বিল্লাল-শিরিনকে ছাড়াই কুস্তির ক্যাম্প

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ১২:২০ এএম

২০১৬ শিলং-গৌহাটি এসএ গেমসে ডিসিপ্লিন অনুযায়ী বাংলাদেশের সাফল্য বিচারে দ্বিতীয় স্থানে আছে কুস্তির নাম। সেবার ৩টি রৌপ্যপদক-সহ মোট ১০টি পদক এনে দিয়েছিলেন কুস্তিগিররা। আরেকটি এসএ গেমসকে সামনে রেখে অন্যান্য ডিসিপ্লিনের মতো কুস্তিরও অনুশীলন ক্যাম্প শুরু হয়েছে। গাজীপুরের আনসার অ্যাকাডেমিতে ২০ জন ছেলে ও ১৮ জন মেয়ে নিয়ে গত ১৫ জুলাই থেকে হচ্ছে ক্যাম্প। ঈদের ছুটির পর আজ ফের শুরু হবে ক্যাম্প। তবে এই ক্যাম্পে নেই দেশের অভিজ্ঞ দুই কুস্তিগির। ছেলেদের হয়ে দেশকে একাধিক আন্তর্জাতিক সাফল্য এনে দেওয়া কুস্তিগির বিল্লাল হোসেন এবার সুযোগ পাননি জাতীয় দলের ক্যাম্পে। অন্যদিকে কুস্তিতে গত ক’বছরের নিয়মিত মুখ শিরিন সুলতানাকেও ডাকা হয়নি ক্যাম্পে।

সেই ২০০৪ সাল থেকে শুরু করে চলতি বছর জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ পর্যন্ত নিজের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ রেখেছিলেন বিল্লাল। টানা ১১বার বিভিন্ন ওজন শ্রেণিতে সেরা হয়েছেন বিগত তিনটি এসএ গেমসে ব্রোঞ্জ জেতা বিল্লাল। গত জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে ৯৭+ কেজি ওজন শ্রেণিতে কেউ পাত্তাই পায়নি ৪০ বছর বয়সী বিল্লালের কাছে। অথচ তাকে বাদ দিয়ে ফেডারেশন কেটেছে ডিসেম্বরে এসএ গেমসে সাফল্যের ছক। বাংলাদেশ অ্যামেচার রেসলিং ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক তাবিউর রহমান পালোয়ান বিল্লালের ক্যাম্প থেকে বাদ পড়ার জন্য তার বয়সকেই দায়ী করেছেন। তাছাড়া দেশ ও দলের প্রতি বিল্লালের নিবেদন নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি, ‘ওর (বিল্লালের) এখন বয়স হয়ে গেছে। তরুণ অনেক কুস্তিগির উঠে আসছে। তাদেরও তো তৈরি করতে হবে। তাছাড়া জাতীয় দলে খেলতে হলে যে আত্মনিবেদনটা থাকা প্রয়োজন, তার ঘাটতি দেখেছি তার মধ্যে। ওর মতো একজন সিনিয়র খেলোয়াড় যদি আন্তর্জাতিক মিটে গিয়ে শরীর বাঁচিয়ে খেলতে চায় তাহলে জুনিয়ররা কী শিখবে।’ আগের তিনবার ভালো খেলেও ব্রোঞ্জ পদকে সন্তুষ্ট থাকতে হয়েছিল বিল্লালকে। জানুয়ারিতে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ চলাকালীন সামনের এসএ গেমসে নিজের সাফল্যকে ছাড়িয়ে যাওয়ার ইচ্ছের কথা প্রকাশ করেছিলেন। কিন্তু তার ইচ্ছেপূরণে সুযোগই থাকছে না। এ প্রসঙ্গে অবশ্য কোনো কথা বলতে চাননি বর্ডারগার্ড বাংলাদেশের এই কুস্তিগির।

গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের হয়ে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আসরে অংশ নেওয়া শিরিনের দলে জায়গা না পাওয়া খানিকটা বিস্ময় জাগিয়েছে। ২০১২ সালে ইন্দো-বাংলা গেমসে স্বর্ণপদক জয় দিয়ে শুরু। এরপর ২০১৪ ইনচন এশিয়াডে খেলেন উশু খেলোয়াড় হিসেবে। ২০১৬ এসএ গেমসে মেয়েদের ৬৯ কেজিতে এনে দেন রৌপ্যপদক। এরপর ২০১৭ সালে আজারবাইজানের বাকুতে ইসলামি সলিডারিটি গেমসে কোনো ম্যাচ না জিতেই পান ব্রোঞ্জপদক। এর ধারাবাহিকতায় এশিয়ান ইনডোর গেমস, গত বছর কমনওয়েলথ গেমস, এশিয়াডে বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করেন শিরিন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত হলেও শিরিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তিনি ২০১৬ সালের পর থেকে কোন ঘরোয়া আসরে অংশ নেননি। ফেডারেশন সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘একটা খেলোয়াড় যদি জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ থেকে শুরু করে কোনো ঘরোয়া আসরে অংশ না নেয় তাহলে কীভাবে তাকে বিবেচনা করব।’ কেবল ঘরোয়া আসর নয়, এসএ গেমসের ক্যাম্পের আগে অনুষ্ঠিত ট্রায়ালেও অংশ নেননি শিরিনÑ অভিযোগ পালোয়ানের, ‘তাকে ট্রায়ালে অংশ নিতে বলা হয়েছে, সেটায়ও তিনি আসেননি। তাই তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

শিরিনের বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, তিনি কোনো না কোনোভাবে ক্রীড়াঙ্গনের কর্তাব্যক্তিদের ভজিয়ে এতদিন বিভিন্ন গেমসে খেলার সুযোগ করে নিয়েছেন। জাতীয় দলে খেলার মানদ- নির্ধারিত হয় ঘরোয়া আসর, বিশেষ করে জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপে। সেখানে না খেলেও কী করে অতীতে তিনি জাতীয় দলে ‘অটোমেটিক চয়েজে’ পরিণত হয়েছেন জানতে চাইলে পালোয়ান বলেন, ‘অতীতে ওর ওজন শ্রেণিতে (৬৭ কেজি) তেমন ভালো মেয়ে না থাকায় তাকে বিবেচনা করা হয়েছে। এখন ওর ওজন শ্রেণিতে আরও তিনটি ভালো মেয়ে আছে।’ ফেডারেশনের যুগ্ম সম্পাদক মেজবাহউদ্দিন আজাদ অবশ্য এখনো মনে করেন অভিজ্ঞতা বিবেচনা করে সামনে শিরিনকে ক্যাম্পে ডাকা হবে, ‘ওর অনেক অভিজ্ঞতা রয়েছে। ব্যক্তিগতভাবে ও অনেক অনুশীলন করে। ওকে সামনে নিশ্চয় ক্যাম্পে ডাকা হবে।’ বিল্লালের মতো ক্যাম্প থেকে বাদ পড়া প্রসঙ্গে শিরিনও মুখ খুলতে চাননি।

এ দু’জনকে বাদ দিয়েই অবশ্য গতবারের সাফল্যকে পেছনে ফেলার লক্ষ্যের কথা শোনা গেছে দীর্ঘদিন ধরে ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক পালোয়ান। সেটা তরুণদের হাত ধরে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত