ফেরির বিলম্ব তদন্তে ৩ কমিটি

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০১:০৮ এএম

যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ির অপেক্ষায় ফেরি ছাড়তে তিন ঘণ্টা দেরি হওয়ায় অ্যাম্বুলেন্সে থাকা এক স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ঘটনায় নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব শাহনওয়াজ দিলরুবা খানের নেতৃত্বে গঠিত এই কমিটিতে সদস্য হিসেবে আছেন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব শাহ হাবিবুর রহমান হাকিম। তদন্ত কমিটিকে আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল সোমবার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। আবদুস সবুর মণ্ডলকে কোনো কোনো সংবাদমাধ্যমে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব বলা হলেও তা সঠিক নয় বলে জানানো হয়েছে মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে। এদিকে মাদারীপুর জেলা প্রশাসন এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি) আলাদা দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

আবদুস সবুর মণ্ডল সরকারের অ্যাকসেস টু ইনফরমেশন (এটুআই) প্রকল্পে দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব। তিনি নীলফামারী জেলা মহিলা লীগের সভাপতি ও সংরক্ষিত নারী আসনের এমপি রাবেয়া আলিমের জামাতা।

গত বৃহস্পতিবার সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত নড়াইলের কালিয়া পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির ছাত্র তিতাসকে

একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকায় নিয়ে যাচ্ছিলেন তার স্বজনরা। সেদিন রাত ৮টায় অ্যাম্বুলেন্সটি যখন মাদারীপুরের কাঁঠালবাড়ি ১ নম্বর ফেরিঘাটে পৌঁছায় তখন ‘কুমিল্লা’ নামে একটি ফেরি ওই ঘাটেই ছিল। কিন্তু সরকারের এটুআই প্রকল্পে দায়িত্বরত যুগ্ম সচিব আবদুস সবুর মণ্ডলের গাড়ি যাবেÑ এই নির্দেশনায় ফেরিটি ছাড়তে দেরি করে ঘাট কর্র্তৃপক্ষ। প্রায় তিন ঘণ্টা দেরির পর রাত ১১টার দিকে যুগ্ম সচিবের গাড়ি ঘাটে পৌঁছালে ফেরিটি রওনা হয়। কিন্তু মাঝনদীতে অ্যাম্বুলেন্সেই মৃত্যু হয় ১১ বছর বয়সী তিতাসের।

পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, তারা পুলিশ, সংশ্লিষ্টদের ফেরি ছাড়ার অনুরোধ করলেও কাজ হয়নি। এমনকি সরকারি জরুরি সেবার ফোন নম্বর ৯৯৯-এ ফোন করা হলেও ফেরি ছাড়া হয়নি। তিতাসের মামা বিজয় ঘোষ বলেন, ‘আমার বোন ফেরির লোকদের পায়ে ধরে মাটিতে পড়ে কেঁদেছে। তবু ওরা ফেরি ছাড়েনি। উল্টো বলেছে ফেরি ছাড়লে নাকি তাদের চাকরি থাকবে না। তারা বলেছে ভিআইপি আসবে। আর আমাদের রোগী যে মরে যাচ্ছে, সেদিকে তাদের কোনো নজর নেই।’

তিন কমিটি : স্কুলছাত্রের মৃত্যুর ব্যাপক সমালোচনার মুখে এ ঘটনায় পৃথক তদন্ত কমিটি করল মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো। মাদারীপুরের জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে গঠিত চার সদস্যের তদন্ত কমিটির আহ্বায়ক অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট শহীদুল হক পাটোয়ারী। কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। বিআইডব্লিউটিসির গঠিত দুই সদস্যের তদন্ত কমিটির নেতৃত্বে আছেন সংস্থাটির জেনারেল ম্যানেজার আশিকুজ্জামান। অপর সদস্য হলেন সংস্থাটির ডিজিএম (মেরিন) ফজলুল হক।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত