উড়ন্ত সূচনায় ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ শুরু হলো ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের। লিগের শুরুতেই জায়ান্টদের লড়াইয়ে জয় পেয়েছে তারা। গত রবিবার অপর জায়ান্ট চেলসির সঙ্গে ম্যাচ ছিল রেড ডেভিলসদের। ঘরের মাঠে চেলসিকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে ওলে গানার সোলসকায়েরের দল। এতে একদিকে দারুণ শুরু পেলেন সোলসকায়ের, আর ওদিকে ফ্রাঙ্ক ল্যাম্পার্ডের কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিক শুরুটা হলো অত্যন্ত বাজেভাবে।
গত মৌসুমে বাজে শেষের হতাশা ভুলতে এবার ভালো শুরুর দরকার ছিল ম্যান ইউনাইটেডের। প্রথম ম্যাচেই তারা সেটা পেয়ে গেছে। ১৮ মিনিটে মার্কাস রাশফোর্ডের পেনাল্টি থেকে গোলের সূচনা। বিরতির পর ১৬ মিনিটের মধ্যে অ্যান্থনি মার্সিয়াল (৬৫), রাশফোর্ডের দ্বিতীয় (৬৭) ও অভিষিক্ত ড্যানিয়েল জেমসের (৮১) গোলে বড় জয় নিশ্চিত করে স্বাগতিকরা। মার্সিয়ালের এটি ছিল ৪৯তম গোল। যে কোনো ইউনাইটেড ফুটবলারের মধ্যে অভিষেক থেকে এই পর্যন্ত সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ।
এ জয়ে ১৯০৫-০৬ ও ১৯১০-১১ সালের পর তৃতীয়বার টানা পাঁচ মৌসুমে প্রথম ম্যাচেই জিতল ম্যান ইউনাইটেড। এদিকে ১০৪তম মৌসুমের ইতিহাসে প্রথম ম্যাচে এবারই প্রথম এত বড় হারের ধাক্কা হজম করল চেলসি। এছাড়া ম্যাট বাসবির কোচিংয়ে ১৯৬৫ সালে চেলসির বিপক্ষে ৪-০ ব্যবধানে জয়ের পর এই প্রথম একই ব্যবধানে ব্লুজদের বিপক্ষে জিতল ম্যান ইউনাইটেড। এসব রেকর্ড সাবেক চেলসি লিজেন্ড ল্যাম্পার্ডের জন্য লজ্জার রেকর্ড এনে দিয়েছে। ১৯৭৮ সালে ড্যানি ব্লাঞ্চফ্লাওয়ারের পর কোনো চেলসি কোচ হিসেবে প্রথম ম্যাচে এত বড় হার হজম করলেন ল্যাম্পার্ড। আর ২০১৩ সালে গুস্তাভো পয়েটের পর প্রথম কোচ হিসেবে ৪ গোল হজম করার ঘটনাও তাকে দিয়েই হলো। গতবার মৌসুমের মাঝপথে দায়িত্ব নিয়েছিলেন সোলসকায়ের। নরওয়েজিয়ান কোচ খারাপ করেননি। হোসে মরিনহোর সঙ্গে হাতবদল হওয়ার পর ম্যান ইউনাইটেডকে শুধু ওপরে তুলেছেন। এবার শুরু থেকে শুরু করলেন তিনি। বিশ্বাস রাখছেন এবারের অভিযান আরও সাফল্যের হবে। ম্যাচ শেষে জানান, ‘আমাদের শুরুটা সত্যিই ভালো হয়েছে। এ থেকে পুরো মৌসুমের জ্বালানি নেওয়া যায়। জিততে হলে আপনাকে রিস্ক নিতেই হবে। আমরা আজ সেটাই করেছি। আর রিস্ক নেওয়া মানে সব সময়ই ফিফটি-ফিফটি চান্স সফল হওয়ার। আজ (রবিবার) সফল হয়েছি। তবে সাফল্য পেতে হলে ঝুঁকি নেওয়া ছাড়া উপায় নেই। আমরা প্রথমার্ধ থেকে পরের অর্ধে বেশি শক্তিশালী-সাবলীল ছিলাম। এটা গত ছয়টি সপ্তাহে ভালো প্রস্তুতির ফল। এই চেষ্টাকে আরও অনেকদূর টানতে হবে।’
সোলসকায়ের যখন জয়ে তৃপ্ত তখন ল্যাম্পার্ডের কপালের ভাঁজ বাড়ছে। একে তো অভিজ্ঞ ডিফেন্ডার ডেভিড লুইজকে ছেড়ে দিয়েছেন। তার ওপর প্রথম ম্যাচেই এমন ফল। পুরো ম্যাচে চেলসি আধিপত্য বিস্তার করে খেলেছিল। কিন্তু গোলের খেলা ফুটবলে সেসব তো আর হিসেবে আসে না। তাই নিজের দলের গোল না পাওয়া নিয়েই কেবল আক্ষেপ করলেন ল্যাম্পার্ড, ‘যে দলটিকে খেলিয়েছি তাদের বেশিরভাগই তরুণ। এসব কঠিন পরিস্থিতি থেকে তারা শিখবে। আমরা বেশিরভাগ সময় ওদের ওপরে ছিলাম কিন্তু চারবার ভুল করেছি সেই ভুলগুলোর সুযোগ নিয়েছে ম্যান ইউনাইটেড।’
