নিজের মতকে প্রতিষ্ঠা করা কিংবা পৃথিবী বদলে দিতে চাওয়া সহজ ব্যাপার নয়। নারী হলে তা আরও কঠিন। তবে এই কঠিন কাজটিই করে দেখিয়েছেন অন্তত এক ডজন নারী। নিজের মতকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে তাদের সবাই ব্যবহার করেছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমকে। আলোচিত এমন ১২ নারীকে নিয়ে লিখেছেন পরাগ মাঝি
মারলে দিয়াস
২০১৫ সালে মাত্র ১১ বছর বয়সেই আন্তর্জাতিক দৃষ্টি কাড়তে সক্ষম হন মারলে দিয়াস। ওই বয়সেই তিনি তার স্কুলের পাঠ্যক্রমে বৈচিত্র্যহীনতার অভিযোগ তোলেন। একদিন তিনি তার মায়ের কাছে বলেন, ‘স্কুলের পাঠ্যবইগুলোর সবই শ্বেতাঙ্গদের নিয়ে। কিন্তু আমি যা পড়তে চাই তার কোনো কিছুরই অস্তিত্ব নেই সেখানে।’ এরপরই কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েরা প্রধান চরিত্র এমন কিছু উপন্যাস কিংবা সাহিত্য সংক্রান্ত বই সংগ্রহ করার পরিকল্পনা করেন তিনি। আর এ জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #১০০০ নষধপশমরৎষনড়ড়শং শিরোনামে একটি প্রচারণা শুরু করেন। মারলের লক্ষ্য ছিল কৃষ্ণাঙ্গ মেয়েদের প্রধান উপজীব্য করে অন্তত ১ হাজার বই সংগ্রহ করবেন তিনি এবং এগুলো কালো রঙের মেয়েদের মাঝে বিতরণ করবেন। তার এই প্রচারণা খুব শিগগিরই ভাইরাল হয়ে যায় এবং মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই অন্তত ৯ হাজার বই বিভিন্ন জনের কাছ থেকে তার সংগ্রহে চলে আসে। এই বইগুলোর বেশিরভাগই জ্যামাইকার বিভিন্ন লাইব্রেরিতে দান করা হয়। আমেরিকার ফিলাডেলফিয়ায় জন্ম হলেও মারলে মূলত জ্যামাইকান বংশোদ্ভূত। তার নামের প্রথম অংশটি কিংবদন্তি জ্যামাইকান গায়ক বব মারলের নাম থেকে নেওয়া।
রিনা সোয়াইয়ামা
রিনা সোয়াইয়ামা তারুণ্যের মধ্যে সাড়া জাগাতে সক্ষম হন ২০১৬ সালে। ওই বছরই ব্রিটিশ এই মডেল ও গায়িকার ‘হয়ার ইউ আর’ গানটি মুক্তি পায়। ডিজিটাল মাধ্যমে একে অপরের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ আকুলতা নিয়ে এই গানটি। স্বল্পতম সময়ের মধ্যেই তার গান নারীবাদের বলিষ্ঠ কণ্ঠ হয়ে ওঠে। ব্যক্তিগত জীবনে রিনা প্যানাসেক্সুয়াল। তার এই প্যানাসেক্সুয়াল জীবনের অভিজ্ঞতা তিনি গানে গানে ভক্তদের সঙ্গে শেয়ার করেন। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বিশেষ করে টুইটারে গণমাধ্যমে সাংস্কৃতিক আগ্রাসন নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেন। ইন্সটাগ্রামে রিনার প্রায় দেড় লাখ অনুসারী রয়েছে। তারুণ্যের কাছে তার বলিষ্ঠ বার্তা এবং মতামত বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। ১৯৯০ সালে জাপানের নিগাটায় রিনার জন্ম হলেও পাঁচ বছর বয়সে পরিবারের সঙ্গে তিনি যুক্তরাজ্যের লন্ডনে পাড়ি জমিয়েছিলেন।
শিদেরা এগান
২০১৭ সালে মাত্র ২৪ বছর বয়সে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পরিচিত মুখ হয়ে ওঠেন শিদেরা এগান। তার এই পরিচিতির নেপথ্যে #ঝধমমুইড়ড়নংগধঃঃবৎ শিরোনামে একটি প্রচারণা। টুইটার এবং ইন্সটাগ্রামে এই প্রচারণাটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘এটি মূলত ছোট বক্ষের নারীদের জন্য যাদের ব্রা না পরলেও চলে।’ তার মতে, যেসব নারীর বক্ষ বড় আকৃতির এবং খানিক ঝুলে গেছে তারা ব্রা পরতেই পারে। জানা যায়, কিশোরী বয়সে ছোট আকৃতির বক্ষ নিয়ে হীনমন্যতায় ভুগতেন শিদেরা। কিন্তু পরে তার আত্মোপলব্ধি ঘটে এবং নিজের শারীরিক কাঠামোকে সানন্দে গ্রহণ করেন। এরপরই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নিজের একটি ব্রা ছাড়া বক্ষের ছবি পোস্ট করে #ঝধমমুইড়ড়নংগধঃঃবৎ প্রচারণা শুরু করেন।
যুক্তরাজ্যে লন্ডনের দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত পেকহ্যাম এলাকায় একটি ব্রিটিশ নাইজেরিয়ান কলোনিতে বেড়ে উঠেছেন শিদেরা। ডিপ্রেশনের জন্য তিনি ফ্যাশন ডিজাইনের ওপর পড়াশোনা শেষ করতে না পারলেও বর্তমানে একজন আলোচিত ফ্যাশন ডিজাইনার হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। ফ্যাশন নিয়ে তিনি নিয়মিত ব্লগ লেখেন, আছে বইও।
তারানা বুরকে
যুক্তরাষ্ট্রের আলবামায় বসবাসকারী তারানা বুরকে ‘হ্যাশট্যাগ মিটু’ (#গবঞড়ড়) আন্দোলনের জননী বলা হয়। ২০১৭ সালের অক্টোবরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই আন্দোলন দানা বেঁধে ওঠে। তারানা বুরকে এই আন্দোলনের বীজ বপন করেছিলেন ২০০৬ সালেই। সে সময় একজন ১৩ বছর বয়সী কিশোরী যৌন নিপীড়নের শিকার হলে বুরকে তার ‘মাইস্পেস’-এর অ্যাকাউন্টে #গবঞড়ড় শিরোনামে সরব হয়ে ওঠেন। ওই ঘটনার ১১ বছর পর হলিউড অভিনেত্রী এলিসা মিলানো ‘হ্যাশট্যাগ মি টু’ শিরোনামে যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া নারীদের টুইটারে সরব হওয়ার আহ্বান জানান। এরই ধারাবাহিকতায় একে একে অসংখ্য নারী তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া যৌন নিপীড়নের ঘটনা টুইটার ছাড়িয়ে ফেইসবুকসহ অন্যান্য সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে শুরু করেন। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে হলিউডের শক্তিশালী প্রযোজক হার্ভে উইস্টেইনকে বিচারের মুখোমুখি ও দোষী সাব্যস্ত করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখন পর্যন্ত ১ কোটি ৯০ লাখ বারেরও বেশি #গবঞড়ড় ব্যবহার করা হয়েছে। সামাজিক এই আন্দোলনের জননী বুরকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এখনো অব্যাহতভাবে তার যৌন নিপীড়নবিরোধী আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। আলবামায় বাস করলেও বুরকের জন্ম ও বেড়ে ওঠা নিউ ইয়র্কে।
সোফি স্যান্ডবার্গ
রাস্তায় চলতে গিয়ে পুরুষদের নানা রকমের তির্যক মন্তব্যের শিকার হয়েছেন সোফি। অনবরত এসব ইভটিজিংয়ের ফলে তিনি ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু এ সময়ই জ্বলে ওঠেন তিনি। সমাজ থেকে এই ধরনের ব্যাধি দূর করার জন্য তিনি ইন্সটাগ্রামকে বেছে নেন এবং হাতে তুলে নেন নানা রঙের চক। ২০১৬ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নিউ ইয়র্কের রাস্তায় রং-বেরঙের চক দিয়ে ওই সব শব্দ, বাক্য এবং ঘটনা লিখতে শুরু করেন যেগুলো এতদিন তাকে উদ্দেশ্য করে পুরুষরা উচ্চারণ করেছে। বিবিসি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘লেখাগুলো সেখানেই লেখা হয়েছে, যেখানে ওই ধরনের কথাগুলো বলা হয়েছিল। এমন মনোভাব যারা পোষণ করেন, তারা এগুলো পড়ে যেন একবার ভাবেনÑ ওহ! এই বাজে কথাগুলো তো আমারই।’ ইন্সটাগ্রামে এই ধরনের কার্যক্রমের মাধ্যমে দারুণ সাড়া ফেলেন সোফি। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে তার এই কার্যক্রমের সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন অসংখ্য নারী। এসব নারীর মধ্যে অনেক বাংলাদেশিও আছেন।
হান্না উইটন
হান্না একজন ইউটিউবার এবং লেখিকা। নিজের ইউটিউব চ্যানেল এবং লেখালেখির মাধ্যমে তিনি যৌনস্বাস্থ্য, নারী-পুরুষের সম্পর্ক এবং বিভিন্ন নারী ইস্যু নিয়ে কাজ করেন। ২০১১ সালে মাত্র ১৯ বছর বয়সে তিনি তার কার্যক্রম শুরু করেছিলেন। বর্তমানে তার চ্যানেলটি সাবস্ক্রাইব করেছে পাঁচ লাখেরও বেশি মানুষ। হান্না খুবই স্বতঃস্ফূর্ত নারী। লাইভ ভিডিওতে মাঝেমাঝেই তিনি তার ফলোয়ারদের সঙ্গে খোলামেলা আলোচনায় অংশ নেন। অনেক সময় তার এসব আলোচনার বিষয়বস্তু হয়Ñ কত জনের সঙ্গে তিনি যৌনতা করেছেন কিংবা পর্নো দেখার সুবিধা ইত্যাদি। শারীরিক ইতিবাচকতায় গুরুত্ব দেন এই ব্লগার। তার চ্যানেলের সবচেয়ে বেশিবার ভিউ হওয়া ভিডিওটির বিষয়বস্তু হলোÑ বড় বক্ষের নারীরা কীভাবে তা সামলান, তা নিয়ে। ভিডিওটি প্রায় ৮০ লাখ বার দেখেছে দর্শক। ইংল্যান্ডের ম্যানচেস্টারে জন্ম হলেও বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে বসবাস করছেন। ২০১৮ সালে বর্ষসেরা ব্লগার হিসেবে তিনি ‘ব্লগ স্পেয়ার এওয়ার্ড’ জয় করেন।
আজোয়া আবোয়াহ্
ব্রিটিশ মডেল আজোয়া আবোয়াহ্ একসময় প্রচ- ডিপ্রেশনে ভুগেছিলেন। তাই এর ভয়াবহতা সম্পর্কে তিনি বেশ ভালোভাবেই অবগত আছেন। আর এই কারণে ২০১৫ সালে তিনি ইন্সটাগ্রামে মেয়েদের মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক একটি কম্যুনিটি অ্যাকাউন্ট খোলেন। ‘গার্লজ টক’ নামের এই কম্যুনিটি বর্তমানে অসংখ্য নারীর মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে। এই মাধ্যমে নারীরা নির্ভয়ে তাদের মানসিক অবস্থা সম্পর্কে আলোচনা করে। ‘গার্লস টক’ কম্যুনিটি বর্তমানে সাপ্তাহিক অডিও বিবরণী প্রকাশ ছাড়াও বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীর নারীদের মধ্যে একটি যোগাযোগ স্থাপনের চেষ্টা করছে। বিবিসি’কে আজোয়া বলেন, ‘বালক-বালিকারা যে একা নয় তা বোঝার জন্য আমাদের স্কুলগুলো এখনো তৈরি হয়নি। অন্ধগহ্বরের শেষ প্রান্তে আলো রয়েছে। আমি তার প্রতিজ্ঞা করছি।’
ল্যাসি গ্রিন
২০১৪ সালেই ল্যাসি গ্রিনের ইউটিউব সাবস্ক্রাইবার সংখ্যা ১ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যায়। বর্তমানে এই সংখ্যাটি প্রায় ১৫ লাখ। ২৮ বছর বয়সী গ্রিন পেশায় একজন ইউটিউব ভিডিও ব্লগার। প্রায় এক যুগ ধরে নিজের ইউটিউব চ্যানেলে তিনি যৌনতা বিষয়ে শিক্ষা দেন। নিজেকে তিনি যৌন বিষয়ের শিক্ষক হিসেবেই বেশি পরিচয় দেন। বর্তমানে তিনি নারীবাদী আন্দোলনের সঙ্গে জড়িয়ে গেছেন। যৌন নির্যাতনের বিরুদ্ধে তিনি সরব কণ্ঠ। ২০১২ সালে ইন্টারনেটে এক ভিডিও আপলোড করে তিনি মৃত্যুর হুমকিও পান। ২০১৪ সালে তিনি ব্লগার স্যাম পেপারের বিরুদ্ধে যৌন নির্যাতনের অভিযোগ তোলেন। ২০১৬ সালে টাইম ম্যাগাজিন তাকে পৃথিবীর সেরা ৩০ জন ইন্টারনেট প্রভাবশালীর তালিকায় স্থান দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের উতাহ অঙ্গরাজ্যের সল্ট লেক সিটিতে জন্ম নেওয়া ল্যাসি গ্রিন বর্তমানে ক্যালিফোর্নিয়ার লস অ্যাঞ্জেলেসে বাস করছেন। তার বাবা মুসলিম আর মা মরমন ধর্মে বিশ্বাসী।
অ্যাশ সরকার
যুক্তরাজ্যের জনপ্রিয় টেলিভিশন অনুষ্ঠান ‘গুড মর্নিং ব্রিটেন’-এ তাকে কম্যুনিস্ট বলায় ব্রডকাস্টার পিয়ার্স মরগানকে ‘ইডিয়ট’ বলে তিরস্কার করেছিলেন অ্যাশ সরকার। প্রগতিশীল এই নারী সাংবাদিক টেলিভিশন এবং ইন্টারনেট দুই ক্ষেত্রেই মাতিয়ে বেড়াচ্ছেন। শুধু নারী অধিকার নয়, অভিবাসীদের অধিকার নিয়েও তিনি সরব ভূমিকা পালন করছেন। তিনি তার টুইটার আকাউন্ট থেকে নিয়মিত রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করছেন। এছাড়াও ইন্সটাগ্রামে তিনি জলবায়ু পরিবর্তন এবং ব্রেক্সিটের মতো ইস্যুতে বিভিন্ন প্রচারণা চালাচ্ছেন। বামপন্থি সংবাদ মাধ্যম ‘নভেরা মিডিয়া’য় তিনি সিনিয়র এডিটর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়াও দ্য গার্ডিয়ান এবং দ্য ইনডিপেন্ডেন্টেও তিনি কাজ করেছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে শহীদ প্রীতিলতা ওয়াদ্দেদারের সঙ্গে রক্তের সম্পর্ক রয়েছে মুসলিম এই নারী সাংবাদিকের। ১৯৯২ সালে লন্ডনে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং সেখানেই মায়ের কাছে বেড়ে ওঠেন।
জিনা মার্টিন
নারীর অজান্তে তার স্কার্টের নিচ থেকে ছবি তোলা বা ‘আপস্কার্টিং’-এর বিষয়টিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করে নতুন আইন হয়েছে যুক্তরাজ্যে। জিনা মার্টিনের দীর্ঘ সংগ্রামের ফলে এই আইন প্রণয়নে বাধ্য হয় ব্রিটিশ সরকার।
