স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিবের স্ত্রীসহ তিনজনের মৃত্যু

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০১৯, ০৩:৩৮ এএম

এক দিনে ডেঙ্গু আক্রান্তের আরেকটি সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে গতকাল মঙ্গলবার। এক দিনে সারা দেশে মোট আক্রান্ত হয়েছেন ১ হাজার ৩৩৫ জন, যা গত সোমবারের তুলনায় ১৬৯ জন বেশি। এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত দেশে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়াল ১৫ হাজার ৩৬৯ জন। এর মধ্যে এখনো বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন ৪ হাজার ৪০৮ জন।

গতকাল ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব ডা. নুরুল আমিনের স্ত্রী ফারজানা হোসেন (৪৩)। গত সোমবার রাত আড়াইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের আইসিইউতে তার মৃত্যু হয়। এছাড়া মঙ্গলবার ঢাকায় এই রোগে আক্রান্ত আরও দুই রোগীর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত বেসরকারি হিসাবে ৩৪ জন। তবে সরকারি হিসাবে এ সংখ্যা আটজন।

ফারজানার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করে ঢামেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. নাসিরউদ্দিন জানান, সোমবার রাত আড়াইটার দিকে আইসিইউতে মারা যান ফারজানা হোসেন। ওইদিনই তিনি হাসপাতালে ভর্তি হন। তিনি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের হেলথ ইকোনমিক্স ইউনিটের উপপরিচালক (উপসচিব) ড. নুরুল আমিনের স্ত্রী। রাজধানীর নিউ ইস্কাটন এলাকায় থাকতেন। ফারজানার বাবার নাম মৃত আবুল হোসেন। বাড়ি নারায়ণগঞ্জ সিদ্ধিরগঞ্জের সানারপাড় এলাকায়।

গতকাল লিটন হাওলাদার (২৫) নামে এক প্রাইভেটকারচালকও মারা গেছেন ঢামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায়। লিটনকে ২৭ জুলাই রাত ১০টার দিকে ঢাকা মেডিকেলের মেডিসিন বিভাগের ৬০১ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল সকাল সোয়া ১০টায় তার মৃত্যু হয়। তিনি পটুয়াখালী বাউফল উপজেলার কনকদিয়া গ্রামের মৃত মজিদ হাওলাদারের ছেলে। ওয়ারীর টিকাটুলী ১/১ নম্বর কে এম দাস লেনে থাকতেন তিনি।

ঢাকার শ্যামলীর ঢাকা ট্রমা সেন্টার অ্যান্ড স্পেশালাইজড হসপিটালে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে রূপা আক্তার (২৭) নামে আরেক নারীর মৃত্যু হয়েছে। রূপা টাঙ্গাইল সদর উপজেলার ঘারিন্দা ইউনিয়নের উত্তর তারটিয়া গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা আবদুল কাদের খানের মেয়ে। তিনি স্বামী পুলিশ কনস্টেবল মো. দুলাল হোসেনের সঙ্গে রাজারবাগে থাকতেন।

এ নিয়ে গতকাল পর্যন্ত ঢামেকে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়াল ১০ জন। মারা যাওয়া অন্যরা হলেনÑ রাবেয়া (৫০), ফাতেমা (৪৩), নাসিমা (৩৩), হাফিজা (৬১), রাজু (২০), ফরহাদ (৪৪), রিতা (২৮) ও উপেন্দ্র (৬৫)।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের তথ্য অনুযায়ী, গতকাল ঢাকার বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ভর্তি হয়েছেন ৯৭৪ জন। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভর্তি হয়েছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ২২১ জন। এই হাসপাতালে বর্তমানে চিকিৎসাধীন ৬৭৯ জন। এরপর মিটফোর্ড হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১০৫ এবং মোট চিকিৎসাধীন ২৯৯, ঢাকা শিশু হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৪৮ এবং চিকিৎসাধীন ১২১, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৬১ এবং চিকিৎসাধীন ২৬৬, হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৪২ এবং চিকিৎসাধীন ২১৬, বারডেম হাসপাতালে নতুন ভর্তি ১৭ এবং চিকিৎসাধীন ৫২, বিএসএমএমইউতে নতুন ভর্তি ২৬ এবং চিকিৎসাধীন ৯৬, পুলিশ হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৩৩ এবং চিকিৎসাধীন ১৩২, মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৬৩ এবং চিকিৎসাধীন ২৫৩, বিজিবি হাসপাতালে নতুন ভর্তি দুজন এবং চিকিৎসাধীন ৩০, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে নতুন ভর্তি ৯০ এবং মোট চিকিৎসাধীন ২৪৭ জন।

ঢাকা শহরের বাইরে ঢাকা বিভাগের জেলাগুলোতেই সবচেয়ে বেশিসংখ্যক ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। গত ২৪ ঘণ্টায় এসব জেলার হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হয়েছেন ১০৪ জন, তাদের নিয়ে চিকিৎসাধীনের সংখ্যা ১৯১ জন।

এরপর খুলনা বিভাগে নতুন রোগী ৫৬ এবং চিকিৎসাধীন ১৫১, রাজশাহী বিভাগে নতুন ৫৬ জন এবং চিকিৎসাধীন ১৯৮, চট্টগ্রাম বিভাগে নতুন ৫৫ জন এবং চিকিৎসাধীন ১০৪, সিলেট বিভাগে নতুন ৫৫ জন এবং চিকিৎসাধীন ৭০, রংপুর বিভাগে নতুন রোগী ২০ এবং চিকিৎসাধীন ৮৩, ময়মনসিংহ বিভাগে নতুন রোগী ৯ এবং চিকিৎসাধীন ২৫, বরিশাল বিভাগে নতুন শনাক্ত ৬ এবং হাসপাতালে ভর্তি ২৫ জন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত