নিজেদের দুর্বল ভাবছেন না তারা

আপডেট : ২৪ আগস্ট ২০১৯, ১২:৫১ এএম

২০২২ বিশ্বকাপ বাছাইয়ের গ্রুপপর্বে বাংলাদেশ মোকাবিলা করবে ফিফা বিশ্ব র‌্যাঙ্কিংয়ে অনেক ওপরে থাকা চারটি দলের। বিশ্বকাপ আয়োজক কাতার ৬২তম, এরপরই ওমান (৮৭), ভারত (১০৩) ও আফগানিস্তান (১৪৯)। গত দু’মাসে খানিকটা উন্নতি করে বাংলাদেশ এখন ১৮২তম স্থানে। অর্থাৎ পাঁচ দলের এই গ্রুপে তাদের নিকটতম দল আফগানদের সঙ্গেই র‌্যাঙ্কিংয়ে ব্যবধান ৩৩ ধাপ। এমন র‌্যাঙ্কিং কারও মন খারাপ করিয়ে দিলেও জাতীয় দলের ক্যাম্পে ডাক পাওয়া ফুটবলাররা অভয় দিচ্ছেন। বাছাইপর্বকে সামনে রেখে গতকাল শুরু হওয়া ক্যাম্পে যোগ দিতে এসে খেলোয়াড়দের কণ্ঠে অভিন্ন সুর র‌্যাঙ্কিংয়ের ব্যবধান ভুল প্রমাণ করেই আসন্ন বাছাইপর্বে বাংলাদেশ ভালো ফল বয়ে আনবে।

দীর্ঘদিন ঘরোয়া ফুটবল নিয়ে ব্যস্ত থাকার পর খানিকটা বিরতি দিয়ে ফুটবলাররা এখন মন দিচ্ছেন আন্তর্জাতিক ফুটবলে। ক্যাম্পে ডাক পেয়েছেন ২৬ জন। এএফসি কাপের জন্য আবাহনীর ক্যাম্পে থাকা সাতজন কোচের কাছে রিপোর্ট করেই ফিরে গেছেন ক্লাবে। বাকি ১৯ জন ক্যাম্পে যোগ দিয়েছেন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পরিবারের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে। আজ সকালে কোচ জেমি ডে’র পাঠশালায় শুরু হবে হাতে-কলমে শিক্ষা। ১০ সেপ্টেম্বর তাজিকিস্তানের দুশানবেতে আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে জামাল ভুঁইয়ারা শুরু করবেন বিশ্বকাপ বাছাই মিশন।

নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে তৈরি করতে নামার আগে অধিনায়ক জামাল জোর কণ্ঠে দাবি করলেন, বাংলাদেশকে দুর্বল ভাবার সুযোগ নেইÑ ‘আমি মনে করি কাতার গ্রুপে ফেভারিট। আমরা তাই দ্বিতীয় স্থানের জন্য ওমান, ভারত ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে লড়ব। আমরা যদি পুরোপুরি প্রস্তুত থাকি, অবশ্যই আমাদের ভালো সুযোগ আছে। অনেকে হয়তো র‌্যাঙ্কিংকে সামনে এনে বাংলাদেশের সুযোগ দেখছেন না। কিন্তু আমরা শেষ ১৫ মাস ভালো ফুটবল খেলেছি। জেমি ডে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমরা একটা ভালো দল হিসেবে খেলছি। সুতরাং আমাদের খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।’

বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগ শেষে আবাহনীর ৭ খেলোয়াড় বাদে বাকিরা সবাই বিশ্রামে ছিলেন। এই সময় ফিটনেস ঠিক রাখতে ইংলিশ কোচ প্রত্যেককে আলাদা আলাদা ওয়ার্ক আউট দিয়েছিলেন। জামাল বললেন, ‘এটা বিশ্বকাপ বাছাইপর্ব। সেজন্য সবাইকে এর জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত থাকতে হবে। আনফিট থেকে ক্যাম্পে আসার সুযোগ নেই। কোচ প্রত্যেককে হোমওয়ার্ক দিয়ে দিয়েছিলেন। আমরা সবাই সে অনুযায়ী নিজেদের পরিচর্যা করলে তেমন কোনো সমস্যা থাকার কথা নয়।’

লাওসের বিপক্ষে জুনে বিশ্বকাপের প্রাক-বাছাইপর্ব উতরে গ্রুপপর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে বাংলাদেশ। মাঝের দুই মাস ঘরোয়া লিগে ব্যস্ত ছিলেন সবাই। ৩ আগস্ট তা শেষ হওয়ার পর ছুটিতে খেলোয়াড়রা ফিটনেস কতটা ধরে রাখতে পেরেছেন তার প্রমাণ মিলবে আসছে দিনগুলোতে। জামালের কাছে সামনের সপ্তাহ দেড়েক খুব গুরুত্বপূর্ণ, ‘আশা করছি সামনের ১০/১২ দিন আমরা নিজেদের সেরা পর্যায়ে নিয়ে যেতে পারব। আফগানিস্তান দলটি এখন কেমন অবস্থায় রয়েছে তা খুব একটা জানি না, কেবল জানি তারা খুবই শক্তিশালী দল। তবে আমরাও ভালো ফুটবল খেলেছি গত কয়েক মাস। আমাদের বিশ্বাস আছে একটা ভালো শুরু করতে পারব।’

এএফসি কাপে আবাহনীর দুর্দান্ত খেলার কথা উল্লেখ করে জামাল বলেন, ‘দেশের জন্য দারুণ একটা জয় বয়ে আনায় আমি আবাহনীকে অভিনন্দন জানাই। আমি মনে করি তাদের এই জয় থেকে প্রত্যেকেই শিক্ষা নেবে। কঠোর পরিশ্রমে যে ভালো ফল আসে সেটা আবাহনী প্রমাণ করেছে।’

জামালের মতো স্ট্রাইকার মতিন মিয়ারও বিশ্বাস, এই বাছাইপর্ব বাংলাদেশের জন্য এসেছে দারুণ এক সুযোগ হয়ে। লিগ চ্যাম্পিয়ন বসুন্ধরা কিংসের পক্ষে ১১ গোল করা মতিন দারুণ ছন্দে আছেন। আবাহনীর নাবিব নেওয়াজ জীবন করেছেন ১৭ গোল। অর্থাৎ বাংলাদেশের আক্রমণভাগের প্রধান দুই অস্ত্র ফর্মের তুঙ্গে রয়েছেন। মতিন মনে করেন ঘরোয়া লিগের ফর্ম তারা আন্তর্জাতিক পর্যায়েও নিয়ে যেতে পারবেন, ‘আমি সত্যি খুশি ঘরোয়া লিগে ভালো পারফর্ম করায়। জাতীয় দলের হয়ে এখনো গোল করতে পারিনি। আমার বিশ্বাস, ঘরোয়া লিগের এই পারফরম্যান্স আমি জাতীয় দলের জার্সিতেও করতে পারব। বাছাইপর্ব কঠিন। তবে আমাদের বিশ্বাস আছে আমরা ভালো খেলব।’

প্রতিপক্ষ দলগুলো যখন ধারে-ভারে এগিয়ে, তখন স্বভাবতই বাড়তি দায়িত্ব চলে আসে রক্ষণ সেনানীদের ওপর। বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ধারাবাহিক পারফরম্যান্স করা ডিফেন্ডার সুশান্ত ত্রিপুরা মনে করেন সেই দায়িত্ব নিতে তারা প্রস্তুত, ‘কোচ নিশ্চয়ই রক্ষণ পরিকল্পনা নিয়ে আলাদাভাবে চিন্তা করবেন। তিনিই ঠিক করবেন কোনটা ভালো হবে। ডিফেন্ডার হিসেবে আমি চাইব ভালো কিছু করতে, বাড়তি কিছু করতে; যাতে দলের স্বার্থে কার্যকর কিছু করতে পারি। প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন আমরা তো জাতীয় দলের হয়ে খেলব। সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সে যদি চোখ রাখেন, আমরা কিন্তু খারাপ করিনি। ম্যাচ বাই ম্যাচ যদি সবাই শতভাগ দেই, ভালো ফল সম্ভব।’

গোলরক্ষক মাজহারুল ইসলাম হিমেল শুরুতে ছিলেন না জেমি ডে’র দলে। কিন্তু দুদিন পর তাকেও ডেকে নেন কোচ। এই সুযোগ কাজে লাগাতে প্রত্যয়ী হিমেল বলেন, ‘প্রথম যখন বাদ পড়লাম খুব খারাপ লাগছিল। কিন্তু কোচ কী ভেবে আবার ডাকলেন তা তিনিই বলতে পারবেন। আমি মনে করি আমরা যারা ডাক পেয়েছি, তারা সবাই প্রায় সমপর্যায়ের। এখন ক্যাম্পে যারা নিজেদের পুরোপুরি ফিট রাখতে পারবে, সেই তিনজনই হয়তো সুযোগ পাবে। আমি আমার সেরাটা দিয়েই চেষ্টা করব।’

বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে আজ সকাল ১০টায় সদলবলে মাঠে নেমে পড়বেন কোচ জেমি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত