চামড়ার আড়তদারদের পাওনা দ্রুত পরিশোধের আশ্বাস

আপডেট : ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৫৩ এএম

ট্যানারি মালিকরা গতকাল শনিবার থেকে কাঁচা চামড়া কেনা শুরু করেছেন এবং আগামী দুই মাস ধরে সরকার নির্ধারিত দামেই তারা চামড়া সংগ্রহ করবেন বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. সাখাওয়াত উল্লাহ। এ ছাড়া চামড়া কেনার পাশাপাশি আড়তদারদের পাওনা টাকাও দ্রুত পরিশোধ করা হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। গতকাল শনিবার সকালে সাভারের চামড়া শিল্পনগরীতে এক অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এসব কথা জানান ট্যানারি মালিক সমিতির এই নেতা। 

সাখাওয়াত উল্লাহ বলেন, ‘শনিবার ময়মনসিংহের শম্ভুগঞ্জ হাটসহ বিভিন্ন হাটে চামড়া কেনাবেচা শুরু হয়েছে। আড়তদাররা নগদ টাকা ছাড়া চামড়া বিক্রি করবেন না এমন একটি ভুল তথ্যের কারণে পোস্তা ও চট্টগ্রামে শনিবার কোনো চামড়া কেনা না হলেও অন্যান্য হাটে চামড়া ক্রয় করা শুরু হয়েছে।’

সরকার নির্ধারিত দামে চামড়া কেনার বিষয়ে এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘যে সকল চামড়ার গুণগত মান ভালো আছে সেগুলো সরকার নির্ধারিত মূল্যেই ক্রয় করা হবে। তবে যে সকল চামড়া কিছুটা নষ্ট হয়ে গেছে সেগুলোর দাম কিছুটা কম হবে।’

ট্যানারি মালিকদের কাছে আড়তদারদের বকেয়া পাওনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আড়তদাররা ঠিক কত টাকা পাওনা আছেন সেটা আমার জানা নাই। তবে তাদের সাথে প্রতি বছর ১২০০ থেকে ১৪০০ কোটি টাকার ব্যবসায়িক লেনদেন হয়।’

ট্যানার্স অ্যাসোসিয়েশন সাধারণ সম্পাদক আরও বলেন, ‘গত দুই বছর আন্তর্জাতিক বাজারে চামড়ার দাম কম। আন্তর্জাতিক বাজারে যখন দাম কমে যায় তখন আর আমাদের কিছু করার থাকে না। গত দুই বছরের লোকসানের কারণে ট্যানারিগুলো খুব খারাপ পজিশনে আছে। তবে আশা করছি, আগামী বছর আমাদের ব্যবসা ভালো হবে এবং আমরা সকল দায়-দেনা পরিশোধ করে দিতে পারব।’

অন্যদিকে একই অনুষ্ঠান শেষে বাংলাদেশ ফিনিশড লেদার, লেদার গুডস অ্যান্ড ফুটওয়্যার এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএলএলএফইএ) সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান মো. দিলজাহান ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, ‘দেশে কোরবানির সময় যে চামড়াটা সংগ্রহ করি, তা দিয়ে আমাদের ট্যানারিগুলো তিন থেকে চার মাস চলে। তারপর সারা বছর আমরা যে চামড়াটা পাই সেগুলো দিয়ে কোনো ট্যানারি ৫০ ভাগ চলে, কোনো ট্যানারি ২০ ভাগ চলে। কাঁচা চামড়ার অভাবে কোনো ট্যানারিই আমরা শতভাগ চালাতে পারি না। এই অবস্থায় সরকার কাঁচা চামড়া রপ্তানির যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে তা প্রত্যাহার করা না হলে আমাদের হাজার হাজার শ্রমিক বেকার হয়ে যাবে এবং আমরা দেউলিয়া হয়ে যাব। আমরা নিজের ও ব্যাংকেরসহ অন্যান্য সোর্স থেকে প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা সংগ্রহ করে এখানে বিনিয়োগ করেছি। কাঁচা চামড়া রপ্তানি করা হলে ব্যাংকের ঋণের টাকা বা আড়তদারদের টাকাও পরিশোধ করতে পারব না।’

এর আগে শনিবার সকালে সাভার চামড়া শিল্পনগরী পরিদর্শনে আসেন শিল্প সচিব মো. আব্দুল হালিম। তিনি প্রথমে ট্যানারি মালিকদের নিয়ে একটি সভা করেন। পরে তিনি প্রকল্পের কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়ে সাংবাদিকদের অবহিত করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত