কিশোরগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে প্রথম ঈদ জামাত অনুষ্ঠিত হবে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায়। ইতিমধ্যে ঈদ জামাতকে কেন্দ্র করে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠে আগামীকাল ১৯২তম ঈদুল আজহার জামাতে ইমামতি করবেন মাওলানা হিফজুর রহমান খান।
আগামীকাল ভোরে ‘শোলাকিয়া ঈদ স্পেশাল’ নামে দুটি বিশেষ ট্রেনের একটি ভৈরব বাজার থেকে এবং অন্যটি ময়মনসিংহ থেকে কিশোরগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে আসবে।
উল্লেখ্য, ২০১৬ সালের জঙ্গি হামলার ঘটনার পর থেকেই প্রতি ঈদের জামাতে শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠের নিরাপত্তায় বিজিবি মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার দুপুরে শোলাকিয়া ঈদগাহের সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শন করে জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী জানান, প্রতিবারের মতো এবারো মাঠের নিরাপত্তায় র্যাব, বিজিবি ও পুলিশসহ বিপুল পরিমাণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। দূর-দূরান্তের মুসল্লিদের অংশগ্রহণের সুবিধার্থে প্রতিবারের মতো এবারও ঈদের দিন বাংলাদেশ রেলওয়ে দুটি বিশেষ ট্রেন পরিচালনা করবে।
জেলা পুলিশ সুপার মো. মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, শোলাকিয়া মাঠের বাইরে, মাঠের ভেতরে ও প্রবেশ পথে চার স্তরের নিরাপত্তা পরিকল্পনা নিয়েছি আমরা। সবখানেই সাদা পোশাকে পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থাকবেন যাতে কোনরূপ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।
বৃহস্পতিবার মাঠ পরিদর্শনে আরও উপস্থিত ছিলেন, কিশোরগঞ্জ পৌরসভার মেয়র মাহমুদ পারভেজ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. আবদুল্লাহ আল মাসউদ, কিশোরগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. নাজমুল ইসলাম, শোলাকিয়া ঈদগাহ মাঠ পরিচালনা কমিটির সদস্য সচিব, কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুল কাদির মিয়াসহ জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা।
জানা যায়, ১৮২৮ সালে নরসুন্দা নদীর তীরে প্রায় সাত একর জমিতে স্থানীয় সাহেববাড়ির সৈয়দ আহমদের (র.) ইমামতিতে ঈদের প্রথম জামাত অনুষ্ঠিত হয়। প্রায় সোয়া লাখ মুসল্লি ওই ঈদের জামাতে অংশ নিয়েছিল। আর সে কারণেই বর্তমানে এ মাঠের নামকরণ হয় ‘শোলাকিয়া’।
