এবি ব্যাংকের নিট মুনাফা কমেছে ৬১ শতাংশ

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ১২:০০ এএম

দেশের প্রথম বেসরকারি ব্যাংক এবি ব্যাংক লিমিটেড গত কয়েক বছর ধরেই ব্যবসা করতে পারছে না। সুদ আয়সহ বিভিন্ন ধরনের আয় কমে যাওয়ার পাশাপাশি খেলাপি ঋণের বিপরীতে সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে ব্যাংকটির নিট মুনাফা গত তিন বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে কমছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধেও এবি ব্যাংকের নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬১ শতাংশ কমে গেছে। যদিও একই সময়ের ব্যবধানে ব্যাংকটির তারল্য পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হয়েছে। চলতি বছরের প্রথমার্ধের (জানুয়ারি-জুন) অনিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন পর্যালোচনায় এমন তথ্য মিলেছে।

পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত দুই বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি প্রথমার্ধেও এবি ব্যাংকের নিট মুনাফায় অধোগতি লক্ষ করা গেছে। ২০১৮ সালের প্রথমার্ধের তুলনায় চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংকটির নিট মুনাফা কমেছে ৬১ দশমিক ৫ শতাংশ। এ সময় সুদ আয় বাড়লেও বিনিয়োগ, কমিশন, এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ ও অন্যান্য আয় কমে গেছে। পাশাপাশি সঞ্চিতির পরিমাণও কিছুটা কমেছে। চলতি প্রথমার্ধে প্রথম প্রজন্মের এ ব্যাংকটির নিট সুদ আয় হয়েছে ১৩৪ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১৫ দশমিক ৭৪ শতাংশ বেশি। তবে এ সময় বিনিয়োগ থেকে আয় কমেছে ৪৪ দশমিক ৫ শতাংশ। ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে বিনিয়োগ থেকে এবি ব্যাংকের আয় ছিল ১৮২ কোটি ৩৩ লাখ টাকা, যা চলতি প্রথমার্ধে ১০১ কোটি টাকায় নেমে আসে। চলতি প্রথমার্ধে কমিশন, এক্সচেঞ্জ ও ব্রোকারেজ থেকে আয় হয় ১০৮ কোটি টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৩০ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। অন্যান্য আয় ১২ কোটি টাকা থেকে নেমে এসেছে ৭ কোটি ৩০ লাখ টাকায়। সবমিলিয়ে চলতি প্রথমার্ধে নিট পরিচালন আয় দাঁড়ায় ৩৫০ কোটি ৬৪ লাখ টাকায়, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২০ দশমিক ৫ শতাংশ কম। অবশ্য আয় কমে যাওয়ায় কোম্পানিটি ব্যবস্থাপনা ব্যয়ও কিছুটা কমিয়ে এনেছে।

পরিচালন আয় কমে যাওয়ায় সঞ্চিতির আগে এবি ব্যাংকের মুনাফা দাঁড়িয়েছে ৭৭ কোটি ৫৩ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ১৪৮ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। চলতি প্রথমার্ধে খেলাপি ঋণ ও বিনিয়োগের বিপরীতে ব্যাংকটিকে মোট ৫১ কোটি ৭০ লাখ টাকা সঞ্চিতি হিসাবে রাখতে হয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন ধরনের ঋণ ও অগ্রিমের জন্য সঞ্চিতি সংরক্ষণের পরিমাণ ছিল ৪৯ কোটি ৭৭ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের প্রথমার্ধে সঞ্চিতি বাবদ ৬৬ কোটি ৬০ লাখ টাকা সঞ্চিতি রাখতে হয়েছিল ব্যাংকটিকে।

আয় কমে যাওয়া ও বড় ধরনের সঞ্চিতি সংরক্ষণের কারণে চলতি প্রথমার্ধে ব্যাংটির করপূর্ব মুনাফা দাঁড়িয়েছে ২৫ কোটি ৮৩ লাখ টাকা। আর কর পরিশোধের পর এবি ব্যাংকের নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১১ কোটি ৪৪ লাখ টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ে ছিল ২৯ কোটি ৮২ লাখ টাকা।

২০১৬ সালে এবি ব্যাংক নিট মুনাফা করে ১৫১ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এর পরের বছর থেকেই ব্যাংকটি খেলাপিসহ বিভিন্ন সংকটে পড়ে যায়। এর কারণে ২০১৭ সালে ব্যাংকটির নিট মুনাফা নেমে আসে মাত্র ৪ কোটি টাকায়। ২০১৮ সালেও এসে অবস্থার পরিবর্তন হয়নি। সে বছরও কোনোরকমে লোকসান এড়িয়ে নিট মুনাফা হয় ৪ কোটি ৩০ লাখ টাকা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত