মশার চীনা ওষুধ ছিটানো শুরু ঢাকা উত্তরে

আপডেট : ১০ আগস্ট ২০১৯, ০১:৪০ এএম

চীন থেকে আনা মশা মারার নতুন ওষুধের আনুষ্ঠানিক প্রয়োগ শুরু করেছে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি)। রাজধানীর মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে গতকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলামকে সঙ্গে নিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে এর প্রয়োগ শুরু করেন ডিএনসিসি মেয়র আতিকুল ইসলাম। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এরই মধ্যে ডিএনসিসির সব অঞ্চলে এটি পৌঁছেছে, খুব শিগগির সব ওয়ার্ডে এটি পৌঁছাবে।  পরে এলজিআরডিমন্ত্রী ও মেয়র টাউন হল বাজারের বিভিন্ন দোকান

এবং ওই এলাকার আবাসিক ভবন ও অলিগলি ঘুরে দেখেন। তারা আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরকে অলিগলির আবর্জনা পরিষ্কারের নির্দেশ দেন। এ সময় সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

পরিদর্শন শেষে এলজিআরডি মন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার সর্বাত্মকভাবে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় কাজ করছেন। আজ বন্ধের দিনেও আমরা এসেছি, আপনারা এসেছেন। সচিবালয়ে গেলে দেখবেন আমাদের মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সব কর্মকর্তা কাজ করছেন। এই ধারা স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের গ্রাম পর্যায়ের দপ্তরেও অব্যাহত আছে। দুই সিটি করপোরেশনকে আমরা নতুন করে ১ হাজার ৬০০ কর্মী দিয়েছি।’

ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে শিশুদের পাঠ্য বইতে সচেতনতামূলক অধ্যায় অন্তর্ভুক্তির তাগিদ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশেই দেখেছি শিশুদের পাঠ্য সিলেবাসে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়ে, স্বাস্থ্য সচেতনতার বিষয়ে, সংক্রামক রোগ যেমন ডেঙ্গু বা এডিস মশার বিষয়ে পড়ানো হয়। ডেঙ্গু বিষয়ে আমাদের বছরের ৩৬৫ দিন কাজ করতে হবে। আমাদের সবার দায়িত্ব আছে। সরকার তার সমস্ত শক্তি প্রয়োগ করলেও শহরের সব বাসা পরিষ্কার করতে পারবে না, কিন্তু প্রতিটি বাড়ির মালিক যদি মাত্র এক দিন স্ব-উদ্যোগে কাজ করেন, তা হলে এক দিনেই শহরের সব বাড়ি পরিষ্কার সম্ভব হবে।’

মেয়র বলেন, ‘আমাদের কীটনাশক সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পরীক্ষিত হয়ে এসেছে। আজ থেকে নতুন ওষুধ ছিটানো শুরু হলো। তবে আমরা যেমন ওষুধ ছিটাব, তেমনি সবাইকে সচেতন হতে হবে। আমরা যারা ঈদে বাড়ি যাচ্ছি সবাই খেয়াল রাখব আমাদের বাসার ভেতরে বালতি, বদনা, বাটি, পট, গাছ বা ফুলের টবÑ এগুলো যেন উল্টে দিয়ে যাই, যাতে এগুলোতে পানি জমতে না পারে। জানালার পর্দা যেন খুলে ভাঁজ করে যাই, পারলে অ্যারোসল ছিটিয়ে যাই, যাতে এসব স্থানে মশা বসবাস করতে না পারে। কমোডের ঢাকনা যেন নামিয়ে যাই, সম্ভব হলে কমোডে একটু বেশি করে ন্যাপথলিন দিয়ে যেতে পারেন।’

তিনি বলেন, ‘দ্রুত ও অধিক এলাকায় নাগরিক সেবা দিতে পিকআপ ট্রাক ও মোটরবাইকে ফগার মেশিন ও লার্ভিসাইড স্প্রেয়ার সংযোজন করা হয়েছে। আমরা অধিক লোকবল নিয়েছি, এলাকার জন্য কীটনাশকের বরাদ্দও বাড়ানো হয়েছে।’

বাইকের মাধ্যমে ওষুধ ছিটানোর প্রক্রিয়া দেখে সন্তোষ প্রকাশ করে মেয়র মশককর্মীদের আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করার নির্দেশ দেন। তিনি বলেন, ‘মশকনিধন কর্মীদের হেঁটে হেঁটে ওষুধ দিতে হয় বলে তাদের দীর্ঘদিনের অভিযোগ ছিল, এখন হেঁটে হেঁটে এবং গাড়ি করে দুভাবেই মশকনিধন হবে। একবার কীটনাশক দেওয়া শেষ হলে গাড়িতে রাখা অতিরিক্ত কীটনাশক থেকে আবার রিফিল করতে পারবে। এর ফলে ওয়ার্ড অফিসে এসে রিফিল করার ঝামেলা ও সময়ক্ষেপণ আর থাকবে না।’

মেয়র বলেন, ‘অপরিচ্ছন্নতার বিরুদ্ধে আমাদের সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। একটি সেøাগানÑ ‘জমা পানি ফেলে দিন, তিন দিনে এক দিন’ অর্থাৎ প্রতি তিন দিনে অন্তত একবার যাতে আমরা যেকোনো জমানো পানি ফেলে দিই। এডিস মশা নির্মূলের প্রধান উপায় প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। তাই কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবে না। ’

এ সময় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা আব্দুল হাই, সচিব রবীন্দ্রশ্রী বড়–য়া, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ডা. মোমিনুর রহমান মামুন, আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তা মীর নাহিদ আহসানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত