রাজধানীসহ সারা দেশে আগস্টের ২২ দিনে ডেঙ্গুতে আক্রান্তের সংখ্যা ৪১ হাজার ১৩১ জনে পৌঁছেছে। আর চলতি বছরে মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৫৯ হাজার ৫৯২ জনে পৌঁছেছে। গত বুধবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে ১ হাজার ৫৯৭ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। যা এর আগের ২৪ ঘণ্টার চেয়ে ২৯ জন কম। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশনস সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এসব তথ্য জানা যায়। এ ছাড়াও ডেঙ্গুতে সারা দেশে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এ নিয়ে চলতি বছর দেশ রূপান্তরের হিসাবে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা ১৩১ জনে পৌঁছেছে। তবে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট ৮০টি সম্ভাব্য মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৪৭টি মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানায়, গত ২৪ ঘণ্টায় রাজধানীতে নতুন ডেঙ্গু রোগী বাড়লেও সারা দেশে কমেছে। এই সময়ে ঢাকায় ৭৬১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৮৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়। যা আগের দিন ছিল ঢাকায় ৭১১ জন এবং ঢাকার বাইরে ৯১৫ জন। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত সারা দেশে ৬ হাজার ১৪৭ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। এদের মধ্যে ঢাকায় ৩ হাজার ৩৩২ জন এবং ঢাকার বাইরে ২ হাজার ৮১৫ জন। এই সময়ে যত রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন তার চেয়ে বেশি রোগী সুস্থ হয়ে বাসায় ফিরেছেন।
ঢাকার বাইরের নতুন রোগীদের মধ্যে ঢাকা শহরের বাইরে ২৩৩ জন, খুলনা বিভাগে ১৭৯ জন, বরিশাল বিভাগে ১৩৭ জন, চট্টগ্রাম বিভাগে ১৩৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ২২ জন, রংপুর বিভাগে ৩৩ জন এবং সিলেট বিভাগে ২০ জন গত ২৪ ঘণ্টায় ভর্তি হয়েছেন।
আরও ৭ জনের মৃত্যু : আমাদের জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্য অনুযায়ী সারা দেশে ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এদের মধ্যে একজন সরকারি তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী ও একজন হাফেজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী রয়েছে।
ডেঙ্গুতে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের শ্রীকলা গ্রামের আলমগীর গাজী (১৪) নামে এক মাদ্রাসা শিক্ষার্থীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে তার মৃত্যু হয়। গ্রামের সিরাজুল ইসলামের ছেলে আলমগীর যশোরের একটি হাফেজি মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ছিল। কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের টিএইচও ডা. তৈয়েবুর রহমান জানান, আলমগীর গত ১৯ আগস্ট বিকেলে ডেঙ্গু নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হয়। বৃহস্পতিবার সকালে অবস্থার অবনতি হলে তাকে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখান থেকে খুলনায় পাঠালে গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে তার মৃত্যু হয়।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মো. গিয়াস উদ্দিন নামের একজন গতকাল ভোরে মারা যান। দুই সন্তানের বাবা গিয়াস উদ্দিন আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি চাঁদপুর জেলার মতলব উপজেলার পশ্চিম শিংরা গ্রামের আবদুল আউয়ালের ছেলে। পরিবার নিয়ে ঢাকার পোস্তগোলা এলাকায় থাকতেন তিনি। স্বজনরা জানান, প্রচণ্ড জ্বর হলে বুধবার রাত ১১টার তাকে এই হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। রক্ত পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। অবস্থা খারাপ হলে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
যশোরের মনিরামপুরে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আবদুল গাফ্ফার নামের এক জুটমিল শ্রমিক মারা গেছেন। গত বুধবার সকালে ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। তিনি উপজেলার আম্রঝুটা গ্রামের বাসিন্দা। স্বজনরা জানান, প্রচণ্ড জ্বর অবস্থায় পরিবারের লোকজন আবদুল গাফ্ফারকে গত ১৭ আগস্ট যশোর ২৫০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে ডেঙ্গু ধরা পড়লে এবং অবস্থার অবনতি হলে ২০ আগস্ট ঢাকার আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল।
রাজধানীর স্কায়ার হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গতকাল মো. হানিফ (৩৯) নামে এক প্রাইভেটকার চালকের মৃত্যু হয়েছে। হানিফ সাভারের টঙ্গাবাড়ি এলাকার মাফি ইসলামের ছেলে। তার ছোট ভাই আবু সাইম বলেন, গত ১৩ আগস্ট হানিফ জ্বরে আক্রান্ত হলে সাভারের এনাম মেডিকেলে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়। উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। অবস্থার অবনতি হলে তাকে ওই হাসপাতালের আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। বুধবার বিকেলে মারা যান তিনি।
ডেঙ্গুতে মেহেদী হাসান কামাল নামে তিতুমীর কলেজের ইংরেজি বিভাগের এক শিক্ষার্থী বুধবার সন্ধ্যায় রাজধানীর মিরপুরের একটি হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার গ্রামের বাড়ি চাঁদপুরে। তিনি রাজধানীর মুগদায় থাকতেন। স্বজনরা জানান, মেহেদী ডেঙ্গু নিয়ে ১৯ আগস্ট হাসপাতালে ভর্তি হন। তার রক্তের প্লাটিলেট কমে অনেক নিচে চলে এসেছিল।
বলে ডেঙ্গুজ্বরে আক্রান্ত হয়ে মনির হোসেন (৩৪) নামে এক যুবক গত বুধবার রাতে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। তার বাড়ি বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ উপজেলার রুকুনদ গ্রামে। হাসপাতাল সূত্র জানায়, মুমূর্ষু মনির ১৮ আগস্ট হাসপাতালের মেওয়ার্ডে র্ভ হন। বুধবার অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালে ডেঙ্গুর শক সিনড্রোমে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। তিনি বুধবার রাতে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। তবে ওই নারীর নাম-পরিচয় তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ।
