‘আমি ওসবে ভয় পাই না’

তিন মাস নিষিদ্ধ মেসি

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪৬ এএম

কোপা আমেরিকা শেষের পরই ধারণা করা গিয়েছিল বড় ধরনের শাস্তির মুখে পড়ছেন লিওনেল মেসি। সেই শাস্তির ঘোষণা এলো টুর্নামেন্ট শেষের মাস খানেক পর। আর্জেন্টিনার হয়ে সব ধরনের ফুটবল

থেকে তিন মাসের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে মেসিকে। মহাদেশটির ফুটবল নিয়ন্ত্রণ কর্র্তৃপক্ষ কনমেবলের বিরুদ্ধে সরাসরি দুর্নীতির অভিযোগ তোলায় এই শাস্তি পেতে হলো আর্জেন্টিনার অধিনায়ককে। এছাড়া ৫০ হাজার ইউএস ডলার জরিমানাও করা হয়েছে মেসিকে। অবশ্য সাত দিনের মধ্যে শাস্তি মওকুফের আবেদন করার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

দুটি আচরণবিধি ভঙ্গের দায়ে দু’রকম শাস্তি পেতে হলো মেসিকে। প্রথমটি টুর্নামেন্টের সেমিফাইনালে ব্রাজিল ম্যাচে মন্তব্য করার জন্য। ম্যাচে আর্জেন্টিনার দুটি পেনাল্টির আবেদন নাকচ হওয়ায় মেসি বলেছিলেনÑ ব্রাজিলকে চ্যাম্পিয়ন করার জন্য কনমেবল সব সাজিয়ে রেখেছে। পরের ম্যাচ তৃতীয় স্থান নির্ধারণীতে চিলির বিপক্ষে আবারও কনমেবলকে উদ্দেশ্য করে বিরূপ মন্তব্য করে বসেন মেসি। চিলির অধিনায়ক গ্যারি মেদেলের সঙ্গে ধাক্কাধাক্কির জন্য লাল কার্ড দেখেন মেসি। ক্যারিয়ারে মাত্র দ্বিতীয়বারের মতো শাস্তিস্বরূপ মাঠ ত্যাগ করতে হয় পাঁচবারের বর্সসেরা তারকাকে। তেমন কিছু না করেও লাল কার্ড দেখায় বেজায় ক্ষিপ্ত ছিলেন মেসি। ‘দুর্নীতিগ্রস্ত রেফারিরা সমর্থকদের ফুটবল উপভোগ করতে দিচ্ছে না। ওরা খেলাটি ধ্বংস করছে’ বলেছিলেন মেসি। এজন্য অর্থ জরিমানা করা হয় তাকে। অথচ মেদেলের সঙ্গে বিত-ার সেই ঘটনার রিপ্লেতে দেখা যায় মেসির দোষ ছিল কম-ই। কনমেবলের ওপর বিরক্ত হয়ে মেসি তৃতীয় হয়েও পুরস্কার বিতরণী বয়কট করেন। জানান, ‘আর্জেন্টিনার এই দুর্নীতিতে না যাওয়াই ভালো।’

শনিবার বিবৃতিতে মেসির শাস্তি ও জরিমানার ব্যাপারে জানায় কনমেবল। তাতে স্পষ্টভাবে শাস্তির কারণ উল্লেখ করা হয়নি। তবে বলা হয়েছে সংগঠনটির আইনকানুনের ৭.১ ও ৭.২ ধারায় যা বলা আছে মেসির দোষগুলো অনেকটা সেসব ভাঙার মতো। এই শাস্তির ফলে আর্জেন্টিনার হয়ে মোট চার ম্যাচে থাকছেন না মেসি। নভেম্বরে জাতীয় দলে ফিরতে পারবেন মেসি। চিলির বিপক্ষে ওই লাল কার্ড দেখায় এমনিতেই প্রতিযোগিতামূলক লড়াই থেকে এক ম্যাচ নিষিদ্ধ হয়ে আছেন মেসি। সামনের মার্চে ২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের প্রথম ম্যাচটি খেলতে পারবেন না তিনি। এর সঙ্গে যুক্ত হলো আরও চার ম্যাচ। সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে চিলি ও মেক্সিকোর বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচে থাকছেন না। পরে অক্টোবরে জার্মানির সঙ্গে অ্যাওয়ে ও আরও একটি প্রীতি ম্যাচও মিস করবেন যার বিপক্ষ এখনো নিশ্চিত হয়নি। তবে যদি শাস্তি কমে যায় তবে এই ম্যাচগুলোতে ফিরতেও পারেন।

শাস্তির খবর জানার পর এখনো মেসি বা আর্জেন্টিনা ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য আসেনি। মেসি বা তার পক্ষ হয়ে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন শাস্তির বিরুদ্ধে আপিল করবে কি না সেটাও জানা যায়নি। টুর্নামেন্ট চলাকালেই মেসিকে কঠিন শাস্তির খড়গ আসার ব্যাপারে প্রশ্ন করা হয়েছিল। সে সব নিয়ে আর্জেন্টিনা অধিনায়ক জানান, ‘সত্যটা সবাইকে জানানো উচিত। আমি ওসবে ভয় পাই না।’ এসবের পর অবশ্য কনমেবলের কাছে ক্ষমা চেয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন মেসি। কিন্তু বোঝাই যাচ্ছে মেসির রাগ কমার পর পাওয়া চিঠি পেয়েও মন গলেনি কনমেবলের। 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত