একনেক সভা

প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০১৯, ০৩:৪৮ এএম

প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতিতে জড়িতদের শাস্তি নিশ্চিতের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল মঙ্গলবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের (এনইসি) সম্মেলনকক্ষে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) সভায় এমন নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌর শহর সংরক্ষণ প্রকল্পটি (প্রথম সংশোধন) অনুমোদনকালে প্রধানমন্ত্রী এই নির্দেশনা দেন। প্রকল্পে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে ২৭৭ কোটি ৯৮ লাখ টাকা। একনেক সভা শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান এ কথা বলেছেন।

বৈঠক শেষে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান সাংবাদিকদের ব্রিফ করলেও ওই প্রকল্পে দুর্নীতিতে জড়িত প্রকৌশলীর নাম বলেননি। পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন সূত্রেও সেই প্রকৌশলীর নাম জানা যায়নি।

পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, ‘ভোলা জেলার চরফ্যাশন পৌরসভার সংরক্ষণের জন্য একটি সংশোধিত প্রকল্প এসেছে। এখানে আর একটি প্রকল্প অতীতে করা হয়েছিল, যেখানে গাফিলতি ছিল। সেই ইঞ্জিনিয়ারের ভুলের জন্য ওই প্রকল্পে আমাদের বহু ক্ষতি হয়েছিল। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হয়নি এবং সবকিছুই জলে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, ওই একই লোক নাকি এখানে আবার ইঞ্জিনিয়ার। হাউ ইস ইট পসিবল? তার ভুলের জন্য আমাদের এত বড় ক্ষতি হয়েছে তাকে তিরস্কার না করে তাকে পুরস্কৃত করা হচ্ছে, এটা গ্রহণযোগ্য নয়।’

পরিকল্পনামন্ত্রী আরও বলেন, ‘সেখানে উপস্থিত পানিসম্পদমন্ত্রী বলেছেন, তিনি নাকি এই বিষয়ে অবহিত রয়েছেন। তিনি নিজেই বিষয়টি দেখছেন। একনেক সভা শেষে তিনি (মন্ত্রী) এবং তার সচিব গিয়েই এর বিরুদ্ধে জোরালো ভূমিকা নেবেন এবং তার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একনেক বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, সবজি রপ্তানি বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশ বিমানকে দুটি কার্গো বিমান কেনার বিষয়ে চিন্তা করতে বলেছেন প্রধানমন্ত্রী। কারণ কৃষিপণ্য রপ্তানি বেড়েছে। অন্য বিমানে বেশি ভাড়া নিয়ে পাঠাতে হচ্ছে বলে অনেক টাকা খরচ হচ্ছে। দুটি কার্গো বিমান কিনলে অনেক কম খরচেই রপ্তানি করা যাবে। এ ছাড়া নভেম্বর মাসে আরও একটি ড্রিমলাইনার বিমান আসছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আরও কিছু নির্দেশনার বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী জানান, পর্যায়ক্রমে সারা দেশের বিদ্যুৎ লাইন মাটির নিচ দিয়ে করতে হবে। নতুন করে স্লুইচ গেট নির্মাণ না করারও নির্দেশনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। কেননা এসব গেট মরিচা পড়ে কয়েক দিনের মধ্যে নষ্ট হয়ে যায়। আর কাজ করে না। তাই একেবারেই অপরিহার্য না হলে এসব গেট নির্মাণ করা যাবে না।

হাওর অঞ্চলে সড়ক নির্মাণ সংক্রান্ত একটি প্রকল্প অনুমোদন দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, প্রকৃতিকে বাধা দিয়ে কিছু করা যাবে না। তাই এসব সড়কে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহের জন্য প্রচুর ব্রিজ বা কালভার্ট রাখতে হবে। তা ছাড়া যেখানে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে করা যায়, সেখানে সেটিই করতে হবে।

এম এ মান্নান আরও বলেন, কোনো এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করা হলে সেই প্রকল্পের সঙ্গে গাছ লাগানোর জন্যও বরাদ্দ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ ক্ষেত্রে কোনো প্রকল্প প্রস্তাবে গাছ লাগানোর প্রস্তাব থাকলে তা কেটে না দেওয়ার জন্য পরিকল্পনা কমিশনকে বলেছেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত