এডিস বন্ধ্যা করে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষায় সাফল্য

আপডেট : ০৪ আগস্ট ২০১৯, ০২:৩১ এএম

ডেঙ্গু বিস্তারকারী এডিস মশা নিয়ন্ত্রণের একটি কার্যকরী পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশনের বিজ্ঞানীরা। এডিস মশার বংশ বিস্তার রোধে স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক (এসআইটি) নামের একটি পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন তারা। এই পদ্ধতিতে পুরুষ এডিস মশাকে গামা রশ্মি প্রয়োগের মাধ্যমে বন্ধ্যা করা হয়। পরে বন্ধ্যা পুরুষ মশাগুলো ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব রয়েছে এমন এলাকায় অবমুক্ত করা হয়। সেগুলো প্রকৃতিতে বিদ্যমান স্ত্রী এডিস মশার সঙ্গে মিলিত হয়। এই বন্ধ্যা মশার সঙ্গে মিলনের পরে স্ত্রী এডিস মশা যে ডিম পাড়ে তা নিষিক্ত হয় না। ফলে নতুন মশার জন্ম হয় না।

কমিশনের সাভারের পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠানের খাদ্য ও বিকিরণ জীববিজ্ঞান ইনস্টিটিউটের কীট-জীব প্রযুক্তি বিভাগের বিজ্ঞানীরা জানান, ডেঙ্গু নিরসনে এসআইটি পদ্ধতির প্রায়োগিক বিষয়ে গবেষণা কার্যক্রম ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে এটি অত্যন্ত কার্যকর এবং আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত পদ্ধতি।

তাদের দাবি, এটি একটি পরিবেশবান্ধব পদ্ধতি হওয়ায় এর কোনো বিরূপ প্রভাব নেই। তারা জানান, এই পদ্ধতিতে শুধু বন্ধ্যা পুরুষ মশাই প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা হবে। যেহেতু পুরুষ মশা ডেঙ্গুর জীবাণু বহনে অক্ষম এবং মানুষকে কামড়ায় না, তাই এর মাধ্যমে ডেঙ্গুর বিস্তার ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই। পদ্ধতিটি মাঠপর্যায়ে

ছড়িয়ে দেওয়া হলে দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ভূমিকা রাখতে সক্ষম বলেও দাবি করেন তারা।

এদিকে, পদ্ধতিটির বিভিন্ন কারিগরি দিক ও গবেষণাগার সরেজমিনে পরিদর্শন করে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান। তিনি এই পদ্ধতিটি দ্রুত মাঠপর্যায়ে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। গতকাল শনিবার দুপুরে সাভারের গণকবাড়ী এলাকায় অবস্থিত পরমাণু শক্তি গবেষণা প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনকালে এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাসও দেন।

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে বিশ্বের অনেক দেশেই নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। অস্ট্রেলিয়া, শ্রীলঙ্কা, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত, ভিয়েতনাম, মেক্সিকোসহ আরও কয়েকটি দেশ উবাকিয়া নামের একটি ব্যাকটেরিয়ার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধে সফল হয়েছে। এডিস মশার কোষে এই ব্যাকটেরিয়া ঢুকিয়ে দেখা গেছে যে এর মাধ্যমে চিকুনগুনিয়া, ডেঙ্গু, জিকা ও ইয়েলো ফিভারের মতো চারটি ভাইরাসজনিত রোগের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। এই পদ্ধতিতে উবাকিয়া ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো মশা প্রকৃতিতে ছেড়ে দেওয়া হয়। ওই সব মশার শরীর থেকে পরবর্তী প্রজন্মেও যায় এই ব্যাকটেরিয়া। আর যে মশার শরীরে উবাকিয়া আছে তারা কোনো রোগের ভাইসার ছড়াতে পারে না।

আরেকটি পদ্ধতিতে এডিস মশার কোষে জিন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে এমন কিছু জেনেটিক পরিবর্তন ঘটানো হয় যার ফলে এর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম বেঁচে থাকতে পারে না। এ ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয় পুরুষ মশা। জিএম পুরুষ মশাগুলোর সঙ্গে মিলনের পরে স্ত্রী মশাগুলো যে ডিম দেয় তা নিষিক্ত হয় না। ফলে মশার প্রজনন এক প্রকার থমকে যায়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত