তথ্যপ্রযুক্তি যেভাবে গোয়েন্দাবৃত্তির প্রধান হাতিয়ার

আপডেট : ১১ আগস্ট ২০১৯, ০৭:০০ পিএম

তথ্যপ্রযুক্তির পরিবর্তন পৃথিবীর গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর জন্য বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ। তথ্যপ্রযুক্তিতে নিয়ন্ত্রণ ছাড়া গোয়েন্দাবৃত্তি একেবারেই অচল বলা যায়। এই ক্ষমতায় যে যত বেশি এগিয়ে থাকবে সে ততো বেশি অন্যের ওপর ছড়ি ঘোরাতে পারবে।

তথ্যপ্রযুক্তিতে যুক্তরাষ্ট্রই সবচেয়ে শক্তিশালী। ফলে গোয়েন্দাবৃত্তিতে নিত্য নতুন পরিবর্তনে তারা সচেষ্ট। চীনা কোম্পানি হুয়াওয়ে পশ্চিমা বাজার দখল করতে গেলেই তারা নড়েচড়ে বসে।

চীনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের অন্যতম ইস্যু হয়ে দাঁড়ায় হুয়াওয়ে। ওয়াশিংটনের দাবি, কোম্পানিটির ডিভাইস দিয়ে বেইজিং গুপ্তচরবৃত্তি করে।

গত বছরই চীনা প্রযুক্তি জায়ান্টটির সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ায় ওয়াশিংটন। সে বছরেই এক কনফারেন্সে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থার সাবেক ডিরেক্টর ড্যান কোটস বলেন, মার্কিন গোয়েন্দাবৃত্তির আধুনিকায়নে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে হবে। তথ্য প্রযুক্তিতে উদ্ভাবন এবং এর ব্যবহারের মাধ্যমেই সেটি করতে হবে।

শুধু যুক্তরাষ্ট্রই নয় পুরো পশ্চিমা শক্তি গোয়েন্দাবৃত্তিতে প্রাযুক্তিক ক্ষমতায়ন ঘটাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিকস, বিগ ডেটা, ইন্টারনেট, অনলাইন গেমের মাধ্যমে গুপ্তচরবৃত্তিতে শক্তি বাড়াচ্ছে দেশগুলো।

সামরিক ও প্রতিরক্ষা সেক্টর থেকে শুরু করে শিক্ষা, যোগাযোগ খাতসহ সবধরনের রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হানা দিতে ব্যবহার হচ্ছে অনলাইন প্রযুক্তি।

স্মার্টফোন থেকে শুরু করে সাধারণ যে কোনো ইলেকট্রিক ডিভাইসকে এখন নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে দেখা হয়। চীনের হুয়াওয়ের পণ্যের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ তোলে যুক্তরাষ্ট্র।

গোয়েন্দা সংস্থাগুলো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সংগ্রহ করতে সাধারণ মানুষের ব্যক্তিগত তথ্যেও হানা দিচ্ছে।

ট্রেডিশনাল গোয়েন্দাবৃত্তি এখন নতুন জগতে প্রবেশ করেছে এই তথ্যপ্রযুক্তির কারণে। সাইবার অ্যাটাক করেই বেসামরিক জায়গা থেকে সামরিক অবকাঠামোতে হানা দেওয়া যায় সহজে।

তথ্য প্রযুক্তির কারণে যে কাজটি সহজ হয়ে গেছে, মানুষের ব্যক্তিগত তথ্য এখন চাইলেই হাতের মুঠোয় নিয়ে আসা যায়।

এটাকে বলা হচ্ছে ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (ওএসআইএনটি)। এই ধারণার মধ্যে দিয়ে মানুষের মধ্যে গুপ্তচরবৃত্তি চালায় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

মার্কিন গোয়েন্দা বিভাগের সাবেক এই প্রধান বলছেন, ওএসআইএনটি-তে দ্রুত এবং কার্যকরী দক্ষতা অর্জনই এখন গোয়েন্দাবৃত্তিতে বড় চ্যালেঞ্জ।

প্রাযুক্তিক দক্ষতা বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ ছিল গোয়েন্দাবৃত্তিতে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ব্যবহার তথ্য প্রযুক্তিতে বৈপ্লবিক অগ্রগতির জন্ম দেয়। মানুষকে বিচার বিশ্লেষণের মাধ্যমে তার জায়গা দখল করে নেওয়ায় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই এখন বড় অস্ত্র গোয়েন্দাবৃত্তিতে।

গোয়েন্দাগিরিতে অনেক দিক দিয়ে মানুষের জায়গা করে নিচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা। মানুষের চেয়েও কম সময়ে নিখুঁত তথ্য বিশ্লেষণ দিতে পারছে এটি।

একজন মার্কিন গোয়েন্দা গবেষক ১৯৯৫ সালে অগ্রাধিকারের দিক দিয়ে কম গুরুত্বপূর্ণ কোনো দেশের জন্য দিনে ২০ হাজার শব্দের তথ্য সংগ্রহ করত।  ২০১৬ সালে সেটি উঠে আসে দুই লাখে।

ডিজিটাল ডেটাবেইস গড়ে তোলার কারণে এটি সম্ভব হয়েছে। ২০২৫ সালে এটি দশগুণ বৃদ্ধি পাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির কারণেই এটি সম্ভব হচ্ছে।

যার কাছে যত বেশি তথ্য সংগ্রহে আছে, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে সে তত এগিয়ে।  

তথ্য প্রযুক্তি নিয়ন্ত্রণে অনলাইন গেমকেও কাজে লাগিয়ে থাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। সাবেক সিআইএ কর্মকর্তা এডওয়ার্ড স্নোডেন এই তথ্য ফাঁস করেছিল।

মূলত তথ্য প্রযুক্তিই এখন গোয়েন্দাবৃত্তির হাতিয়ার। এখানে নিজেদের শক্তিমত্তা প্রকাশ করতে গোপন সাইবার অ্যাটাকের পথ বেছে নেয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো।

সরাসরি নিজেরা না করলেও অন্য সংস্থা দিয়ে এই কাজ করে থাকে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো। রাশিয়া এবং উত্তর কোরিয়ার বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ করে থাকে পশ্চিমা মিডিয়াগুলো। যদিও কেউ এসব অনলাইন হামলার দায় স্বীকারের ধারে কাছেও যায় না।     

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত