সৌদি আরবের নারীরা এখন থেকে পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই বিদেশে যেতে পারবেন। গতকাল শুক্রবার রাজকীয় এক আদেশে এই অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিবিসি।
রাজকীয় আদেশে বলা হয়, পুরুষ অভিভাবকের অনুমতি ছাড়াই একুশোর্ধ্ব নারীরা পাসপোর্টের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে দেশটিতে এখনো নারীদের জন্য অভিভাবকত্ব আইন প্রচলিত রয়েছে। এই আইন অনুযায়ী নারীদের ঘরের বাইরে বের হওয়াসহ অন্য কাজের আগে অভিভাবকের অনুমতির দরকার পড়ে।
দেশটির নারীদের গাড়ি চালানোর অনুমতিসহ কর্মক্ষেত্রে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সৌদি সরকার পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। কিন্তু তারপরও দেশটিতে নারীদের জন্য বড় বড় কয়েকটি নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। সেখানে পুরুষ অভিভাবকত্ব ব্যবস্থা প্রচলিত থাকায় নারীদের পড়াশোনা বা অন্য কোনো কাজের জন্য বাবা, স্বামী বা ভাইয়ের অনুমতির দরকার পড়ে।
তবে গতকাল ঘোষণা করা নতুন আদেশে বলা হয়, প্রাপ্তবয়স্ক সব ব্যক্তিই এখন থেকে পাসপোর্টের জন্য আবেদন করার এবং ভ্রমণ করার স্বাধীনতা পাবে। রাজকীয় ফরমানে নারীদের সন্তানের জন্মনিবন্ধন করার সুযোগ এবং বিয়ে করা বা বিয়ে বিচ্ছেদের অধিকার দেওয়া হয়েছে।
অর্থনৈতিক নির্ভরশীলতা কমাতে সৌদি যুবরাজ ২০১৭ সালে এক সংস্কার পরিকল্পনার ঘোষণা করেন। যেখানে ২০৩০ সালের মধ্যে সৌদি আরবের অর্থনীতি পরিবর্তনের প্রত্যাশা তুলে ধরা হয়। এ সময়ের মধ্যে সৌদি আরবের শ্রমবাজারে নারীদের অংশগ্রহণের হার ২২ থেকে ৩০%-এ উন্নীত করার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। সংস্কার প্রক্রিয়ার আওতায় গত বছর সৌদি নারীদের গাড়ি চালানোর ক্ষেত্রে রাষ্ট্রীয় বাধা দূর হয়।
বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার অভিযোগ, পুরুষের অভিভাবকত্ব সংক্রান্ত বিধানের কারণে সৌদি নারীরা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিকের জীবনযাপনে বাধ্য হয়। এখনো বড় কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হলে নারীদের পুরুষের অনুমতি নিতে হয়।
