অক্টোবরে ভারত সফরে যাবেন প্রধানমন্ত্রী

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৪১ এএম

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ভারত সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। ঢাকা সফররত ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর শেখ হাসিনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তার হাতে নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণপত্র তুলে দিয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে গণভবনে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। পরে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীকে ভারতে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। শেখ হাসিনা এ আমন্ত্রণের জন্য নরেন্দ্র মোদিকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।

এর আগে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আবদুল মোমেনের সঙ্গে বৈঠক করেন এস জয়শঙ্কর। প্রায় দেড় ঘণ্টা ধরে চলা এ বৈঠকে তিস্তা চুক্তিসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়।

সর্বশেষ ২০১৭ সালে ভারতে দ্বিপক্ষীয় সফর করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর শান্তি নিকেতনে ‘বাংলাদেশ ভবন’-এর উদ্বোধন এবং বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে যোগ দিতে দুই দিনের ভারত সফর করেন তিনি। ইহসানুল করিম বলেন, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। আমাদের বোঝাপড়া, বিভিন্ন খাতের সহযোগিতাÑ এগুলো আরও গতিশীল হয়েছে। দুদেশের মধ্যে মানুষের যাতায়াত আরও সহজ করতে নয়া দিল্লি কাজ করছে বলে জানান জয়শঙ্কর।

জ্বালানি খাতে বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সহযোগিতার আগ্রহের কথা উল্লেখ করে জয়শঙ্কর খরচ কম হওয়ায় জলবিদ্যুৎ খাতে সহযোগিতার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। প্রেস সচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রাম, মোংলা ও পায়রা বন্দরকে ব্যবসা-বাণিজ্যের ক্ষেত্রে আরও ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। তিনি বলেছেন, দুদেশের মধ্যে কানেকটিভিটি সম্প্রসারিত হচ্ছে। নতুন অনেক রুট বাড়ছে।

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের মধ্যে চমৎকার দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক এবং বিভিন্ন খাতে দারুণ সহযোগিতা রয়েছে।

ইহসানুল করিম বলেন, দুদেশের মধ্যে অনেক সমস্যা সমাধানের কথা উল্লেখ করেন প্রধানমন্ত্রী। এক্ষেত্রে বিশেষ করে স্থল সীমান্ত চুক্তি বাস্তবায়নের কথা তুলে ধরেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, স্থল সীমান্ত চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এটা বিশ্বে একটা উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। ভারতের পার্লামেন্টে সব দল এই চুক্তি পাশের সময় একযোগে সমর্থন দিয়েছিল।

ভারত বাংলাদেশের ‘অকৃত্রিম বন্ধু’ উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশকে সহযোগিতা অব্যাহত রেখেছে ভারত। সৌজন্য সাক্ষাতে উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আবদুল মোমেন, ভারতে বাংলাদেশের হাইকমিশনার সৈয়দ মোয়াজ্জেম আলী, বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার রিভা গাঙ্গুলি দাস, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান। পররাষ্ট্রমন্ত্রী হওয়ার পর সোমবার রাতে প্রথম বাংলাদেশ সফরে আসেন জয়শঙ্কর। তিন দিনের সফর শেষে আগামীকাল বুধবার ঢাকা ত্যাগ করবেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত