চলতি মাসের ১৭ দিনেই সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৩৩ হাজার ১৫ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, যা জুলাই মাসের মোট আক্রান্তের দ্বিগুণ। ওই মাসে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল ১৬ হাজার ২৫৩ জন। এদিকে গত শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় দেশের হাসপাতালগুলোতে নতুন ভর্তি হয়েছে ১ হাজার ৪৬০ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেন্টার অ্যান্ড কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এ ছাড়া সারা দেশে ডেঙ্গু আক্রান্তে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। দেশ রূপান্তরের হিসাবে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১০৪ জনে পৌঁছেছে। তবে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এখন পর্যন্ত ৪০ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি রোগীর মধ্যে রাজধানীর ৪১ সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৬২১ জন ও ঢাকার বাইরে বিভাগীয় হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ৮৩৭ জন। অর্থাৎ গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা ও ঢাকার বাইরে আগের দিনের তুলনায় রোগীর সংখ্যা কমেছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮ পর্যন্ত ঢাকায় নতুন রোগী ভর্তি হয়েছিল ৭৬১ জন ও ঢাকার বাইরে ৯৬০ জন।
অধিদপ্তরের গত দুই সপ্তাহের প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত ৭ দিনে আগের ৭ দিনের তুলনায় মোট রোগী কমেছে ২ হাজার ৬৩২ জন। শতকরা হিসাবে যা ১৭ শতাংশেরও বেশি। গত সপ্তাহে সারা দেশে মোট ভর্তি হয়েছিল ১২ হাজার ৬২৯ জন। ওই সপ্তাহে সবচেয়ে কম রোগী ভর্তি হয়েছিল ঈদের দিন ১২০১ জন। তার আগের সপ্তাহে সারা দেশে মোট রোগী ভর্তি হয়েছিল ১৫ হাজার ২৬১ জন। অর্থাৎ গড়ে প্রতিদিন ২১৮০ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছিল। এ সপ্তাহে গড় আক্রান্তের সংখ্যা কমে ১ হাজার ৮০৪ জনে নেমেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর আরও জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত সারা দেশে মোট ৫১ হাজার ৪৭৬ ডেঙ্গু রোগী বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়। আক্রান্তদের মধ্যে মারা গেছে ৪০ জন। এছাড়া সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছে ৪৩ হাজার ৫৮০ রোগী। ডেঙ্গুতে গত মাসে মৃতের সংখ্যা ছিল ২৪ জন। চলতি মাসের ১৭ আগস্ট পর্যন্ত মারা গেছে ১০ জন। এখন পর্যন্ত তারা ৭০টি মৃত্যু পর্যালোচনা করেছে।
ঢাকায় আক্রান্তদের মধ্যে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে ৬৫৮ জন, মিটফোর্ড হাসপাতালে ৪২৫ জন, ঢাকা শিশু হাসপাতালে ১১২ জন, শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ৪২২ জন, মুগদা মেডিকেল কলেজে ৩৮৭ জন। এছাড়া ঢাকা শহরের বাইরে জেলা শহরে ৮৩১ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ৭৮৯ জন, খুলনা বিভাগে ৬৩৭ জন, রংপুর বিভাগে ২৭৪ জন, রাজশাহী বিভাগে ৪১৭ জন, বরিশাল বিভাগে ৫২৯, সিলেট বিভাগে ৪০ জন এবং ময়মনসিংহ বিভাগে ২৯৬ জন।
আরও ৩ জনের মৃত্যু : এদিকে সারা দেশে ডেঙ্গুতে আরও ৩ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছেন আমাদের জেলা প্রতিনিধিরা। এদের মধ্যে একজন ৬ মাস বয়সী শিশুও রয়েছে। দেশ রূপান্তরের হিসাবে এ নিয়ে গত এক সপ্তাহে ডেঙ্গুতে ৮ জন শিশু মারা গেল।
ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে আক্রান্ত হয়ে গতকাল শনিবার রাতে ঢাকা শিশু হাসপাতালে ছয় মাস বয়সী শিশু আয়াজুর রহমান মারা যায়। তাকে গত ১৪ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল মনোয়ারা বেগম (৪৪) নামে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তার বাড়ি কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলায়। স্বজনরা জানায়, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মনোয়ারা ২৩ আগস্ট ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি হয়। অবস্থার অবনতি হলে সেদিনই তাকে নিবিড় পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়। এ নিয়ে দেশ রূপান্তরের হিসাবে কিশোরগঞ্জে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা পাঁচজন।
ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গতকাল সুমন বাশার রাজ (১৮) নামে এক কলেজছাত্রের মৃত্যু হয়েছে। তার গ্রামের বাড়ি মাগুরা জেলার চাঁদপুর গ্রামে। মিজানুর রহমানের ছেলে সুমন মাগুরা সরকারি কলেজের দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। হাসপাতালের সহকারী পরিচালক মোস্তাফিজুর রহমান বুলু বলেন, ‘১২ আগস্ট বিকেলে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে সুমন এই হাসপাতালে ভর্তি হয়। সুমনের ডেঙ্গুর সংক্রমণ মস্তিষ্কে আঘাত হানে। শনিবার সকাল পৌনে ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। আমরা তাকে সুস্থ করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছি।’
