রাজধানীর হলি ফ্যামিলি রেড ক্রিসেন্ট মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীর পাঁচ ভাগের এক ভাগই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত। ডেঙ্গু আক্রান্তের মধ্যে ৪৬ শতাংশই শিশু। তবে গত চার দিনে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা অনেকটা কমেছে। ৫০০ শয্যার ওই হাসপাতালে গত মঙ্গলবার ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছিল ৯৮ জন। আর গতকাল বুধবার এই সংখ্যা দাঁড়ায় ৮১ জনে। গত সোমবার ভর্তি ছিল ১১২ জন। আগের দিন এ সংখ্যা ছিল ১২৬। ওই হাসপাতালে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গুর চিকিৎসা নিয়েছে ১ হাজার ৪৬১ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র নিয়ে বাড়ি ফিরেছে ১ হাজার ৩৭৯ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে ভর্তি ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
গত মঙ্গলবার গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের মূল ভবনের প্রবেশপথেই ডেঙ্গুর জন্য আলাদা তথ্যকেন্দ্র খোলা। দুজন তথ্য কর্মকর্তা সেখানে দায়িত্ব পালন করছেন। এখান থেকেই প্রাথমিক তথ্য দেওয়া হয় বলে জানান এক কর্মকর্তা। এর কাছাকাছি রয়েছে ক্যাশ কাউন্টার। সেখানে একটি লাইনে প্রায় ১৫ জনকে দেখা যায়।
হুমায়ূন নামের একজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তার ছেলের সিবিসি পরীক্ষার ফি জমা দিতে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। এছাড়া প্যাথলজি বিভাগের সামনেও কিছুটা ভিড় লক্ষ করা গেছে। সেখানে দায়িত্বরত এক চিকিৎসক দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘এই বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্তের জন্যই বেশি রোগী আসে। তবে অধিকাংশেরই পরীক্ষায় নেগেটিভ (ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়নি) ফলাফল আসে। রাতে পরীক্ষা
করতে আসা রোগীদের মধ্যে ডেঙ্গু শনাক্ত বেশি হয়।’
হাসপাতালের মেডিসিন ওয়ার্ডে ভর্তি বেশিরভাগ ডেঙ্গু রোগী। রোগীদের যাতে কোনো সমস্যা না হয়, সেজন্য দর্শনার্থীদের সতর্ক করে নোটিস দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। কর্তব্যরত এক নার্স বলেন, ‘আমরা সবসময় খেয়াল রাখছি, রোগীর স্বজনরা এসে যাতে বিরক্ত না করে। একজন দর্শনার্থীর অনুমোদন থাকলেও মাঝেমধ্যে দুই-তিনজনকে পারমিশন (অনুমতি) দেওয়া হয়। তবে তাদের দ্রুত ওয়ার্ড ত্যাগের বিষয়েও নজর রাখা হয়।’ হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে খুশি ডেঙ্গু আক্রান্ত জহির। তিনি বলেন, ‘এখানে কোনো পরীক্ষাতেই বাড়তি ফি নেওয়া হয়নি।’
হাসপাতালের জ্যেষ্ঠ নার্স গোলাপি বেগম দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাদের হাসপাতালে প্রতিদিনই ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হচ্ছে। মেডিসিন ওয়ার্ডের জন্য ৪২টি বেড বরাদ্দ রয়েছে। কিন্তু রোগী প্রায় প্রতিদিনই ৯০ জনের ওপরে থাকে। তাই বাকি রোগীদের অন্য ওয়ার্ডগুলোতে সমন্বয় করে রাখা হয়েছে।’
হাসপাতালের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিদিন তাদের হাসপাতালে ৫০ জনেরও বেশি রোগী জ¦র নিয়ে আসে। এদের মধ্যে যাদের ডেঙ্গুর লক্ষণ দেখা যায়, তাদের এনএস-১ ও সিবিসি পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়। সরকার-নির্ধারিত মূল্যেই তারা এসব পরীক্ষা করে থাকেন। হাসপাতালে রোগীর চাপ থাকলেও সব ডেঙ্গু রোগীকেই ভর্তি করানো সম্ভব হচ্ছে। মূলত অন্য ওয়ার্ডগুলোর যেসব শয্যা খালি রয়েছে, সেখানে ডেঙ্গু রোগীদের রাখছে হাসপাতালটি।
হাসপাতালের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত ওই হাসপাতালে ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হওয়া ছয়জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের সবার কাগজপত্র স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠিয়ে দিয়েছে কর্র্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর যাচাই-বাছাই করে এখন পর্যন্ত ওই হাসপাতালে ডেঙ্গুর কারণে একজনের মৃত্যু হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে।
