সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে রি-এজেন্ট সংকট

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩:২৬ এএম

রাজধানীর শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রি-এজেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে সক্ষমতার কয়েক গুণ বেশি পরীক্ষা করতে আসা রোগীর রিপোর্ট দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে কর্র্তৃপক্ষকে। গত শুক্রবার সকাল থেকে গতকাল শনিবার পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য ৩০০ রোগীর নমুনা সংগ্রহ করে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগ।

রি-এজেন্ট সংকটের বিষয়ে গতকাল শনিবার দুপুরে হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. কে এম মামুন মোর্শেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য হাসপাতালে কেমিক্যালের কোনো ঘাটতি নেই। যথেষ্ট ওয়ার্ডের ব্যবস্থাও আছে। তবে গত দুই দিন থেকে রি-এজেন্ট সংকট দেখা দিয়েছে। একটি পুরনো মেশিনের রি-এজেন্ট পাওয়া যাচ্ছে না কোথাও। অপর একটির রি-এজেন্ট প্রায় শেষের দিকে। এছাড়া অন্য একটি মেশিন সচল থাকায় পরীক্ষা করা হচ্ছে। এই মেশিনটিও অতিরিক্ত চাপে শাটডাউন হলে অনেকটা সমস্যায় পড়তে হবে।’

তিনি বলেন, ‘প্যাথলজি বিভাগে ধারণক্ষমতার বাইরে অতিরিক্ত ডেঙ্গু পরীক্ষা করতে আসা রোগীর কারণে কিছু লোকবলেরও অভাব দেখা দিয়েছে। হাসপাতালে যেখানে ২০০ রোগীর পরীক্ষা করানোর সামর্থ্য আছে, সেখানে দুই হাজার রোগীকে পরীক্ষা করানো হচ্ছে। গত শুক্রবার সারা রাত পরীক্ষা করা হয়। একটি মেশিন সচল থাকায় একটিতেই পরীক্ষা করা হয়েছে। মেশিন অতিরিক্ত গরম হয়ে যাওয়ার ফলে এক ঘণ্টা করে বন্ধ রাখা হয়েছে। আজ (গতকাল) সকালে রোগীদের ডেঙ্গু পরীক্ষার রিপোর্ট দিতে পেরেছি।’

এই চিকিৎসক বলেন, ‘ডেঙ্গুজ্বরের পরীক্ষার জন্য গত ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ রোগী পরীক্ষা করানো হয়েছে। এর ২০ পার্সেন্টের মতো ডেঙ্গু ধরা পড়েছে। প্রতি পাঁচজনে একজনের ডেঙ্গুজ্বর ধরা পড়েছে। অনেকে সর্দি, কাশি ও শরীর ব্যথা হলে ভয়ে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার জন্য আতঙ্কে আসছে হাসপাতালে।’

হাসপাতালের সহকারী পরিচালক বলেন, ‘ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা আগের চেয়ে কিছুটা কমেছে। ঈদের ছুটিতে অনেকে ঢাকা ছেড়েছে। তবে রোগীর সংখ্যা যে সামনে বাড়বে না, সে ব্যাপারে আমরা নিশ্চিত নই। যতদিন বৃষ্টির মৌসুম থাকবে, ততদিন ডেঙ্গু মশা বংশবিস্তার ঘটাবে। আগামীতে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়লে যেসব প্রস্তুতি থাকা প্রয়োজন, সেগুলো আমাদের নেওয়া আছে।’

হাসপাতালের পরিসংখ্যান বিভাগ জানায়, গত বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার ডেঙ্গুজ্বরে বড়দের চেয়ে শিশুরা বেশি আক্রান্ত হয়। শুক্র ও শনিবার ৪৩ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। গত শুক্রবার রোগী ভর্তি ছিল ৭৯ জন। গতকাল পর্যন্ত ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত রোগী ভর্তি ছিল ৪২২ জন। তার মধ্যে পুরুষ ওয়ার্ডে রোগীর সংখ্যা ১১৪ ও নারী ওয়ার্ডে ১৪২। শিশু ওয়ার্ডে ভর্তি আছে ১৬৬ জন। এখন পর্যন্ত চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে ২ হাজার ১৪১ জনকে। তার মধ্যে ১ হাজার ৭১৯ জনকে সুস্থ করে তোলা হয়েছে। এই হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বরে এখন পর্যন্ত ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।  

গতকাল হাসপাতালে ডেঙ্গুজ্বর পরীক্ষার রিপোর্ট নিতে আসা রাবেয়া বেগম বলেন, ‘গত দুই দিন থেকে মেয়ের শরীর ব্যথা ও হালকা জ্বর। ডেঙ্গুজ্বর নিশ্চিতের জন্য মেয়েকে নিয়ে (গত) শুক্রবার সকালে হাসপাতালে আসি। চিকিৎসক সিবিসি ও এনএস-১ পরীক্ষার জন্য বলেন। প্যাথলজি বিভাগ থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে শনিবার (গতকাল) সকাল ৯টায় আমাকে আসতে বলা হয়। আমি সকাল ১১টার দিকে এসে রিপোর্ট সংগ্রহ করি। রিপোর্ট ভালো এসেছে। মেয়ের ডেঙ্গুজ্বর হয়নি।’

হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগের সামনে ভর্তি ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত এক রোগীর স্ত্রীর সঙ্গে কথা হয়। তার নামও রাবেয়া বেগম। তিনি বলেন, ‘গত মঙ্গলবার চিকিৎসকের পরামর্শে সিবিসি ও এনএস-১ পরীক্ষা করা হয়। ডেঙ্গুজ্বর ধরা পড়ায় গত বুধবার দুপুরে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করি। চিকিৎসকরা ভালো চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। তবে কিছু কর্তব্যরত নার্স অবহেলা করছেন। প্রয়োজনীয় কাজে তাদের আশানুরূপ সহযোগিতা পাওয়া যাচ্ছে না।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত