সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া গণতন্ত্রের জন্য এশিয়া মহাদেশে সবচেয়ে ত্যাগ স্বিকারকারী একজন নেতা বলে মন্তব্য করেছেন দলটির মহসিচব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়া দীর্ঘকাল গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনৈতিতক জীবনের শুরুটাই রাজপথে।
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে শুক্রবার নয়া পল্টনে এক দোয়া মাহফিলে মির্জা ফখরুল এমন মন্তব্য করেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, খালেদা জিয়া মুক্ত থাকলে দেশের অর্থনীতিকে এভাবে ‘ফোকলা করে ফেলা’ সম্ভব হতো না। এ কারণেই ‘ইচ্ছাকৃতভাবে’ তাকে কারাগারে আটকে রাখা হয়েছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া দুর্নীতির দুই মামলায় দণ্ড নিয়ে দেড় বছর ধরে কারাবন্দি। অসুস্থতার জন্য কয়েক মাস ধরে তিনি রয়েছেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে।
তিনি বলেন, গণতন্ত্রের জন্য তিনি সারাজীবন সংগ্রাম করেছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের শুরু হচ্ছে রাজপথে। তিনি স্বৈরাচার এরশাদ সরকারের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশের পথে-প্রান্তরে জনগণকে সংগঠিত করেছেন। তিনি কোনো রাজনৈতিক নেতা ছিলেন না, একজন গৃহবধূ যিনি রাজনীতি সম্পর্কে একেবারেই অনভিজ্ঞ ছিলেন।
বিএনপি মহাসচিব আরো বলেন, খালেদা জিয়া জীবনকে উৎসর্গ করেছেন এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে। এই নেত্রী গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্যে শুধু কারাবরণই করেননি, তার সবচেয়ে প্রিয়জনদের হারিয়েছেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর অনেকেই মনে করেছিলেন যে বিএনপি ধবংস হয়ে যাবে। খালেদা জিয়াই তখন সামনে এসে বিএনপির পতাকাকে তুলে নিয়ে জনগণকে সংগঠিত করেন।
এ বিএনপি নেতা খালেদা জিয়ার ‘উচ্ছেদ’ হওয়া, বিদেশে তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যু এবং বড় ছেলে তারেক রহমানের লন্ডনে ‘নির্বাসিত’ জীবনের কথাও অনুষ্ঠানে বলেন।
প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ১০ বছর দায়িত্ব পালনের সময় খালেদা জিয়াই দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ‘ভিত্তি’ গড়ে দিয়েছিলেন বলে দাবি করেন বিএনপি মহাসচিব।
সরকার দেশকে ‘পরনির্ভরশীল করার চক্রান্তে’ সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছে এবং চামড়া নিয়ে সাম্প্রতিক পরিস্থিতি তারই অংশ বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেন, চামড়া শিল্পের মাধ্যমে আমরা বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করতে পারি। সেটাকে ধ্বংস করে দিয়েছে এই সরকার, অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে। এক সময় পাট শিল্প ধ্বংস করা হয়েছে, আজকে ধ্বংস করা হচ্ছে চামড়া শিল্পকে।
দোয়া মাহফিলে খালেদা জিয়ার আশু রোগমুক্তি ও দীর্ঘজীবন কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন নেতাকর্মীরা।
অন্যদের মধ্যে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমদ, গয়েশ্বর চন্দ্র্র রায়, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান, জ্যেষ্ঠ নেতা শামসুজ্জামান দুদু, এজেডএম জাহিদ হোসেন, নিতাই রায় চৌধুরী, শওকত মাহমুদ, জয়নুল আবদিন ফারুক, রুহুল কবির রিজভী, মাহবুবউদ্দিন খোকন, সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, খায়রুল কবির খোকন, হাবিব উন নবী খান সোহেল, শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাস, ফজলুল হক মিলন, সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, শহীদউদ্দিন চৌধুরী এ্যানী, নূরে আরা সাফা, শিরিন সুলতানা, ওবায়দুল ইসলাম, মীর সরফত আলী সপু, আবদুস সালাম আজাদ, রিয়াজুল ইসলাম রিজু, ইশরাক হোসেন, নিপুন রায় চৌধুরী, বজলুল করীম চৌধুরী আবেদ, অঙ্গসংগঠনের আনোয়ার হোসেইন, সাই্যফুল আলম নিরব, মোরতাজুল করীম বাদরু, শফিউল বারী বাবু, আবদুল কাদের ভুঁইয়া জুয়েল, আবুল কালাম আজাদ, এসএম জাহাঙ্গীর দোয়া মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন।
