়ে ব্যস্ত। কিন্তু গুঁড়োদুধে কী আছে তা-ও আমাদের পরীক্ষা করে দেখতে হবে। আমরা চাই না দেশীয় দুধ বন্ধ হওয়ার কারণে বিদেশি গুঁড়োদুধে বাজার সয়লাব হয়ে যাক।’

গুঁড়োদুধের পরীক্ষার বিষয়ে সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিএসটিআইয়ের আইনজীবীর উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, ‘এটা দেখার দায়িত্ব তো আপনাদেরও। আদালতের কেন এ বিষয়ে আদেশ দিতে হবে? আপনারা তো চাইলেই এটা পরীক্ষা করতে পারেন।’

জবাবে বিএসটিআইয়ের আইনজীবী বলেন, ‘আমরা পরীক্ষা করতে গেলে সরকার ও ব্যবসায়ীরা প্রশ্ন তুলতে পারে। যদি হাইকোর্ট আদেশ দেয় তাহলে প্রশ্ন ওঠার কোনো সুযোগ থাকবে না।’ শুনানি নিয়ে হাইকোর্ট আগামী ২০ অক্টোবর পরবর্তী শুনানি ও আদেশের জন্য দিন ধার্য রাখেন।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত