টেক্সাসে হামলাকারী ক্রাইস্টচার্চের ব্রেন্টনের অনুসারী

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ০১:৫৭ এএম

যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ওয়ালমার্টে গত শনিবার সকালে বন্দুকধারীর গুলিতে ২০ জন নিহত হওয়ার ঘটনায় শ্বেতাঙ্গ এক যুবককে আটক করেছে টেক্সাস পুলিশ। হামলার আগে প্যাট্রিক ক্রুসিয়াস নামের ওই যুবক অনলাইনে একটি ইশতেহার প্রকাশ করেছিলেন। ওই ইশতেহার পর্যালোচনা করে ধারণা করা হচ্ছে, নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চের মসজিদে হামলাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের অনুসারী তিনি। নিউ ইয়র্ক টাইমসের অনলাইন প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থার (এফবিআই) তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী এল পাসোর হত্যাকাণ্ড ক্রাইস্টচার্চ গণহত্যা থেকে অনুপ্রাণিত। হামলার মাত্র ১৯ মিনিট আগে ক্রুসিয়াস অনলাইনে অভিবাসন বিরোধী বিদ্বেষমূলক একটি ইশতেহার প্রকাশ করে।

ইশতেহারে টেক্সাসে স্প্যানিশ ভাষাভাষী ল্যাতিন আমেরিকার যেসব অভিবাসী যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করে তাদের ওপর আক্রমণের কথা বলা হয়েছে। ইশতেহারের মাধ্যমে শঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে যে, বিদেশিদের কারণে শ্বেতাঙ্গরা অবদমিত হচ্ছে দিনের পর দিন।

তবে তদন্ত কর্র্তৃপক্ষ ২ হাজার ৩০০ শব্দের ওই ইশতেহার যাচাই করে দেখতে চাইছে যে, মেক্সিকো সীমান্ত লাগোয়া টেক্সাসের এল পাসোর ওয়ালমার্টের শপিংমলে বন্দুক হামলা চালিয়ে ২০ জনকে হত্যা এবং ২৪ জনকে আহতের জন্য দায়ি ব্যক্তির লেখা কিনা।

গ্রেপ্তার হওয়া ২১ বছর বয়সী হামলাকারী অ্যালেনের বাসিন্দা প্যাট্রিক ক্রুসিয়াসকে এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তার বাড়ি থেকে এল পাসোতে অবস্থিত ওই শপিংমলের দূরত্ব ১০ ঘণ্টারও বেশি। ঠিক কী কারণে এতদূর থেকে এসে জনবহুল ওই শপিংমলে তিনি হামলা করেছেন তা অনুসন্ধান করছেন তদন্ত কর্মকর্তারা।

ক্রুসিয়াসের ইশতেহারে অভিবাসীদের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য হামলা এবং বিদ্রƒপ করে বলা হয়, ‘আমরা যদি অভিবাসীদের থেকে মুক্ত হতে পারি তাহলে আমাদের জীবন হবে আরও সুন্দর এবং টেকসই।’

স্বাক্ষরবিহীন ওই ইশতেহারে শিরোনাম দেওয়া হয়েছে ‘দ্য ইনকনভেনিয়েন্ট ট্রুথ’ বা ঝামেলাপূর্ণ সত্য। যার মাধ্যমে গত মার্চে নিউজিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে দুটি মসজিদে হামলা করে ৫১ জনকে হত্যাকারী ব্রেন্টন ট্যারান্টের হুবহু মিল পাওয়া যায়।

ক্রাইস্টচার্চে হামলাকারী বেন্টন ট্যারান্ট মসজিদে হামলার আগে যে ইশতেহার প্রকাশ করেন তার শিরোনাম ছিল ‘দ্য গ্রেট রিপ্লেসমেন্ট’। এই হামলাকারী দুজনেই ব্যবহার করেছেন স্বয়ংক্রিয় রাইফেল। এছাড়া তারা দুজনই শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদ প্রতিষ্ঠার ব্যাপারে চরম উগ্রপন্থি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত