৭ বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার

কারাগারে সিলেটের ডিআইজি প্রিজনস পার্থ গোপাল

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০১:১১ এএম

চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারে অনিয়ম-দুর্নীতে জড়িত থাকার অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) মামলায় কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজনস) পার্থ গোপাল বণিককে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। গতকাল সোমবার ঢাকার জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশ এ আদেশ দেন। এর আগে দুপুরে পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে মামলাটি করে  দুদক। গত রবিবার বিকেলে তার রাজধানীর গ্রিন রোডের বাসা থেকে নগদ ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।

পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছেÑ জানতে চাইলে আইজি প্রিজনস ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মোস্তফা কামাল পাশা গতকাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ঘুষ-দুর্নীতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার পরই পার্থ গোপাল বণিকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এরই মধ্যে আরেকটি ঘটনা আমরা জানতে পেরেছি, তবে দাপ্তরিকভাবে এখনো কোনো কাগজপত্র পাইনি। নথিপত্র পেলেই তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

এদিকে দুদকের উপপরিচালক (জনসংযোগ) প্রণব কুমার ভট্টাচার্য বলেন, কারা অধিদপ্তরের ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিক সরকারি চাকরিরত থেকে অর্পিত ক্ষমতার অপব্যবহার করে অবৈধ উপায়ে ঘুষ গ্রহণ করেন। তিনি জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৮০ লাখ টাকা আয় করেন এবং অবৈধ পন্থায় অর্জিত অর্থের অবস্থান গোপন করে পাচারের উদ্দেশ্যে নিজের বাসায় রাখেন। কলাবাগান থানাধীন তার গ্রিন রোডের বাসার ক্যাবিনেটে ওই টাকা লুকিয়ে রাখেন তিনি। রবিবার টাকা উদ্ধারের পর সোমবার পার্থ গোপালের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১৬১ ধারাসহ ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫ (২) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২-এর ৪ (২) ধারায় মামলা করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. সালাউদ্দীন। দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় (সজেকা) ঢাকায় এ মামলাটি করা হয়েছে।

গত রবিবার বাসা থেকে টাকা উদ্ধারের পর সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারের ডিআইজি পার্থ গোপালকে আটক করা হয়। তার একটি প্রাইভেটকারও জব্দ করেছে দুদক। গতকাল দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে পার্থ গোপালকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি গাজী শাহআলম, সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান খান রচি ও আবদুর রহমান হাওলাদার তার জামিনের আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মোশারফ হোসেন কাজল জামিনের বিরোধিতা করেন। পরে আদালত পার্থকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। এরপর তাকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে নেওয়া হয়।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, গত বছরের ২৬ অক্টোবর চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার সোহেল রানা বিশ্বাসকে ময়মনসিংহে গ্রামের বাড়িতে যাওয়ার পথে রেলগাড়ি থেকে ৪৪ লাখ ৪৩ হাজার টাকা, ২ কোটি ৫০ লাখ টাকার এফডিআরের কাগজপত্র, ১ কোটি ৩০ লাখ টাকার চেক ও ১২ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার করে রেলওয়ে পুলিশ। পরে অনুসন্ধানে চট্টগ্রাম কারাগারের তৎকালীন ডিআইজি পার্থসহ ৪৯ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর দুর্নীতির তথ্য পায় তদন্ত কমিটি। কমিটির প্রধান ছিলেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মনিরুল আলম। এরপর কারাগারটির দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বিষয়ে অনুসন্ধানে নামে দুদক। এর অংশ হিসেবে তাদের সম্পদের হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়। গত রবিবার দুদকের জিজ্ঞাসাবাদে বাসায় টাকা গচ্ছিত রাখার কথা স্বীকার করেন পার্থ। পরে দুদক টিম তার বাসা থেকে ৮০ লাখ টাকা উদ্ধার করে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত