ঘরের মাঠে উত্তর কোরীয় দল ৪.২৫ এসসির বিপক্ষে ৪-৩ গোলের জয়ে এএফসি কাপের ইন্টার-জোন ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে আবাহনী। ২৮ আগস্ট পিয়ংইয়ংয়ে ফিরতি ম্যাচে ড্র হলেই হবে লক্ষ্যপূরণ। সেই আশা নিয়েই গত রাতে ঢাকা ছেড়ে গেছে আকাশি জার্সির দল। তবে এই সফরে তাদের সঙ্গী অন্যরকম আশঙ্কা। দু’বছর আগে একই প্রতিপক্ষের বিপক্ষে বিশ্বের সবচেয়ে সিক্রেট দেশ হিসেবে পরিচিত উত্তর কোরিয়ায় খেলতে গিয়ে ‘অন্যরকম’ কিছু অভিজ্ঞতার মুখে পড়তে হয়েছিল ভারতের আইলিগের দল বেঙ্গালুরু এফসিকে। নিজেদের মাঠে বেঙ্গালুরু জিতেছিল ৩-০ ব্যবধানে। পিয়ংইয়ংয়ে গিয়ে করে গোলশূন্য ড্র। তাতে ইন্টার-জোন ফাইনালের লক্ষ্যপূরণ হলেও ম্যাচের আগে-পরের মাঠের বাইরে কিছু ‘ভীতিকর’ অভিজ্ঞতা আজও তাড়িয়ে বেড়ায় দলের ফুটবলারদের। আবাহনীও পিয়ংইয়ং যাচ্ছে স্বাগতিকদের চেয়ে একধাপ এগিয়ে থেকে। তাদেরও একই রকম পরিস্থিতির সামনে পড়তে হবে না তোÑ সংশয় কাটছে না। ২০১৭ সালে ওই ম্যাচের সপ্তাহখানেক পর বিবিসিকে এক দীর্ঘ সাক্ষাৎকারে ভীতিকর অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেন বেঙ্গালুরুর হয়ে খেলা অস্ট্রেলিয়ান মিডফিল্ডার এরিক পারতালু। অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের সাবেক এই ফুটবলারের বলেছিলেন, তারা যখন পিয়ংইয়ং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছান তখন মাত্র একটি বিমান অবতরণ করেছে। অথচ তাদের খেলার সামগ্রী ও লাগেজ পেতে অনেক বিলম্ব হয়। অনেকের খেলার সামগ্রী হারিয়েও যায়। বিমানবন্দরের স্টাফরা তাদের অফিস বন্ধ করে চলে যায় এবং সব আলো নিভিয়ে ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি করা হয়। পিয়ং ইয়ংয়ের এক খেলার সামগ্রীর দোকান থেকে তাদের চড়া দামে নকল বুট ও জার্সি কিনে অনুশীলন করতে হয়। সবচেয়ে ভীতিকর ছিল টিম হোটেলের ওপর দিয়ে আগাম সতর্কবার্তা ছাড়াই মিসাইল উড়ে যাওয়া। বিমানবন্দর থেকে শুরু করে পুরো সফরে বেশিরভাগ সময় খেলোয়াড়দের ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন রাখা হয় এবং মোবাইলে ছবি তুলতে নিষেধ করা হয়। এরিকের কথায়, পুরো সফর জুড়ে এমন একটা ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয় যা পেশাদার ফুটবলের সঙ্গে একেবারেই যায় না। সারাক্ষণ একটা উৎকণ্ঠা সঙ্গী করে তাদের কয়েকটি দিন কাটাতে হয়েছিল। ভাগ্য ভালো ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হওয়ায় ফাইনালের লক্ষ্যপূরণ করেই তারা দেশে ফিরতে পারে।
উড়াল দেওয়ার ঘণ্টা কয়েক আগে বেঙ্গালুরু এফসির ভীতিকর অভিজ্ঞতার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রশ্ন করা হয়েছিল আবাহনীর পর্তুগিজ কোচ মারিও লেমসকে। ‘আমি অতীতে উত্তর কোরিয়া সফর করা কিছু দলের কাছ থেকে কিছু কিছু অভিজ্ঞতার কথা শুনেছি। সিঙ্গাপুরের একটি ক্লাবের কোচ আমার বন্ধু। তার কাছ থেকে জেনেছিলাম গত বছর দল নিয়ে সেখানে গিয়ে সেও একই রকম অভিজ্ঞতার মুখে পড়েছিল। বাড়তি সতর্কতার জন্য আমি আমার সব খেলোয়াড়দের বলেছি এক জোড়া বুট জুতো ও ক্রীড়া সরঞ্জাম তাদের হাতব্যাগে রাখতে যাতে লাগেজ হারিয়ে যাওয়ার মতো কোনো ঘটনা ঘটলে তাদের অনুশীলন বাধাগ্রস্ত না হয়’ বলছিলেন লেমস। পিয়ংইয়ং-এ যাওয়া দলগুলোর খাওয়ার অভিজ্ঞতাও ভালো না। লেমস বলেন, ‘শুনেছি সেখানে কোরিয়ান খাবার দেওয়া হয়। যার সঙ্গে হয়তো আমাদের ছেলেরা মোটেই অভ্যস্ত নয়। তাই আমি তাদের বলেছি বিকল্প প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করতে।’
লেমস এসব আশঙ্কাকে খুব বড় করে খেলোয়াড়দের সামনে তুলে ধরতে চান না। বরং সকল বাধা ডিঙিয়ে লক্ষ্য পূরণের কথাই বলেছেন, ‘আমরা জানি অন্যরকম একটা পরিস্থিতি কঠিন একটা ম্যাচ আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে। প্রথম ম্যাচে আমরা চার গোল দিয়েছি। তাই আমার বিশ্বাস সেখানেও ছেলেরা গোল করতে পারবে। তবে যেহেতু আমরা একটু এগিয়ে থাকছি, স্বাগতিকরা সর্বোচ্চটা দিয়েই আমাদের হারাতে চাইবে। তাই খানিকটা সতর্ক থেকেই আক্রমণে যেতে চাই।’
অন্যরকম শঙ্কার মধ্যেই আবাহনীর জন্য সুখবর আছে দু’টি। ইনজুরি কাটিয়ে দলের সঙ্গে উত্তর কোরিয়ার পথে রয়েছেন মিডফিল্ডার মামুনুল ইসলাম। আর শেষ মুহূর্তে ভিসা জটিলতা কাটিয়ে দলের সঙ্গী হয়েছেন প্রথম ম্যাচে জোড়া গোল করা নাইজেরিয়ান স্ট্রাইকার সানডে চিজোবা।
