নাম না থাকায় প্রতিবেদন নেয়নি হাইকোর্ট

জাহালমকাণ্ডে দুদকের ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০১৯, ০২:১৬ এএম

সোনালী ব্যাংকের ১৮ কোটি ৪৭ লাখ টাকা ঋণ জালিয়াতির মামলায় নিরপরাধ পাটকলকর্মী শ্রমিক জাহালমকে আসামি করায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়েছে। গতকাল বুধবার বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের হাইকোর্ট বেঞ্চে প্রতিবেদন আকারে এ তথ্য জানান দুদকের আইনজীবী খুরশিদ আলম খান। তবে ওই ১১ কর্মকর্তার

নাম ও কী অভিযোগে মামলা হয়েছে এসব বিস্তারিত তথ্য না থাকায় প্রতিবেদনটি গ্রহণ না করে আগামী বুধবার দুদককে আবারও তা দাখিল করতে বলেছে আদালত।

আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ বি এম আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ বাশার।

শুনানিকালে ১১ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলার বিষয়টি অবহিত করলে একে সাধুবাদ জানায় হাইকোর্ট। দুদক আইনজীবীর উদ্দেশে আদালত বলে, ‘সরষের মধ্যে ভূত থাকার দরকার নেই, সরষের মধ্যে সরষেই থাকুক। দুদক একটি স্বাধীন প্রতিষ্ঠান। আপনারা ভালো কাজ করলে আপনাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল হবে।’

দুদক আইনজীবী আদালতকে জানান, সোনালী ব্যাংকের ঋণ জালিয়াতির ৩৩ মামলার পুনঃতদন্ত হবে। বেশকিছু মামলায় পুনঃতদন্ত শুরু হয়েছে। এ পর্যায়ে হাইকোর্ট বলে, ‘পুনঃতদন্ত, সেটি আপনাদের বিষয়। আমাদের রুলের বিষয় এটি নয়। আমাদের বিষয় ছিল জাহালমকে মুক্ত করা।’  

সোনালী ব্যাংকের ওই ঋণ জালিয়াতির মূল হোতা ৩৩ মামলার আসামি আবু সালেকের পরিবর্তে ২০১৬ সালের ৬ ফেব্রুয়ারি টাঙ্গাইলের নাগরপুরের ধুবুড়িয়া গ্রামের নিরপরাধ জাহালমকে গ্রেপ্তার ও পরে তাকে ২৬টি মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। এ নিয়ে গণমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। বিষয়টি গত ৩ ফেব্রুয়ারি হাইকোর্টের নজরে আনা হলে জাহালমকে তাৎক্ষণিক কারামুক্তির নির্দেশ দেয় হাইকোর্ট। একই দিন রাতে গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে মুক্তি পান জাহালম। গত ১১ জুলাই হাইকোর্টে দেওয়া দুদকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, তদন্ত কর্মকর্তাদের ভুলের কারণে জাহালমকে কারাবাস করতে হয়েছে।  

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত