প্রতি বছর ১৫ আগস্ট রাজধানীর ধানমণ্ডির ৩২ নম্বর বাড়ির সামনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের হাজারো ভক্তের ভিড় জমে। গত বৃহস্পতিবার ১৫ আগস্টেও এর ব্যতিক্রম হয়নি। দূর-দূরান্ত থেকে একই ইচ্ছা-আগ্রহ নিয়ে ৩২ নম্বরের বাড়ির সামনে এসে জড়ো হন মুজিবভক্ত হাজারো মানুষ। বঙ্গবন্ধুর ৪৪তম শাহাদাতবার্ষিকীতে ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকেও আসেন মুজিবভক্তরা। বৃহস্পতিবার বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে শ্রদ্ধা জানাতে আসা নানা বয়সী মানুষের সঙ্গে কথা হয় দেশ রূপান্তরের প্রতিবেদকের। তাদের কেউই আওয়ামী লীগের পদ-পদবি বহন করেন না। তবুও অনুভূতি প্রকাশ করেন আওয়ামী লীগের জন্য। শেখ হাসিনার জন্য জীবন দিতে প্রস্তুত থাকার কথাও জানান তারা।
বঙ্গবন্ধুর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে সাভার থেকে ধানমণ্ডির বাড়ির সামনে আসা আলিম মাস্টার নামে ষাটোর্ধ্ব এক বৃদ্ধ ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘১৯৭৫ সালে যে মোশতাকরা জাতির পিতাকে সপরিবারে শেষ করে দিয়েছে, ৪৪ বছর পরেও আওয়ামী লীগে মোশতাক অনুসারীদের দেখা যায়। এখনো দলে এদের দেখা মেলা আমাদের জন্য দুঃখের-কষ্টের।’ তিনি বলেন, ‘ক্ষমতায় থাকায় আওয়ামী লীগে মোশতাকরা সংখ্যায় বেড়ে গেছে। বঙ্গবন্ধুর অনুসারী অনেকেই মোশতাকদের ভিড়ে শেখ হাসিনার আশপাশে থাকতে পারছেন না। যেখানেই চোখ রাখি, দেখি মোশতাকের ছড়াছড়ি। বঙ্গবন্ধুর কন্যাকে সামনে পাইলে এই কথা বলতাম; যেন সাবধানে থাকে।’
মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট এলাকায় থাকেন বঙ্গবন্ধুর ভক্ত সবুর খান। শ্রদ্ধা জানাতে এসে তিনি বলেন, ‘১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগেও সর্বত্র সবাইকে আওয়ামী লীগ সাজতে দেখেছি। এখন আবার তেমনটা দেখছি। মনে ভয় করছে। কী জানি কী হয়।’ চোখের কোনায় জল নিয়ে সবুর খান আরও বলেন, ‘যেদিকেই চোখ রাখি, মোশতাক চরিত্রের লোক দেখি। সরকারে, দলে ও প্রশাসনে সবাই যেভাবে আওয়ামী লীগ করছে, তাতে অবস্থা ভালো ঠেকছে না। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের আগেও সবাইকে আওয়ামী লীগ সাজতে দেখা গেছে। আর মোশতাকরা সংঘবদ্ধ হয়ে জাতির পিতাকে হত্যা করেছে।’ তিনি বলেন, ‘এরা সরকারকে, আওয়ামী লীগকে বিপথগামী করছে। বিপদে ফেলে পালিয়ে যাবে এসব মোশতাকের দল।’
একদল সেনা কর্মকর্তা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট নিজেকে রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেন জাতির পিতার একসময়ের ঘনিষ্ঠ খন্দকার মোশতাক আহমেদ। এ কারণে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারকে হত্যার পেছনের কুশীলব মনে করা হয় তাকে।
লালবাগের বশির মিয়ার বয়স পঞ্চাশ পেরিয়েছে। আওয়ামী লীগের এই সমর্থক বঙ্গবন্ধু ও আওয়ামী লীগপাগল। গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুল দিতে আসেন। শ্রদ্ধা জানানো শেষে গলা ফাটিয়ে ‘জয় বাংলা’ স্লোগান দেন। ফিরে যাওয়ার সময় এই প্রতিবেদক ডাকেন তাকে। ওই সময় তিনি বলেন, ‘প্রতি বছরই আসি এখানে। বঙ্গবন্ধুকে সশরীরে দেখতে না পেলেও মনে হয় বাড়ির ভেতরে আছেন তিনি। কিছুক্ষণ পরই বারান্দায় বের হয়ে আসবেন। আগস্ট এলেই এমনটা মনে হয়।’ তিনি বলেন, ‘যেই মোশতাক বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করেছে, সেই মোশতাকদের দল আবারও আওয়ামী লীগে ভিড় করেছে।’ তিনি বলেন, ‘কেউ টের না পেলেও আমরা যারা মুজিবপাগল তারা এদের চিনতে পারি। যেদিকেই তাকাই মোশতাকের চেহারা দেখতে পাই। শুধু তা-ই নয়, সর্বত্র এরা পাকাপোক্ত আসন গেড়ে বসে আছে। ভয় হয়, ভীষণ ভয় হয়। আবার কি না কী হয়।’
