সাভারে ট্যানারি

ঢুকছে কাঁচা চামড়া কম দামে ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১৭ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৬ এএম

কোরবানির ঈদের দিন গত সোমবার বিকেল থেকেই সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে পশুর কাঁচা চামড়া আসতে শুরু করেছে। তবে আশানুরূপ দাম না পেয়ে হতাশ ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। তাদের অভিযোগ, সরকার দাম বেঁধে দিলেও কোনো নজরদারি না থাকায় স্বল্প দামে চামড়া বিক্রিতে বাধ্য হচ্ছেন অনেকেই। এতে বিপুল পরিমাণে লোকসান গুনছেন মৌসুমি ব্যবসায়ীরা। এ জন্য ট্যানারি মালিকরাই দায়ী। তবে ট্যানারি মালিকরা বলছেন, বিশ্ববাজারে চাহিদা কম থাকায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। 

এবার সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, গরুর কাঁচা চামড়ার দর ঢাকায় প্রতি বর্গফুট ৪৫ থেকে ৫০ টাকা, ঢাকার বাইরে ৩৫ থেকে ৪০ টাকা। আর সারা দেশে খাসির চামড়ার দর প্রতি বর্গফুট ১৮ থেকে ২০ টাকা এবং বকরির চামড়া ১৩ থেকে ১৫ টাকা। এ দর গতবারও ছিল।

মৌসুমি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, এবার প্রতি বর্গফুট গরুর চামড়া বিক্রি হচ্ছে গড়পড়তা ১৫-২০ টাকা দরে। গড়ে প্রতিটি ছাগলের চামড়া বিক্রি হচ্ছে ৩০-৫০ টাকায়। চামড়া কেনায় ট্যানারি মালিকদের অনীহার কারণেই এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তারা।

একাধিক ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী জানান, কোরবানির ঈদে সারা দেশে কয়েক লাখ মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী জমানো ও টাকা ধার করে বিনিয়োগ করেন। তারা সাধারণ মানুষের কাছ থেকে কাঁচা চামড়া কিনে কিছুটা লাভের আশায় পাইকার ও ট্যানারি মালিকদের কাছে বিক্রি করেন। এবার চামড়ার দাম কমে যাওয়ায় তাদের মাথায় বাড়ি পড়েছে। 

চামড়া বিক্রেতা হামিদুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সাভারের কয়েকটি ট্যানারিতে ঘুরেছি। কিন্তু ট্যানারির মালিক-কর্মচারীরা আমাদের চামড়াগুলো নানা অজুহাত দিয়ে প্রথমে রাখতে অস্বীকৃতি জানায়। পরে চামড়ার সাইজ ছোট এবং নষ্ট হয়ে গেছে বলে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চার ভাগের এক ভাগ মূল্যে কেনার প্রস্তাব দেয়।’ মূলত দাম কম দেওয়ার জন্য ট্যানারি মালিকরা এমন কৌশল অবলম্বন করছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।

চামড়া ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘এবারে কী কারণে চামড়ার বিদেশি ক্রেতা আগের চেয়ে কম সেটা সরকার ও ট্যানারি মালিকরাই বলতে পারবেন।’

চামড়ার দর প্রসঙ্গে ভুলুয়া ট্যানারি লিমিটেডের সুপারভাইজার শাহ আলম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বিগত বছরগুলোতে দুই থেকে আড়াই হাজার টাকা দর থাকলেও ট্যানারি স্থানান্তরের পর এখন ৫ থেকে ৬শ’ টাকায় চামড়া কিনতেও কষ্ট হচ্ছে ট্যানারি মালিকদের। এছাড়া বিশ্ববাজারে বিশেষ করে চায়নাতে মালের চাহিদা কম থাকায় এই সমস্যা তৈরি হয়েছে।’

বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘চামড়ার দাম কম হওয়ার ক্ষেত্রে আমাদের কোনো হাত নেই। যারা আড়তদার রয়েছেন তারাই ভালো বলতে পারবেন। আমরা সরকারের বেঁধে দেওয়া দাম দিয়েই আড়তদারের কাছ থেকে চামড়া কিনে থাকি। গত কোরবানির ঈদে প্রায় ৮০ লাখ পশুর চামড়া কেনা হয়েছিল। এবারও সমপরিমাণ চামড়া কেনার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। ’গত বছর ৩০-৩৫ শতাংশ চামড়া নষ্ট হয়ে গিয়েছিল জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘সময়মতো সঠিক পদ্ধতিতে লবণ না দিলে চামড়া নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত