‘সময়ের সেরা জয়’

আপডেট : ০৭ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪১ এএম

এজবাস্টন টেস্টে ২৫১ রানে জিতেছে অস্ট্রেলিয়া। অথচ প্রথম দিনে ১২২ রানে ৮ উইকেট হারানোর পর কেউ ভাবতে পারেনি এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে পারবে সফরকারীরা। সব সম্ভব করেছেন স্টিভেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে ১৪৪ রানের অনবদ্য ইনিংস খেলে অস্ট্রেলিয়ার রান ২৮৪-তে নিয়ে গিয়েছিলেন। এরপর ৩৭৪ করে ইংল্যান্ড ৯০ রানের লিড নেয়। দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিং করতে নেমে আবার বিপর্যয়ে পড়ে অস্ট্রেলিয়া। ৭৫ রানে ৩ উইকেট হারানোর পর পরিত্রাতার ভূমিকায় সেই স্মিথ। ১৪২ রানের অবিশ্বাস্য ইনিংস খেলে দলকে শুধু বিপদমুক্তই করেননি, উপরন্তু ১১০ রান করা ম্যাথু ওয়েডকে নিয়ে ইংল্যান্ডের সামনে ৩৯৮ রানের অসম্ভব চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়েছেন। যে চ্যালেঞ্জের সামনে মাত্র ১৪৬ রানে মুখ থুবড়ে পড়ে স্বাগতিকরা।

২০০৫ সালের পর ইংল্যান্ডের মাটিতে প্রথম টেস্ট জিতে ১-০-তে এগিয়ে গেল অস্ট্রেলিয়া। এই সাফল্যের স্থপতি স্মিথের প্রশংসা সর্বত্র। কোচ জাস্টিন ল্যাঙ্গার বলেছেন, ‘আমি অ্যালান বোর্ডার, রিকি পন্টিংসহ অনেক বড় বড় ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছি। ওদের দেখে আমি বরাবরই অনুপ্রাণিত হয়েছি এবং ওদের মতোই হতে চেয়েছি। কিন্তু স্মিথের মতো কাউকে খেলতে দেখিনি। ৬০-এর ওপর গড় নিয়ে স্মিথ প্রতিনিয়ত যে চাপের সঙ্গে খেলে যাচ্ছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। শুধু দক্ষতা থাকলেই এমন খেলা সম্ভব নয়। ওর সাহসিকতা, ধৈর্য, মানসিকতার তুলনা কারোর সঙ্গে করা চলে না।’

প্রায় ১০ বছর ধরে স্মিথকে খুব কাছ থেকে দেখছেন ল্যাঙ্গার। শখের লেগ স্পিনার হিসেবে তার টেস্ট অভিষেক। এরপর বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান হয়ে ওঠাÑ সবকিছুর সাক্ষী তিনি। স্মিথের এই রূপান্তর সম্পর্কে ল্যাঙ্গার বলেন, ‘স্মিথ নেটে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যাট করে। নেটেও ওকে আউট করা সহজ হয় না। আমি এতদিন নেটে মার্ক রামপ্রকাশকেই সবচেয়ে বেশি বল খেলতে দেখেছিলাম। কিন্তু স্মিথ প্রায় ওর দ্বিগুণ সংখ্যক বল খেলে।’ স্মিথকে তিনি ‘মুশকিল আসান’ও বলেছেন। কিছুদিন আগে বিরাট কোহলিকে বিশ্বসেরা ব্যাটসম্যান বলেছিলেন ল্যাঙ্গার। তবে এখন তিনি স্মিথের জন্য মত বদলে ফেলতে প্রস্তুত, ‘গত মৌসুমে বিরাটকে আমার দেখা সেরা ব্যাটসম্যান বলেছিলাম। কিন্তু স্মিথের দুটি ইনিংস দেখার পর বলব সে অন্য স্তরের ক্রিকেটার।’

চলতি অ্যাশেজের প্রথম জয়কে অস্ট্রেলিয়ার পত্রপত্রিকাগুলো ‘মিরাকল’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। টেলিভিশন চ্যানেলগুলো বলেছে, ‘এ উইন ফর দ্য অ্যাজেস’ সময়ের সেরা জয়। নাথান লায়নের ৬ উইকেট প্রাপ্তির সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার জয়কে মিলিয়ে দি অস্ট্রেলিয়ান শিরোনাম করে লিখেছেÑ ‘লায়ন কিং রোরস ইন এপিক অ্যাশেজ ভিক্টরি’। পত্রিকাটির শেষ পাতায় আরেক লেখার শিরোনাম ‘দ্য মিরাকল অব বার্মিংহ্যাম’। সিডনি মর্নিং হেরাল্ডের প্রথম পৃষ্ঠাজুড়ে আছেন স্টিভেন স্মিথ। পত্রিকাটি জোড়া সেঞ্চুরি করা স্মিথকে বলেছে, ‘মডার্ন মাস্টার।’ দি এজ লিখেছে, ‘স্টিভেন স্মিথ ব্যাটস অ্যান্ড ব্যাটস অ্যান্ড ব্যাটস।’

অস্ট্রেলিয়ার জয়ে উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করেছেন শেন ওয়ার্ন, ‘এতদিন ইংল্যান্ড কিন্তু সেরকম গুরুত্ব দেয়নি অস্ট্রেলিয়াকে। এজবাস্টন টেস্টের পর আমাদের নিয়ে চিন্তায় থাকবে ওরা।’ স্মিথদের প্রশংসা করেছেন গ্লেন ম্যাকগ্রাও, ‘একটা সময় অস্ট্রেলিয়া ১২২ রানে ৮ উইকেট হারিয়েছিল। সেখান থেকে ওরা যদি দেড়শো রানে আউট হয়ে যেত, তাহলে ম্যাচ তখনই শেষ। সেখান থেকে বিশাল ব্যবধানে জেতা দারুণ ব্যাপার।’ ২৫১ রানে ম্যাচ জেতার পর অজি অধিনায়ক টিম পেইন বলেন, ‘অবাক হয়েছি, এটা বলব না। তবে মেনে নিচ্ছি, প্রথম দিন একটা সময় আমরা চাপের মধ্যে ছিলাম। কিন্তু তখন উইকেটে বিশ্বের সেরা ব্যাটসম্যান ছিল। আর দ্বিতীয় ইনিংসে আমরা ব্যাট-বল দুই বিভাগেই অসাধারণ করেছি।’ স্মিথের প্রশংসা করে পেইন বলেন, ‘ওর সম্পর্কে বলার আর কিছু অবশিষ্ট নেই। সম্ভবত আমাদের সেরা টেস্ট পারফরমার।

এদিকে অ্যাশেজ সিরিজের প্রথম টেস্ট হেরে যাওয়ার পর ইংলিশ অধিনায়ক জো রুট বলেছেন, ‘হতাশ তো বটেই, বিধ্বস্তও। আমরা খারাপ খেলিনি। কিন্তু অস্ট্রেলিয়া খুবই ভালো খেলেছে। তাদের কৃতিত্ব দিতেই হবে।’ স্মিথকে নিয়ে মন্তব্য, ‘দুরন্ত দুটি ইনিংস খেলেছে। ওকে আউট করার রাস্তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।’’’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত