মুদ্রানীতি নিয়ে এফবিসিসিআই

বেসরকারি বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:০২ এএম

ঘোষিত মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতের ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য আগের চেয়ে কমানোর কারণে বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশের ব্যবসায়ী ও শিল্পপতিদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, এই মুদ্রানীতি বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ সংকুচিত করবে। এতে বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হবে।

চলতি অর্থবছরের মুদ্রানীতিতে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ। আগের অর্থবছর এটি ছিল ১৬ দশমিক ৫ শতাংশ।

গতকাল শনিবার মুদ্রানীতি নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে এফবিসিসিআই এক বিজ্ঞপ্তিতে বলেছে, সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্য বাড়িয়ে ২৪ দশমিক ৩ শতাংশ ধরা হয়েছে, যা গত বছর ছিল ১০ দশমিক ৯ শতাংশ।

এফবিসিসিআইয়ের মতে, উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনে ব্যাপক বিনিয়োগ প্রয়োজন। সহজলভ্য ঋণপ্রবাহ ছাড়া কাক্সিক্ষত বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন সম্ভব নয়।

সরকার ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বাড়তি ঋণ নিলে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ চাপের মুখে পড়তে পারে। এফবিসিসিআই বলেছে, এবারের মুদ্রানীতিতে বাংলাদেশ ব্যাংক সরকারি খাতে ঋণপ্রবাহ বাড়িয়ে ধরেছে। এতে উৎপাদনশীল খাত, বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে গত অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণপ্রবাহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হয়নি উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, তারপরও বিনিয়োগের স্বার্থে এ খাতে ঋণপ্রবাহের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য কমানো সঙ্গত নয়।

মুদ্রানীতি যথাযথভাবে বাস্তবায়নে পর্যবেক্ষণে জোর দেওয়ার তাগিদ দিয়েছে এফবিসিসিআই। পাশাপাশি সুদের হার কমাতেও অনুরোধ করেছে সংগঠনটি। বলেছে, জাতীয় উচ্চ প্রবৃদ্ধিকে আরও গতিশীল করার স্বার্থে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সব ব্যাংকে এক অঙ্কের (সিঙ্গেল ডিজিট) সুদহার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। এখনো প্রায় সব বাণিজ্যিক ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান সুদের হার এক অঙ্কের ওপরে রেখেছে।

ব্যাংকিং খাতে নন-পারফর্মিং লোন বা খেলাপি ঋণের বিষয়টি একটি সংবেদনশীল ও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উল্লেখ করে বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে এ দুর্বিষহ বোঝা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে বাধা হিসেবে কাজ করছে। ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে আরও দক্ষ ও বিনিয়োগবান্ধব করতে খেলাপি ঋণ কমানোর প্রচেষ্টা আরও বাড়াতে হবে।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত