সাবেক হিপহপ শিল্পী এখন কাবার অতিথি

আপডেট : ০৯ আগস্ট ২০১৯, ১২:২১ পিএম

মাত্র ২৩ বছর বয়সে অর্থ, খ্যাতি বা ক্ষমতা কিছুরই খামতি ছিল না। তার জন্য পাগল ছিল লাখ লাখ ভক্ত। বিক্রি হয়েছে ৪০ লাখের বেশি অ্যালবাম, জিতেছেন অসংখ্য পুরস্কার। ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করে সেই ঝলমলে জগৎ থেকে বিদায় নেন মেলানি জর্জিয়াদেস, যাকে ডিয়াম নামেই ডাকা হতো সংগীতাঙ্গনে।

এত সাফল্য সত্ত্বেও তিনি অনুভব করছিলেন অপূর্ণতা ও গভীর জটিলতা রয়েছে তার জীবনে। এর উত্তরে খুঁজতে গিয়ে দেখা পান নতুন আশা ও আনন্দের- গ্রহণ করেন ইসলাম। এইভাবে জানান তিনি।

 জর্জিয়াদেস বলেন, “অর্থ, সাফল্য, ক্ষমতা এই সব আমাকে সুখী করতে পারেনি। আমি খুব কষ্টে ছিলাম, ছিলাম একা। সুখ খুঁজছিলাম। কেন পৃথিবীতে এসেছি এই নিয়ে আমার সন্দেহ ছিল। আমি বুঝেছিলাম এটা ধনী বা বিখ্যাত হওয়া নয়। কারণ আমার এর সব-ই ছিল, যা আমাকে সুখী করতে পারেনি। তাই সব প্রশ্নের জবাব খোঁজা শুরু করলাম।”

তখন দুটি সফল বছর পার করেছেন জর্জিয়াদেস। জিতেছেন বেস্ট ফ্রেঞ্চ আর্টিস্ট বিভাগে এমটিভি ইউরোপিয়ান মিউজিক অ্যাওয়ার্ড ও তিন বিভাগে এনআরজে মিউজিক অ্যাওয়ার্ডস। এর পর ২০০৮ সালে মুসলমান বন্ধু সুসু’র সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে পাল্টে যায় জীবন।

এটা ছিল দৈব ঘটনার মতো। তখন জর্জিয়াদেস পুরোপুরি স্বীকার করে নেন খোদা আছে। যদিও একজন খ্রিষ্টান হিসেবে এই বিশ্বাস তার আগে থেকেই ছিল। কিন্তু ঠিক জানতেন না কেন তিনি অস্তিত্বশীল। নতুন পড়াশোনা তাকে অন্য হদিস দেয়।

সুসু একদিন পাশের কক্ষে গিয়ে বৈকালিক প্রার্থনা করছিল। হঠাৎ বন্ধুর সঙ্গে প্রার্থনার শামিল হওয়ার তাগিদ অনুভব করেন জর্জিয়াদেস। মুসলমানরা কীভাবে নামাজ পড়ে না জানা সত্ত্বেও সুসুকে অনুকরণ করেন তিনি। জীবনে প্রথমবার আল্লাহকে সেজদা করেন।

জর্জিয়াদেস বলেন, “যখন আমি তার সঙ্গে নামাজ পড়লাম ও নিজেকে সমর্পণ করলাম, অনুভব করলাম আল্লাহর সান্নিধ্যে এসেছি।”

এরপর মরিশাস ভ্রমণের সময় তিনি পবিত্র কোরআন পড়তে থাকেন। এখানে তার হৃদয় নতুন বিশ্বাসে পরিপূর্ণ হয়। ২০০৮ সালের ডিসেম্বরে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন জর্জিয়াদেস। পুরোপুরি সংগীত জগৎ থেকে আড়ালে চলে যান। ২০০৯ সালে ফ্রান্সের এক মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় এক চিত্রসাংবাদিক তার ছবি তুলে। তখন জর্জিয়াদেস হিজাব ও বোরকায় মোড়ানো ছিলেন।

সেই ছবি প্রকাশ হয় প্যারিস ম্যাচ ম্যাগাজিনে। যা ফরাসি সমাজে ঝড় তোলে। টাইট প্যান্ট ও ট্যাঙ্ক টপ পরা হিপহপ মিউজিক আইকনের এ কী হাল! একে পরাজয় ও পিছিয়ে যাওয়া বলে উল্লেখ করলেন ‘মুসলিম মৌলবাদের’ কড়া সমালোচক কানাডীয় সাংবাদিক জেমিলা বেনহাবিব। ওই সময় ফ্রান্সে জনসমাগমের স্থানে পর্দা নিষেধ করা নিয়ে বিতর্ক চলছিল। এর ফলে নিজেকে বিদ্বেষের বিষয় হিসেবে দেখলেন জর্জিয়াদেস।

২০০৯ সালের নভেম্বর তিনি ঠিক করলেন ভক্তদের নিজের অবস্থান বুঝিয়ে বলবেন। প্রকাশ করলেন সিঙ্গেল ‘চিলড্রেন অব দ্য ডেজার্ট’, যা তার শেষ অ্যালবাম ‘এসওএস’ থেকে নেওয়া। এই গানে ফরাসি সমাজের অসহিষ্ণুকে তুলে ধরে তিনি। জানান নিজের নতুন জীবনের কথা।

জর্জিয়াদেস জানান, ইসলাম গ্রহণের আগে তার জীবন দুঃখপূর্ণ ছিল। কারণ, তিনি বুঝতে পারেননি আল্লাহর সান্নিধ্যে যেতে হবে থাকে। এখন সবকিছু ঠিকঠাক চলছে। কিছু মন্দ ঘটলেও তিনি জানেন আল্লাহ তার কথা শুনছেন, তার প্রার্থনার জবাব দিচ্ছেন।

২০১৭ সালে জর্জিয়াদেস স্বামীর সঙ্গে সৌদি আরবে চলে আসেন। তার স্বামী সাবেক ফরাসি-তিউনিসীয় র‌্যাপার ফাউজি তারখানি। এখন তারা ফ্রান্সের ইসলামফোবিয়া ও বিদ্বেষ থেকে দূরে আছেন। স্বামী-স্ত্রী এবার মক্কায় হজ্ব পালন করতে এসেছেন। জর্জিয়াদেস জানায়, দ্বিতীয়বার হজ্বে এলেও মানসিকতা অনেক পরিবর্তন হয়েছে। আগেরবার ছিলেন নও মুসলিম, আর এখন তিনি অনেক কিছু জানেন।

আরব নিউজ অবলম্বনে

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত