রপ্তানিতে নগদ সহায়তা পাবে নতুন ৫ পণ্য

আপডেট : ০৫ আগস্ট ২০১৯, ১০:৩৭ পিএম

এত দিন ধরে যেসব পণ্য রপ্তানির বিপরীতে যে হারে নগদ সহায়তা মিলেছে, তা বহাল রেখে নতুন অনেক পণ্যে চলতি অর্থবছর থেকেই প্রণোদনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। তবে রপ্তানি না করেই কেউ যাতে শুধু কাগজ দেখিয়ে নগদ সহায়তার অর্থ তুলে নিতে পারে না পারে, সে জন্য নতুন অন্তর্ভুক্ত করা পণ্য রপ্তানির আগে শতভাগ যাচাই করে কাস্টমস থেকে নিশ্চিত করার পর সহায়তার অর্থ দেওয়া হবে।

গতকাল অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ সংক্রান্ত এক বৈঠকে এসব সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে সাংবাদিকদের জানান অর্থ সচিব আবদুর রউফ তালুকদার। তিনি বলেন, রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা বিষয়ে এ সপ্তাহেই বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে সার্কুলার জারি করা হবে।

সচিব জানান, এত দিন ওষুধ খাতের সার্জিক্যাল আইটেমসহ কিছু অ্যাপ্লায়েন্স নগদ সহায়তা পেত না। এবার তাদের সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। ওষুধ খাতের মতো এসব পণ্য রপ্তানিতেও ১০ শতাংশ হারে নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। হালকা প্রকৌশল পণ্যে ১০ শতাংশ হারে প্রণোদনা রয়েছে। ওয়ালটন বলেছে যে তারা হোম অ্যাপ্লায়েন্স রপ্তানি করে। আমরা বলেছি, কারা কী পরিমাণ রপ্তানি করল শুল্ক বিভাগ থেকে তা রপ্তানির আগেই শতভাগ যাচাই করে আমাদের জানানোর পর সহায়তা দেওয়া হবে। কারণ, অতীতে আমরা দেখেছি, অনেকে পণ্য রপ্তানি করে কি না, তার ঠিক নেই। শুধু রপ্তানি করার কাগজ দেখিয়ে ব্যাংক থেকে নগদ সহায়তা নিয়ে যাচ্ছে। এটি বন্ধ করার জন্যই শতভাগ পণ্য যাচাই করার কথা বলেছি। তবে পোশাক কারখানার নগদ সহায়তার ক্ষেত্রে যাচাই-বাছাই করার বাধ্যবাধকতা নেই।

তিনি বলেন, পাটকাঠি রপ্তানির বিপরীতে আগে থেকেই নগদ সহায়তা আছে। পাটকাঠি দিয়ে তৈরি পার্টিকেল বোর্ড রপ্তানির বিপরীতে এবার নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এ ছাড়া পোশাক কারখানার ঝুট কাপড় দিয়ে তৈরি সুতা রপ্তানির বিপরীতেও এ সুবিধা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। তবে যেকোনো পণ্যে নগদ সহায়তা পেতে হলে দেশে কমপক্ষে ৩০ শতাংশ মূল্য সংযোজন করতে হবে।

চলতি অর্থবছরের বাজেটেই তৈরি পোশাক শিল্পের যেসব রপ্তানিকারক কোনো নগদ সহায়তা পান না, তাদের জন্য ১ শতাংশ প্রণোদনা দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন অর্থমন্ত্রী। এ বিষয়ে সচিব বলেন, বর্তমানে পোশাক পণ্য রপ্তানির বিপরীতে চার ধরনের নগদ সহায়তা আছে। নতুন পণ্য ও নতুন বাজারে এসব নগদ সহায়তা দেওয়া হয়। কিন্তু কিছু রপ্তানিকারক রয়েছেন, যারা ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি করেন। বিদ্যমান চার ধরনের প্রণোদনার কোনোটিই পান না। তাদের চলতি অর্থবছর ১ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হবে। এ জন্য অতিরিক্ত ২ হাজার ৮০০ কোটি টাকা অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে। রপ্তানি বাড়লে এ খাতে আরও অর্থের দরকার হবে। প্রতি বছর রপ্তানির বিপরীতে নগদ সহায়তা হিসেবে সরকারকে তিন হাজার থেকে সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা ব্যয় করতে হয়। আরও কিছু রাসায়নিক পণ্য নগদ সহায়তা চেয়ে আবেদন করেছে। বিষয়টি আরও পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

চলতি অর্থবছর ২৪টি খাত নগদ সহায়তার বিদ্যমান হার বাড়ানোর প্রস্তাব পাঠিয়েছে জানিয়ে সচিব বলেন, আমরা কোনো খাতেই নগদ সহায়তার হার বাড়াইনি। তবে কমানোও হয়নি। অর্থাৎ বিভিন্ন খাতে বিদায়ী অর্থবছর যে হারে প্রণোদনা দেওয়া হয়েছে, চলতি অর্থবছরও একই হারে দেওয়া হবে।

সরকারের তহবিল থেকে রপ্তানিকারকদের নগদ সহায়তা দেওয়ায় অর্থনীতিতে কতটা প্রভাব পড়ছে, সে বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের কোনো গবেষণা আছে কি না, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে অর্থ সচিব বলেন, রপ্তানি বাড়লে কর্মসংস্থান বাড়ে। এটাই রাষ্ট্রের লাভ। এ জন্যই আমরা কোনো ট্রেডারদের সুবিধা দিই না। কারণ, তারা কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে না। তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য একটাই, ৮ দশমিক ২ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জন করা। এটা অর্জন হলেই বুঝতে পারব, কোন খাতে কতটা অগ্রগতি হয়েছে। এ বিষয়ে অবশ্যই গবেষণা আছে। মূলধনী যন্ত্রপাতি আমদানিও বাড়ছে। তাতে অবশ্যই কর্মসংস্থান হচ্ছে।

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে নগদ সহায়তা বিষয়ে জানতে চাইলে অর্থ সচিব বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক একটি খসড়া নীতিমালা তৈরি করে পাঠিয়েছে। তাতে বছরে ১ হাজার ৫০০ ডলার পর্যন্ত যারা পাঠাবেন, তাদের বিনা প্রশ্নে নগদ সহায়তা দেওয়ার কথা বলা আছে। আর যারা ১ হাজার ৫০০ ডলারের বেশি পাঠাবেন, তাদের সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে কিছু কাগজপত্র যাচাই-বাছাই করে দেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত