যশোরের মনিরামপুরে সরকারের ‘জমি আছে ঘর নেই’ প্রকল্প নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। ১ থেকে ১০ শতক জমি আছে এমন দরিদ্র ব্যক্তিদের সরকারি খরচে ঘর নির্মাণ করে দেওয়ার নিয়ম থাকলেও দরিদ্রদের বঞ্চিত করে ঘর নির্মাণ করে দেওয়া হচ্ছে বিত্তশালীদের।
সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফা এ প্রকল্পের ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকার ঘর পাওয়ায় এলাকায় শুরু হয়েছে ব্যাপক তোলপাড়।
গোলাম মোস্তফার বাড়ি উপজেলার সোহরাব মোড়ের পাশে কদমবাড়িয়া গ্রামে। তার বসতভিটাতেই রয়েছে ৯৮ শতক জমি। ওই জমিতে আধা পাকা একটি বাড়ি ও বড় পুকুর রয়েছে। চারপাশে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির গাছপালা। যার বর্তমান মূল্য অন্তত কোটি টাকা।
গোলাম মোস্তফার বড় ছেলে আনোয়ার হোসেন নিজের জমিতে পাকা দোকান তৈরি করছেন। মেজো ছেলে মঈনুদ্দীনের রয়েছে মোটর গ্যারেজ। ছোট ছেলে জয়নাল আবেদীন ঢাকায় একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করেন।
অথচ এই গ্রামে নুর ইসলাম, লুৎফর রহমান, আবদুল হকসহ অসংখ্য হতদরিদ্র অসহায় মানুষের বসবাস থাকলেও সাবেক ইউপি সদস্য গোলাম মোস্তফার নামে ঘর নির্মাণের জন্য সরকারিভাবে বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। এরই মধ্যে তিনি ওই টাকা দিয়ে ঘর নির্মাণ শুরু করেছেন।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস জানায়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে মনিরামপুর উপজেলায় হতদরিদ্র ২২ জনের জন্য ২২টি ঘর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণের জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৮ হাজার টাকা। যার মধ্যে একটি ঘর পাচ্ছেন গোলাম মোস্তফা। ঘর নির্মাণের দেখভালের দায়িত্বে রয়েছে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস। সরেজমিনে কথা হয় গোলাম মোস্তফার সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘৯৮ শতক জমির মধ্যে ভাইপোদের ৮ শতক জমি দান করেছি। বাকি ৯০ শতক আমার দখলে। একটা ইটের ঘর করেছিলাম আগে। সেটা এখন ছেলেদের দিয়ে দিয়েছি। এখন আমার কোনো ঘর নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘ছয় বছর আগে কাঁঠালগাছ থেকে পড়ে কোমরে আঘাত পেয়েছিলাম। এখন হুইলচেয়ার ছাড়া চলতে পারি না।’ অবশ্য এরই মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য ৫০ হাজার টাকা অনুদান পান তিনি। এ ছাড়া তার বয়স্ক ভাতার কার্ডও আছে।
গোলাম মোস্তফার ভাইপো বর্তমান ইউপি সদস্য তায়জুল ইসলাম মিলন বলেন, তার চাচার বসতবাড়িতে রয়েছে সাড়ে ৯৮ শতক জমি। সেখানে ইটের তৈরি একটি ঘরও আছে। নীতিমালা অনুযায়ী তিনি সরকারি ঘর পাওয়ার যোগ্য নন। ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি মুকুল হোসেন বলেন, ‘কদমবাড়িয়া গ্রামে নুর ইসলাম, আবদুল হক, লুৎফর রহমানসহ অনেকেই আছেন যাদের চার থেকে পাঁচ শতক করে জমি আছে কিন্তু থাকার কোনো ঘর নেই। মোস্তফা মেম্বারের মতো ধনাঢ্য ব্যক্তি যদি ঘর পায় তাহলে প্রকৃত হতদরিদ্ররা পাবে না কেন?’ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবদুল্লাহ বায়েজিদ বলেন, গোলাম মোস্তফা প্রতিবন্ধী। তার কোনো ঘর নেই। তাই তাকে ঘর দেওয়া হয়েছে।’
