খুলনা রেলওয়ে থানার ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে থানাহাজতে দলবেঁধে ধর্ষণ ও মাদক মামলায় ফাঁসানোর অভিযোগ করেছেন এক নারী। আদালতে হাজির করা হলে তিনি বিচারকের কাছে এ অভিযোগ করেন। আদালতের নির্দেশে গতকাল সোমবার দুপুরে খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে তার ডাক্তারি পরীক্ষা করা হয়েছে। ৩০ বছর বয়সী ওই নারী তিন সন্তানের মা।
ওই নারী খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি ওসমান গনি পাঠান, এসআই গৌতম কুমার পাল, এসআই নাজমুল হাসান, কনস্টেবল মিজান ও হারুনের বিরুদ্ধে ধর্ষণ ও মারপিটের অভিযোগ তুললেও ওসি অভিযোগ মিথ্যা বলে দাবি করেছেন। এদিকে ধর্ষণের অভিযোগ তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে রেলওয়ে পুলিশ।
ওই নারীর ভগ্নিপতি বলেন, ‘গত ২ আগস্ট শ্যালিকা যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসে। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খুলনা রেলস্টেশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশের সদস্যরা তাকে সন্দেহজনকভাবে ধরে নিয়ে যায়। রাতে ওসি ওসমান গনি পাঠান ও আরও ৪ জন পুলিশ সদস্য তাকে ধর্ষণ করে। পরদিন ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠায় বলে সে জানিয়েছে।’ তিনি জানান, খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারকের সামনে তার শ্যালিকা থানায় তাকে ধর্ষণের অভিযোগ করেন। এরপর বিচারক তার জবানবন্দি গ্রহণ করে ডাক্তারি পরীক্ষার নির্দেশ দেন। ঘটনা ধামাচাপা দিতে ওসি ওসমান গনি দেড় লাখ টাকা দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন অভিযোগ করে ওই নারীর বড় বোন বলেন, ‘সমঝোতায় রাজি না হওয়ায় ওসি হুমকি দিচ্ছেন।’
খুলনা রেলওয়ে থানার ওসি ওসমান গনি ধর্ষণের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘৫ বোতল ফেনসিডিলসহ আটকের মামলায়
ওই মহিলাকে আদালতে পাঠানো হয়। আদালতে গিয়ে সে ধর্ষণের অভিযোগ করেছে। থানায় রাতে তিনজন নারী পুলিশসহ ৮ জন পাহারায় থাকে। সেখানে ধর্ষণের কোনো সুযোগ নেই।’ মামলা থেকে রক্ষা পেতে ওই নারী এ অভিযোগ করেছে বলে দাবি করেন ওসি।
খুমেক হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা ডা. অঞ্জন কুমার চক্রবর্তী বলেন, ‘ফরেনসিক বিভাগের গাইনি চিকিৎসকরা ওই নারীর ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন। বিভিন্ন আলামত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে।’ প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ ব্যাপারে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া রেলওয়ে সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার ফিরোজ আহমেদ। সদস্যরা হলেন, একই সার্কেলের পরিদর্শক শ.ম. কামাল হোসেইন ও দর্শনা রেলওয়ে ইমিগ্রেশন ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. বাহারুল ইসলাম। গতকাল পাকশী রেলওয়ে জেলার পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে কমিটিকে ৭ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে।
