রপ্তানির বিপরীতে আমদানি প্রবৃদ্ধি কম হওয়ায় বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্যে এক বছরের ব্যবধানে কিছুটা স্বস্তিদায়ক অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ। ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি ছিল ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১৪ দশমিক ৮ শতাংশ কম। একই সময়ে বৈদেশিক লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতি উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংক সোমবার লেনদেন ভারসাম্যের হালনাগাদ যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৮-১৯ অর্থবছরে রপ্তানি আয় (ইপিজেডসহ) হয়েছে ৩ হাজার ৯৯৪ কোটি ৫০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ১০ দশমিক শূন্য ৯ শতাংশ বেশি। মূলত তৈরি পোশাক রপ্তানি বাড়ায় বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি কিছুটা কমেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে তৈরি পোশাক থেকে রপ্তানি আয় হয়েছে ৩ হাজার ৪১৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১১ দশমিক ৪৯ শতাংশ বেশি।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে দেশের আমদানি ব্যয় ছিল ৫ হাজার ৫৪৩ কোটি ৯০ লাখ ডলার, যা আগের বছরের চেয়ে ১ দশমিক ৭৯ শতাংশ বেশি। ফলে ২০১৮-১৯ বছরে বৈদেশিক লেনদেনে ঘাটতি দাঁড়ায় ১ হাজার ৫৪৯ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ৮১৭ কোটি ৮০ লাখ ডলার। এ হিসাবে আগের অর্থবছরের তুলনায় ২০১৮-১৯ সময়ে বৈদেশিক লেনদেনের ঘাটতি কমেছে ২৬৮ কোটি ৪০ লাখ ডলার। এ সময় সেবা বাণিজ্যে ঘাটতি কমে দাঁড়িয়েছে ৩৭১ কোটি ৬০ লাখ ডলারে, যা আগের অর্থবছরে ছিল ৪২০ কোটি ১০ লাখ ডলার।
মূলত জাতীয় নির্বাচন ঘিরে ২০১৮-১৯ অর্থবছরে আমদানির গতি কমে আসে বলে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। এ কারণেই বাণিজ্য ঘাটতির পাশাপাশি লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতিও কমেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, গত অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবের ঘাটতিও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমেছে।
২০১৮-১৯ অর্থবছরে লেনদেন ভারসাম্যের চলতি হিসাবে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৫২৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এই ঘাটতি ছিল ৯৫৬ কোটি ৭০ লাখ ডলার। এই হিসাবে এক বছরে লেনদেন ভারসাম্যে ঘাটতি কমেছে ৪৫ শতাংশ। ২০১৬-১৭ অর্থবছরে এই ঘাটতির পরিমাণ ছিল ১৩৩ কোটি ১০ লাখ ডলার। তবে খাদ্য আমদানির পরিমাণ বেড়ে যাওয়ায় ২০১৭-১৮ অর্থবছরে ৯৭৮ কোটি ডলারের রেকর্ড ঘাটতি নিয়ে ২০১৭-১৮ অর্থবছর শেষ করেছিল বাংলাদেশ।
সাধারণভাবে কোনো দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝা যায় চলতি হিসাবের মাধ্যমে। আমদানি-রপ্তানিসহ অন্যান্য নিয়মিত আয়-ব্যয় এতে অন্তর্ভুক্ত হয়। এখানে উদ্বৃত্ত হলে চলতি লেনদেনের জন্য দেশকে কোনো ঋণ করতে হয় না। আর ঘাটতি থাকলে তা পূরণ করতে ঋণ নিতে হয়।
এদিকে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগেরও উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে। ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশি বিনিয়োগ ও বিদেশি সহায়তা ছাড়ের পরিমাণ ছিল ৪৫০ কোটি ডলার, যা আগের অর্থবছরের চেয়ে ৩৬ দশমিক ৮১ শতাশ বেশি। তবে অনিবাসী বাংলাদেশিদের বিনিয়োগ কমায় ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিদেশি পোর্টফোলিও বিনিয়োগ প্রায় ৫১ শতাংশ কমেছে। এই সময়ে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি ঋণ বাবদ দেশে এসেছে ৫৯৫ কোটি ৪০ লাখ ডলার, যা আগের অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ কম।
