দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (হাবিপ্রবি) শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান কমিটির মেয়াদ ৯ বছর আগেই শেষ। মেয়াদ শেষ করা কমিটির বেশির ভাগ নেতা হারিয়েছেন ছাত্রত্ব। ক্যাম্পাসে নেই তাদের কোনো কার্যক্রম। এমনকি ক্যাম্পাসে কোনো নেতার উপস্থিতিও দেখা যায় না। দু’একজন নেতা একাডেমিক কাজে ক্যাম্পাসে আসলেও খুব বেশি সময় অবস্থান করেন না।
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা গেছে, ২০১০ সালের ৮ অক্টোবর তৎকালীন (২০০৬-২০১১) কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি মাহমুদ হাসান রিপন ও সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুল হায়দার চৌধুরী রোটন হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রলীগের কমিটি অনুমোদন দেয়। এতে ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্স অনুষদের শিক্ষার্থী ইফতেখারুল ইসলাম রিয়েলকে সভাপতি এবং কৃষি অনুষদের শিক্ষার্থী অরুণ কান্তি রায় সিটনকে সাধারণ সম্পাদক করে ৬ সদস্যের একটি কমিটি দেয়া হয়।
এক বছর মেয়াদি এই কমিটি অতিক্রম করেছে ৯ বছর। বিগত (২০১৫-১৮) ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এসএম জাকির হোসাইনের কাছে কমিটির জন্য পদপ্রত্যাশী নেতারা বায়োডাটা জমা দেয় এবং নতুন কমিটির জন্য জোর লবিং চালিয়েও শেষ পর্যন্ত ব্যর্থ হয়েছেন বলে জানা যায়।
সাবেক কমিটির অনুপস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগ কয়েকটি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে গেছে। দীর্ঘ ৯ বছর ধরে নতুন করে কোন কমিটি না পাওয়ায় ক্ষোভ আর হতাশায় মনোবলও হারিয়ে ফেলছেন এসব নেতাকর্মীরা। ভেঙে পড়েছে সিনিয়র-জুনিয়র মধ্যকার চেইন অব কমান্ড। এতে করে আরও বিভক্তির আশঙ্কা বেড়েছে।
শেখ রাসেল হল শাখা ছাত্রলীগের কার্যকরী সদস্য মো. রিয়াদ খান বলেন, ‘দীর্ঘদিন বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের কমিটি না থাকায় সিনিয়র-জুনিয়র নেতৃত্বে ফাটল ধরতে শুরু করেছে এবং সাংগঠনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা চলে আসছে। ফলে অনুপ্রবেশকারীরা এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্যাম্পাসকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা এবং সাংগঠনিক কাজে গতিশীলতা আনতে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের প্রয়োজন বলে মনে করছি।’
শেখ রাসেল সম্প্রসারণ হল শাখা ছাত্রলীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ধনেশ চন্দ্র পাল বলেন, ‘দীর্ঘ ৯ বছর ধরে এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি নেই। পূর্বের কমিটির অনেকেই সংসার জীবন শুরু করেছে, চাকরি করছে।’
হাবিপ্রবি শাখা ছাত্রলীগের বিগত কমিটির সাধারণ সম্পাদক অরুণ কান্তি রায় সিটন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমি চাই হাবিপ্রবিতে ছাত্রলীগের কমিটি হোক। আমরা অনেক আগেই বের হয়ে এসেছি। ছাত্রলীগের যারা ত্যাগী নেতা, সাধারণ ছাত্রদের যেকোনো সমস্যা সমাধানে যারা কাজ করবেন তারাই যেন নতুন নেতৃত্বে আসে এমনটাই আশা করেন তিনি।
কমিটির বিষয়ে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সভাপতি রেজওয়ানুল হক চৌধুরী শোভন দেশ রূপান্তরকে বলেন, আমরা চেয়েছিলাম আগস্টের মধ্যেই কমিটি দিতে কিন্তু আগস্ট মাসে কমিটি হয় না। সে জন্য এই বছরের সেপ্টেম্বরে হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের কমিটি গঠন করা হবে বলে জানান এই কেন্দ্রীয় নেতা।
