লালবাগে কারখানায় আগুন

কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি অনুসন্ধানে তদন্ত কমিটি

আপডেট : ১৬ আগস্ট ২০১৯, ০৪:১৮ এএম

পুরান ঢাকার লালবাগের পোস্তা এলাকায় আগুন লেগে পুড়ে যাওয়া প্লাস্টিক কারখানাটিতে অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আজ শুক্রবার থেকে কাজ শুরু করবে এই কমিটি। গত বুধবার রাতের ওই অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ হতাহত না হলেও পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছিল। পুলিশ, র‌্যাব ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় ফায়ার সার্ভিসের ১৫টি ইউনিট প্রায় ৬ ঘণ্টার চেষ্টায় ভোর ৪টায় আগুন নেভাতে সক্ষম হয়।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্সের উপপরিচালক দিলীপ কুমার ঘোষ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘পোস্তা এলাকার প্লাস্টিক কারখানায় আগুনের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব নিরূপণে আমার নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে আমাদের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন সহকারী পরিচালক আবদুল হালিম ও উপসহকারী পরিচালক নিউটন দাস।’

তিনি আরও বলেন, ‘আজ ১৫ আগস্ট (গতকাল) জাতীয় শোক দিবসের দায়িত্ব পালনে ব্যস্ত থাকায় প্লাস্টিক কারখানার আগুনের ঘটনার তদন্ত শুরু করতে পারিনি। আগামীকাল (আজ শুক্রবার) থেকে কাজ শুরু করব।’

এদিকে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানিয়েছেন, বুধবার রাতে আগুন লাগা কারখানাটিসহ লালবাগের পোস্তা এলাকায় গড়ে ওঠা বেশিরভাগ প্লাস্টিক ও পলিথিন কারখানারই ফায়ার সার্ভিসের কোনো অনুমোদন নেই। ঘিঞ্জি পরিবেশে এসব কারখানা গড়ে উঠেছে। এমনকি গাড়ি চলাচলের কোনো রাস্তা পর্যন্ত নেই। এ কারণে গত বুধবার আগুন লাগার পর সেখানে ফায়ার সার্ভিসের কোনো গাড়ি যেতে পারেনি।

৬ ঘণ্টার চেষ্টায় আগুন নেভে : ফায়ার সার্ভিসের একাধিক কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, রাত ১০টার দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। এর পরপরই আশপাশের স্টেশন থেকে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট আগুন নেভানোর জন্য ঘটনাস্থলে যায়। তবে সরু রাস্তা হওয়ায় তারা তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পৌঁছতে পারেনি। আর ততক্ষণে আগুন পুরো কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে। একপর্যায়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের সহায়তায় আশপাশে অবস্থিত বিভিন্ন বাসাবাড়ি ও কারখানার টিনের চালে উঠে আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় একটি টিনের চালা ধসে পড়ে। তবে আগুনে কিংবা টিনের চালা ধসে পড়ার কারণে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা আরও জানান, রাত সাড়ে ১০টা থেকে টানা প্রায় ৬ ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নেভানো সম্ভব হয়। আর আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত না হওয়া গেলেও কারখানায় দাহ্য পদার্থের উপস্থিতির কারণে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হয়।

স্থানীয় বাসিন্দা জহিরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, আধা-পাকা দোতলা ভবনে টিনের ছাউনি দেওয়া ঘরগুলোতে প্লাস্টিকের দানা মজুদ করা ছিল। ওই দানা দিয়ে বিভিন্ন ধরনের প্লাস্টিক সামগ্রী তৈরি হতো। এর আশপাশে রাসায়নিকের অনেক গুদামঘরও রয়েছে। যে কারণে আগুন লাগার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এলাকার আরেক বাসিন্দা আবদুস সালাম বলেন, ‘এই কারখানাগুলো প্রশাসনের কোনো অনুমতি নিয়ে গড়ে ওঠেনি। আগুন নেভানোর কোনো সরঞ্জামও রাখেনি তারা। ঈদের ছুটিতে কারখানা বন্ধ থাকায় শ্রমিকরা প্রাণে বেঁচে গেছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘আগুনে পুড়ে যাওয়া কারখানার পাশেই ছিল একাধিক বৈদ্যুতিক ট্র্যান্সফরমার। রাত ৯টার দিকে ওই ট্রান্সফরমারের বিস্ফোরণ ঘটে। এর কিছুক্ষণ পর ট্রান্সফরমারটি মেরামত করে যায় বিদ্যুৎ অফিসের লোকজন। এর ঘণ্টাখানেক পর আবার ওই ট্রান্সফরমার থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হতে থাকে। এরপর সেখান থেকে আগুন কারখানায় ছড়িয়ে পড়ে।’

এর আগে গত ২০ ফেব্রুয়ারি রাতে পুরান ঢাকার চকবাজারের চুড়িহাট্টায় আগুনে পুড়ে ৭৮ জনের মৃত্যু হয়। এরপর ওই এলাকা থেকে রাসায়নিক দ্রব্যের বিভিন্ন গুদাম ও কারখানা সরানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা সফল হয়নি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত