বিশ্বকাপের পর শ্রীলঙ্কায় বাংলাদেশ দলের ফিল্ডিং দেখে ক্ষেপে উঠেছিলেন বিসিবি প্রেসিডেন্ট নাজমুল হাসান পাপন। জানিয়েছিলেন, এমন কেন হচ্ছে তা ফিল্ডিং কোচ রায়ান কুকের কাছে জানতে চাইবেন। তাকে রাখবেন কি ছাড়বেন সেই সিদ্ধান্ত এর পর। দক্ষিণ আফ্রিকান কুক ঠিকই আছেন। এবং চলমান ক্যাম্পে ফিল্ডারদের নিয়ে গতকাল আরও জোরেশোরে কাজ শুরু করেছেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, কী হয়েছে বাংলাদেশের ফিল্ডারদের? কুকের সাফ জবাব, ‘বেসিকেই সমস্যা’।
২০১৯ বিশ্বকাপে বেশিরভাগ ম্যাচে বাজে ফিল্ডিং করেছে বাংলাদেশ দল। দু’একটি ম্যাচে জ্বলে উঠে আবার নিভে গেছে। যারা এই দলকে দীর্ঘদিন ধরে অনুসরণ করেন তাদের বিস্ময়, বাংলাদেশের এমন বাজে ফিল্ডিং আগে দেখেননি। কেউ কেউ কয়েকজন ফিল্ডারের ফিটনেসের অভাবকে দায়ী করেছেন। কিন্তু আসল কথা তো কুক বলতে পারবেন ভালো।
‘বেসিকেই কিছু সমস্যা দেখা যাচ্ছে। যতটা সম্ভব তা ঠিক করার চেষ্টা চালাচ্ছি।’ গতকাল মিরপুরে পুরোটা সময় তিনজনে ভাগ করে দৌড়ে বল পিক করে এক স্টাম্পে ছোড়ার প্র্যাকটিস করাচ্ছিলেন কুক। প্রধান কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ও ফাস্ট বোলিং কোচ শার্ল ল্যাঙ্গাভেল্ট করিয়েছেন হাই ও লো ক্যাচিং প্র্যাকটিস। বোঝাই যাচ্ছে, এই জায়গাটায় নতুন প্রধান কোচও জোর দিয়েছেন খুব। আর কুক বলছিলেন, ‘বিশ্বকাপে আমাদের অনেকগুলো ভালো ম্যাচ গেছে। কিছু ম্যাচে পা হড়কেছে। কিছু সুযোগ নষ্ট হয়েছে। ছেলেরা তা জানে এবং ওসব কিছু উন্নতির চেষ্টা করছি আমরা।’
গত বছরের জুলাইয়ে বিশ্বকাপ পর্যন্ত চুক্তিতে বাংলাদেশের ফিল্ডিং কোচ হয়ে আসার আগে কুক ছিলেন কেপটাউনের গ্যারি কার্স্টেন ক্রিকেট অ্যাকাডেমির প্রধান কোচ। তার আগে হোবার্ট হারিক্যান্স, দক্ষিণ আফ্রিকা ‘এ’ ও দক্ষিণ আফ্রিকা অনূর্ধ্ব-১৯ দলের সহকারী কোচের দায়িত্ব পালন করেছেন। যথেষ্ট অভিজ্ঞ।
দলের ফিল্ডিংয়ের নিদারুণ সমালোচনার পরও চুক্তির মেয়াদ বেড়েছে। রিচার্ড হ্যালসলের পর সোহেল ইসলাম স্টপ গ্যাপ ফিল্ডিং কোচ ছিলেন। তারপর কুক। কিন্তু এসবে নয়, বয়সভিত্তিক পর্যায় থেকে ফিল্ডিংয়ে গুরুত্ব দেওয়ার কথা বললেন কুক, ‘যে যেখানে আছে সেখান থেকে তার উন্নতির সুযোগ আছে। যদি তারা অনূর্ধ্ব-১৫ থেকেই এই বেসিক নিয়ে এসে থাকে তাহলে ওদিকে আগে দেখতে হবে। তবে ইবাদতের (হোসেন) মতো কেউ বয়সভিত্তিক থেকে আসেনি। তাই বলা মুশকিল এসব (বেসিক) কোথা থেকে এসেছে। তবে কথা হলো, বয়সভিত্তিক দলের গোড়ার দিকেই নজর দিতে হবে।’
আত্মবিশ্বাসী কুকের মধ্যে আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো ব্যাপার নেই। আগে তো এমন ছিল না ফিল্ডিং! তাহলে? তার কথায় পরিষ্কার, নিজের অবস্থান থেকে সরবেন না। ক্যাচিংকে নিজেই ‘অধারাবাহিক’ বলছেন। মান নিয়েও প্রশ্ন আছে তার মনে। মান নিয়ে তার উচ্চারণ, ‘ফিল্ডিংয়ে সম্ভবত মাঝের একটা অবস্থানে। বিশ্বকাপে নিরপেক্ষভাবে দেখার সুযোগ ছিল। ওখানে আবিষ্কার করলাম, সম্ভবত মাঝে আটকে আছি। তবে আমি আমাদের সেরা তিনে দেখতে চাই। বিশ্বের সেরা তিনে যাওয়ার শুরুটা অবশ্যই করতে পারি আমরা।’
আর সেই শুরুর পথে অস্ট্রেলিয়ায় কাজ করার অভিজ্ঞতা থেকে জানেন, শিশু বয়স থেকেই একজন ফিল্ডারের বেসিক তৈরি হয়। তার প্রভাব থাকে সারা জীবন। আরও থাকে ফিটনেস ইস্যু। তাই শুধু একটি দুটি বিষয় নয়, বৃহৎ পরিসরে ক্রিকেটের তিন বিভাগের স্পেশালিস্ট এই ইস্যুতে নজর দিতে চাইলেন কুক।
কুকের সোজা কথা, ‘আমার মনে হয় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজ করা দরকার। তলানি থেকে শীর্ষ পর্যন্ত অগ্রাধিকার পাওয়া উচিত। খেলোয়াড়দের এই ভেবে বেড়ে উঠতে হবে যে, ‘আমি বিশ্বের সেরা ফিল্ডার হতে চাই, শুধু বাংলাদেশের না।’
কিন্তু বর্তমান ফিল্ডিংকে ১০ এর মধ্যে নম্বর দিতে বললে? ‘টি-টোয়েন্টি ৬.৫, ওয়ানডে ৭.৫, টেস্ট ৭-’ কুকের মূল্যায়ন।
