এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়র ব্যর্থ হয়েছেন বলে অভিযোগ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেছেন, অবশ্যই এই ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে।
বুধবার দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে ‘ডেঙ্গু রোগ, বর্তমান প্রেক্ষাপট ও আমাদের করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
মোশাররফ বলেন, বিনা কারণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা লন্ডনে অবস্থান করছেন। গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধানমন্ত্রী হলে বন্যা, ডেঙ্গু জ্বরের মতো দুর্যোগের এই সময়ে তিনি বিদেশে থাকতে পারতেন না।
তিনি বলেন, ‘আমরা অতীতে দেখেছি বেগম খালেদা জিয়া বাংলাদেশের কোন দুর্যোগের সময়ে সরকারি সফরে বিদেশে থাকলেও তিনি সফর সংক্ষিপ্ত করে দেশে ফিরে এসেছেন। অথচ আজকে প্রধানমন্ত্রী দেশে নেই, স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও দেশে নেই’।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়রের পদত্যাগ দাবিতে বিএনপির মহাসচিবের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে মোশাররফ বলেন, আমাদের মহাসচিব তাদের পদত্যাগ দাবি করেছেন। কারণ তারা ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। এই বক্তব্যের প্রেক্ষিতে আওয়ামী লীগের নেতারা বললেন ব্যর্থতা যাদের ঘাড়ে তাদের পদত্যাগ চাওয়া মানায় না। আমাদের সময় আমরা সতর্ক ছিলাম বলেই এই ধরনের ডেঙ্গুর বিস্তার বেশি ছিল না। সেই সার্থকতাটা নিয়েই আমরা বলছি স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়র ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ করতে। অবশ্যই এই ব্যর্থতার দায়দায়িত্ব তাদেরকে নিতে হবে’।
তিনি বলেন,' যদি একটি গণতান্ত্রিক দেশ হতো জনগণের প্রতিনিধিত্বশীল সরকার থাকত। তাহলে এরই মধ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এবং দুই মেয়রের পদত্যাগ করার কথা ছিল। আজকে স্বাস্থ্যমন্ত্রী কোথায়? আমি শুনতে পেরেছি তিনি দেশের বাইরে।
দেশে গুজব নয়, গজব নেমেছে বলে মন্তব্য করে মোশাররফ বলেন, শিশু ধর্ষণ, বন্যা পরিস্থিতি, গণপিটুনিতে মানুষ হত্যা করা, নারী হত্যা করা, ডেঙ্গু কোনোটাই গুজব না। এগুলো আসলে গজব। সরকার তার ব্যর্থতা আড়াল করে ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য গুজব বলে চালিয়ে যাচ্ছে।
আলোচনা সভা শেষে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে ড্যাব নেতারা জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে ডেঙ্গু সচেতনতামূলক একটি শোভাযাত্রা বের করেন। আয়োজক সংগঠনের সভাপতি অধ্যাপক ড. হারুন হাল রশিদেরর সভাপতিত্ব আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন, বিএনপির ভাইস-চেয়ারম্যান শওকত মাহমুদ, সহ-প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ শামিমুর রহমান শামিম, সহ-তথ্য বিষয়ক সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী, ড্যাব নেতা ডা. দিদারুল ইসলাম, ডা. নিলুফার ইয়াসমিন, ডা. একেএম কবির রিয়াজ প্রমুখ।
