বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে তিন কাহিনীচিত্র

আপডেট : ১৪ আগস্ট ২০১৯, ১০:৪৩ পিএম

আজ জাতীয় শোক দিবস। ১৯৭৫-এর ১৫ই আগস্ট এই দিনে সপরিবারে হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে। কিন্তু তিনি মরেও অমর। বাঙালি আজও তাকে শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করে। প্রতি বছরের ১৫ই আগস্ট বিশেষভাবে পালিত হয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না। জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে তিনটি বেসরকারি টিভি চ্যানেল বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে নির্মিত তিনটি নতুন কাহিনীচিত্র প্রচার করবে। এর মধ্যে দুটি কাহিনীচিত্র নির্মিত হয়েছে কবি, গীতিকার ও নাট্যকার সহিদ রাহমান রচিত সাড়া জাগানো গল্প ‘মহামানবের দেশে’ অবলম্বনে। এর মধ্যে ‘সেদিন শ্রাবণের মেঘ ছিল’ কাহিনীচিত্রটি এটিএন বাংলায় সন্ধ্যা ৬টায় প্রচার হবে। আর ‘পঁচাত্তরের ডায়েরি’ কাহিনীচিত্রটি চ্যানেল আইয়ে রাত ৭টা ৪৫ মিনিট প্রচার হবে। ‘সেদিন শ্রাবণের মেঘ ছিল’ কাহিনীচিত্রটি পরিচালনা করেছেন রাজিবুল ইসলাম রাজিব। অভিনয় করেছেন- আজাদ আবুল কালাম, রওনক হাসান, হিমি ও মিজানুর রহমান। এতে দেখা যাবে- বেতারে মেজর ডালিমের কণ্ঠে বঙ্গবন্ধুর পরিবারসহ হত্যার ঘটনা শুনে চমকে ওঠেন নোয়াখালীর এক গ্রামের স্কুল শিক্ষক। তিনি এর প্রতিবাদ করতে চান। তরুণ মুক্তিযোদ্ধা রুস্তম বঙ্গবন্ধুকে ভালোবেসে বাসর রাতে বউকে ছেড়ে আসেন স্কুল শিক্ষকের ডাকে। তারা গ্রামের পথে মিছিল বের করেন। স্থানীয় প্রশাসন তাদের রাষ্ট্রদ্রোহের অভিযোগে আটক করে। নির্মম শারীরিক নির্যাতনে নিহত হয় রুস্তম।

‘পঁচাত্তরের ডায়েরি’র পটভূমি ১৯৭৫ সালের ১৪ জুন বঙ্গবন্ধুর রাঙ্গামাটি জেলার বেতবুনিয়া ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্র উদ্বোধন করার ঘটনা। পথিমধ্যে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। সে খবর জানতে পেরে জনপ্রতিনিধি বেলায়েত বঙ্গবন্ধুকে সাবধান করেন। তাই সে পরিকল্পনা আর বাস্তবায়িত হয় না। কিন্তু ষড়যন্ত্রকারীরা আবার পরিকল্পনা করে একই বছরের ১৫ই আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে পরিবারসহ হত্যা করে। এই হত্যাকা-ের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীরা প্রতিবাদ মিছিল বের করেন। তারাও পুলিশের হাতে আটক হন এবং নির্মম নির্যাতনের শিকার হন। রাকেশ বসুর চিত্রনাট্যে কাহিনীচিত্রটি পরিচালনা করেছেন সুমন ধর। অভিনয় করেছেন-শহীদুজ্জামান সেলিম, শাহাদাত হোসেন, মনোজ প্রামাণিক, তানিয়া বৃষ্টি, জাহাঙ্গীর আলম ও মাস্টার শাকিল।

রাত ১০টায় একুশে টিভিতে প্রচার হবে নাটক ‘মৃতের আত্মহত্যা’। আবুল ফজলেন গল্পে নাটকটির নাট্যরূপ দিয়েছেন মাসুম রেজা এবং পরিচালনা করেছেন গোলাম সোহরাব দোদুল। গল্পের মূল চরিত্র সোহেলীর ভূমিকায় দেখা যাবে জনপ্রিয় অভিনেত্রী তারিন জাহানকে। আরও অভিনয় করেছেন শতাব্দী ওয়াদুদ, সুষমা সরকার, মাস্টার তূর্য ও একটি বিশেষ চরিত্রে ইরেশ যাকের। এটা ইতিহাসের বর্ণনানির্ভর গল্প নয়। তবে ইতিহাসের মর্মান্তিক ট্র্যাজেডির পরিণতিতে দগ্ধ, পীড়িত ও ক্ষুব্ধ হওয়া একজন নারীর করুণ বিয়োগান্তক ঘটনার হৃদয়ফাটা চিত্রায়ণ। বঙ্গবন্ধুকে যারা হত্যা করেছে তার মধ্য থেকে বিদেশে পালিয়ে থাকা একজন খুনির স্ত্রী, গল্পের নায়িকা সোহেলীর চরিত্রের মধ্য দিয়ে সমগ্র বাঙালি জাতির দগ্ধ প্রাণের পরিস্ফুটন ঘটিয়েছেন আবুল ফজল।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত