জম্মু থেকে ১৪৪ ধারা তুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে এনডিটিভি। টানা কয়েক দিন ধরে চলা কারফিউ প্রত্যাহারের নির্দেশ দেন জেলা প্রশাসক। কারফিউ প্রত্যাহারের ফলে আজ থেকেই জম্মুর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও স্কুল-কলেজ খুলে দেওয়া হচ্ছে।
জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল নির্দেশ দিয়েছেন যে জম্মুতে নিষেধাজ্ঞা শিথিলের পর আইনশৃঙ্খলা বজায় রাখার সঙ্গে সঙ্গে কোনো কাশ্মীরিকে যেন হেনস্তা
না করা হয় তা নজরে রাখার দায়িত্ব নিরাপত্তারক্ষীদের।
গত বৃহস্পতিবার নরেন্দ্র মোদির জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে ১৪৪ ধারা প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল। গত শুক্রবার প্রধানমন্ত্রী আশ্বাস দিয়েছেন যে কাশ্মীরিদের ঈদ পালনে সহায়তা করবে প্রশাসন। এ নিয়ে গতকাল দুপুরে বৈঠকে বসেন রাজ্যপাল সত্যপাল মালিক ও অজিত দোভাল। পরে রাজ্যপাল বলেন, উপত্যকায় ঈদ পালন হবে। খাদ্যদ্রব্য, ওষুধ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী সংগ্রহে যাতে সমস্যা না হয়, সে জন্য বিভিন্ন এলাকার ৩০০ জন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলতে ডেপুটি কমিশনারকে নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, সরকার দেখছে যাতে ঈদ পালনে কোনো অসুবিধা না হয়। যারা কাশ্মীরের বাইরে থাকেন এবং যারা ঈদে ঘরে ফিরতে চান তাদের ঘরে ফেরানোর দায়িত্ব সরকারের।
এরপরেই জম্মুর বড় অংশ থেকে ১৪৪ ধারা তুলে নেওয়া হয়। গতকালই প্রবাসী কাশ্মীরিদের সঙ্গে কথা বলার জন্য শ্রীনগরের ডেপুটি কমিশনার দপ্তরে দুটি হেল্প লাইন খোলা হয়। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে থাকা স্বজনদের সঙ্গে কথা বলতে আজ কয়েক শ লোকের লাইন পড়ে।
উপত্যকার একাংশের দাবিÑকাশ্মীরিদের মন নয়, জমি লুট করতেই ৩৭০ তুলে নিয়েছে কেন্দ্র। শ্রীনগরের একটি মসজিদের সামনে ঝুলছে হাতে লেখা পোস্টারÑ ‘ভারতীয়দের কাছে জমি বেচবেন না, সোমবার ঈদের নামাজের পরে মিছিলে যোগ দিন।
৩৭০ ধারা বাতিলের পর জম্মু-কাশ্মীরের বিভিন্ন স্থানে কারফিউ জারি করা হয়। ইন্টারনেট-মোবাইল সার্ভিস সব বন্ধ করে দেওয়া হয়। কয়েক দিন ধরে বন্ধ রয়েছে দোকানপাট-স্কুল-কলেজ-অফিস। কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে উপত্যকা।