তবে জিনার এই সংগ্রাম কিন্তু মোটেও সহজ ছিল না। সামাজিক মাধ্যমে গালিগালাজের পাশাপাশি ধর্ষণের হুমকিও পেয়েছেন তিনি। ২০১৭ সালে ২৭ বছর বয়সী জিনার সংগ্রাম শুরু হয়েছিল লন্ডনের বিখ্যাত হাইড পার্কে একটি কনসার্টে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার সূত্র ধরে। ইংল্যান্ডের লিভারপুল শহরের মেয়ে জিনা তখন কনসার্টে গান শুনতে মগ্ন। সেই সুযোগে এক ব্যক্তি মোবাইলে তার স্কার্টের নিচের অংশের ছবি তোলে। বিষয়টি জিনার নজরে এলে লোকটির হাত থেকে ফোন কেড়ে নিয়ে পুলিশকে দেখান তিনি। কিন্তু ফোন থেকে ছবিটি মুছে দিয়েই দায় সারে পুলিশ। ‘আপস্কার্টিং’ আইনের চোখে অপরাধ নয়Ñ জানার পর তার মনে হয় কিছু একটা করা দরকার। শিক্ষিত, প্রগতিশীল পরিবারের নারীবাদী মেয়ে জিনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে #ঝঃড়ঢ়ঝশরৎঃরহমঞযবওংংঁব শিরোনামে প্রচারণা চালিয়ে প্রায় এক লাখ স্বাক্ষর সংগ্রহ করেন। ‘আপস্কার্টিং’-এর শিকার অন্য নারীদের সঙ্গেও যোগাযোগ করেন। এই লড়াইয়ে প্রাথমিক ধাক্কা আসে যখন সাংসদ ক্রিস্টোফার চোপ জিনার প্রস্তাবিত আইন নাকচ করে দেন। তবে দিন দিন জিনার সমর্থক বাড়তে থাকায় আইন প্রণয়নে বাধ্য হয় টেরেসা মে’র সরকার।
রোয়ান ব্ল্যানচার্ড
২০০৭ সালে মাত্র পাঁচ বছর বয়সে অভিনয় জীবন শুরু হয় যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্ম নেওয়া রোয়ান ব্ল্যানচার্ডের। মাত্র ১৭ বছর বয়সেই তিনি তার সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলোতে সামাজিক, অর্থনৈতিক, মানবাধিকার এবং অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের মতো কঠিন বিষয়গুলোতে নিজস্ব মতামত ব্যক্ত করে চলেছেন। ইন্সটাগ্রামে বর্তমানে তার ৫১ লাখ অনুসারী রয়েছে। যদিও ইস্যুভিত্তিক তার বেশিরভাগ মন্তব্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার এবং টাম্বলার-এ পোস্ট করা হয়। সম্প্রতি তিনি ‘হ্যাসট্যাগ টিমহানফরসি’ নামে একটি নারীবাদী প্রচারণা অভিযানের অংশ হিসেবে জাতিসংঘ মহিলা এবং মার্কিন জাতীয় কমিটির বার্ষিক সম্মেলনে বক্তব্য প্রদান করেছেন। বর্তমানে অভিনয় নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করলেও একজন শক্তিশালী নারীবাদী হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
লিভ লিটল
লিভ লিটলের জন্ম লন্ডনে। তার বাবা জ্যামাইকান এবং মা গায়ানিজ বংশোদ্ভূত। ২০১৫ সালে মাত্র ২১ বছর বয়সেই তিনি ‘গাল-ডেম’ ম্যাগাজিনটি প্রতিষ্ঠা করেন। অনলাইন এবং প্রিন্ট মিডিয়ায় শক্তিশালী ও বহুমুখী কাজের মধ্য দিয়ে ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক পরিচিতি গড়ে উঠেছে এই নারীর। তিনি যুক্তরাজ্য থেকে শুরু করে পৃথিবীর প্রায় সব প্রান্তের নারীদের বলিষ্ঠ কণ্ঠ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মানবাধিকার এবং নারীবাদের পাশাপাশি সাহিত্য নিয়েও সরব ভূমিকা পালন করছেন। ২০১৬ সালে বিবিসি’র জরিপে পৃথিবীর প্রভাবশালী ১০০ নারীর তালিকায় ঠাঁই করে নিয়েছিলেন। ‘ওম্যান অব কালার’ পরিচালিত তার ‘গাল-ডেম’ ম্যাগাজিন ক্রমেই একটি শক্তিশালী গণমাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে।
