২৫ হাজার রোহিঙ্গার নতুন তালিকা দিল ঢাকা

আপডেট : ৩০ জুলাই ২০১৯, ০১:১২ এএম

প্রত্যাবাসনের জন্য ৬ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা নতুন করে মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছে বাংলাদেশ। গতকাল সোমবার ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন মেঘনায়  বাংলাদেশ সফররত মিয়ানমার প্রতিনিধিদলের কাছে এক বৈঠকে এ তালিকা হস্তান্তর করা হয়।

বৈঠক শেষে ভারপ্রাপ্ত পররাষ্ট্র সচিব কামরুল আহসান এ তথ্য জানান। মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ের নেতৃত্বে দ্বিপক্ষীয় এই বৈঠকে বাংলাদেশের নেতৃত্ব দেন তিনি।

কামরুল আহসান বলেন, বৈঠকে আমরা নতুন করে ৬ হাজার পরিবারের ২৫ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা মিয়ানমারের কাছে হস্তান্তর করেছি। এখন এ তালিকা যাচাই-বাছাই করবেন তারা। তিনি জানান, আগে দুই দফায় ৩০ হাজার রোহিঙ্গার তালিকা দেওয়া হয়েছিল। তার মধ্যে ৮ হাজারের ভেরিফিকেশন হয়ে গেছে। কামরুল আহসান বলেন, রোহিঙ্গাদের মধ্যে আস্থার সংকট    

রয়েছে। তাদের মধ্যে আস্থা তৈরি করতে হবে। মিয়ানমারের প্রতিনিধিরা রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তাদের কয়েকটি দাবি রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছেÑ নাগরিকত্ব, চলাচলের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক কার্যক্রম করার স্বাধীনতা এবং যে জায়গা থেকে তাদের উচ্ছেদ করা হয়েছে, তা ফেরত দেওয়া। সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রত্যাবাসন শুরু হবে কি না জানতে চাইলে সচিব বলেন, যদি অবস্থা ভালো হয় তবে তারা  ফেরত যেতে পারে। 

মিয়ানমারের পররাষ্ট্র সচিব মিন্ট থোয়ে সাংবাদিকদের বলেন, আমরা কক্সবাজারে গিয়ে রোহিঙ্গাদের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের রাখাইনে ফিরে যাওয়ার জন্য আমরা আস্থা তৈরি করতে  চেয়েছি। রোহিঙ্গাদের ফিরে যাওয়ার জন্য এখনই উপযুক্ত সময়।

গত শনিবার মিয়ানমারের এই প্রতিনিধিদল ঢাকায় আসে। ঢাকা এসেই কক্সবাজারে যায় তারা। রোহিঙ্গারা যেন রাখাইনে ফেরত যায়, সেটা বোঝানোই মিয়ানমারের প্রতিনিধিদলের প্রধান উদ্দেশ্য।

মিয়ানমারের রাখাইনে সেনাবাহিনীর দমন অভিযান শুরুর পর ২০১৭ সালের আগস্ট থেকে সাত লাখের বেশি রোহিঙ্গা পালিয়ে এসে বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। তার আগে গত কয়েক দশকে এসেছে আরও চার লাখ রোহিঙ্গা। আন্তর্জাতিক চাপের মধ্যে মিয়ানমার সরকার রোহিঙ্গাদের ফিরিয়ে নিতে চুক্তি করার পর ২০১৮ সালের নভেম্বরে প্রত্যাবাসন শুরুর প্রস্তুতি নিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু মিয়ানমারের পরিস্থিতি নিয়ে রোহিঙ্গাদের মনে আস্থা না ফেরায় এবং তারা ফিরে যেতে রাজি না হওয়ায় সেই পরিকল্পনা অনির্দিষ্টকালের জন্য ঝুলে যায়। মিন্ট থোয়ে অবশ্য দাবি করেছেন, ২০১৮ সালের ২৩ জানুয়ারি থেকেই তারা প্রত্যাবাসন শুরু করতে প্রস্তুত ছিলেন।  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত