সারা বছর মশা নিধনে সরকার ও সিটি করপোরেশনের দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ কী তা জানতে চেয়েছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ঢাকায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে কতসংখ্যক মানুষ হাসপাতালে ভর্তি রয়েছে সে তথ্য চেয়েছে আদালত। একই সঙ্গে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনে মশা নিধনে কতজন কর্মী নিয়োজিত রয়েছে এবং তারা কীভাবে দায়িত্ব পালন করছে তাও জানাতে হবে হাইকোর্টকে।
আদালত আইনজীবীদের ডেঙ্গুর উপদ্রব ও রোগী না কমায় উষ্মা প্রকাশ করে ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন ও রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলে, ‘মশার ওষুধে তো কাজ হচ্ছে না। প্রতিদিনই নতুন নতুন রোগী ভর্তি হচ্ছে। যারা আক্রান্ত হচ্ছে না, তাদের আল্লাহ বাঁচাচ্ছেন।’
বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি মো. সোহরাওয়ার্দীর সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে গতকাল মঙ্গলবার মশা নিধনে বিদেশ থেকে ওষুধ আনা এবং তা প্রয়োগসহ ডেঙ্গু প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপের বিষয়ে অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের শুনানিতে এসব আদেশ দেয় ও উষ্মা প্রকাশ করে। আগামী ২৬ আগস্ট এ সংক্রান্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশনা দিয়ে ওইদিন পরবর্তী শুনানির জন্য ধার্য রাখা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল কাজী মাঈনুল হাসান। ঢাকার উত্তর সিটি করপোরেশনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী তৌফিক ইনাম। শুনানিতে আইনজীবীরা জানান, মশা নিধনে অভিযানসহ বিভিন্ন সচেতনতামূলক পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত জনবল নিয়োগে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। নতুন ওষুধ এনে প্রয়োগ করা হচ্ছে। প্রতিনিয়ত কর্মীদের কাজ মনিটর করা হচ্ছে।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী মাঈনুল হাসান জানান, মশা নিধনে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ৭ কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
উত্তর সিটি করপোরেশনের আইনজীবী আদালতকে জানান, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে। ঢাকাতেও কমা শুরু হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সুপারিশের ভিত্তিতে মশা নিধনের ওষুধ এনে এর প্রয়োগ শুরু হয়েছে। এই ওষুধ কাজ করছে এবং মশা মরছে।
আইনজীবীদের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত বলে, ‘মশা ও ডেঙ্গুর উপদ্রব কমছে বলে যেটি বলা হচ্ছে, সেটি পরিবেশের জন্য। ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না সেটি খোঁজ নিলেই বোঝা যাবে। আমরা দেখব রোগী কমছে কি না।’
আদালত আরও বলে, ‘ওষুধে কাজ হচ্ছে কি না তা জানা যাবে হাসপাতালগুলোতে গেলে। হাসপাতালে নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হলে বোঝা যাবে ওষুধে কাজ হচ্ছে না। আমরা এত কিছু দেখব না। হাসপাতালে নতুন কোনো রোগী না এলে আমাদের উদ্বেগ থাকবে না।’ ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের পরিস্থিতি না হয় সেজন্য তদন্ত হওয়া দরকার বলে মন্তব্য করে আদালত।
ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিসসহ মশাবাহিত রোগ ছড়ানো নিয়ে গণমাধ্যমে আসা প্রতিবেদন আমলে নিয়ে গত ১৪ জুলাই স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে রুল দেয় হাইকোর্টের এই বেঞ্চ। ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়াসহ মশাবাহিত রোগ প্রতিরোধে কী ধরনের পদক্ষের নেওয়া হয় রুলে তা জানতে চাওয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় দুই সিটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তাকে তলব করে হাইকোর্ট। এরপর হাইকোর্টকে দুই সিটি করপোরেশন ও স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় প্রতিশ্রুতি দেয় যে দেশের বাইরে থেকে মশা নিধনের নতুন ওষুধ এনে তা প্রয়োগ করা হবে।
