হাইকোর্টের রায়

নিকাহনামায় কুমারী নয় অবিবাহিতা লিখতে হবে

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০১:২৭ এএম

মুসলিম বিয়ে নিবন্ধন ফরমের (নিকাহনামা বা কাবিননামা) ৫ নম্বর কলামে কনের ক্ষেত্রে ‘কুমারী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ‘অবিবাহিতা’ যুক্ত করতে বলেছে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ৪ নম্বর কলামে ‘ক’ যুক্ত করে বরের ক্ষেত্রে ‘বিবাহিত, বিপত্নীক ও তালকাপ্রাপ্ত কি না’ এমন শব্দগুচ্ছ সংযোজন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত।

নিকাহনামার বৈষম্য দূর করার প্রশ্নে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করে দেওয়া রায়ে গতকাল রবিবার বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরীর হাইকোর্ট বেঞ্চ এসব নির্দেশ দেয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী জেড আই (জহিরুল ইসলাম) খান পান্না। তাকে সহযোগিতা করেন আইনজীবী আইনুন নাহার সিদ্দিকা। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি

অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত তালুকদার।

হাইকোর্টের এই রায়কে ‘মাইলফলক’ উল্লেখ করে অ্যাডভোকেট আইনুন নাহার সিদ্দিকা দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সিডও সনদে স্বাক্ষর ও সংবিধান অনুযায়ী আমাদের দেশে নারী-পুরুষের সমতার কথা বলা হয়েছে। সেখানে একজন নারী কুমারী কি না, কাবিননামায় এ ধরনের শব্দ ব্যবহার নারীর জন্য অসম্মানজনক ও তার মর্যাদা খর্ব করার শামিল। অথচ কাবিননামায় পুরুষের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়ে এ ধরনের কোনো শব্দ নেই।’

তিনি বলেন, ‘কাবিননামার ৫ নম্বর কলামে কনের বিষয়ে “কুমারী, বিধবা বা তালাকপ্রাপ্ত কি না” তা উল্লেখ রয়েছে। হাইকোর্ট রায়ে বলেছে, “কুমারী” শব্দটি বাদ দিতে হবে। কেননা এটি ব্যক্তির গোপনীয়তার অধিকারের বিষয়। এটি কাবিননামায় থাকলে বৈষম্যের সৃষ্টি হয়।’

কাবিননামার ৪ নম্বর কলামে হাইকোর্ট একটি ঘর যুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছে জানিয়ে ওই আইনজীবী আরও বলেন, ‘যেখানে বর “তালাকপ্রাপ্ত, বিবাহিত এবং বিপতœীক কি না” তার উল্লেখ থাকবে।’ 

নিকাহনামার ৫ নম্বর কলামকে বৈষম্যমূলক দেখিয়ে ২০১৪ সালের সেপ্টেম্বরে হাইকোর্টে একটি রিট আবেদন করে বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্ট (ব্লাস্ট), নারীপক্ষ ও বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ। আবেদনে বলা হয়, নিকাহনামায় শুধু বিয়ের কনের বৈবাহিক অবস্থা ও তথ্য সন্নিবেশিত করার অনুচ্ছেদ থাকলেও বরের বৈবাহিক অবস্থার বিষয়ে কোনো কলাম নেই। এটি বৈষম্যমূলক ও সংবিধানের পরিপন্থী।

রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে নিকাহনামা বা রেজিস্ট্রেশন ফরমের ৫ নম্বর কলাম কেন বেআইনি ও বৈষম্যমূলক ঘোষণা করা হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করে হাইকোর্ট। পাশাপাশি ওই কলাম থেকে ‘কুমারী’ শব্দটি বাদ দিয়ে ফরমটি সংশোধন করা এবং বরের বৈবাহিক অবস্থা সম্পর্কিত বিবরণ ফরমে কেন অন্তর্ভুক্ত করা হবে না রুলে তা-ও জানতে চাওয়া হয়। ধর্ম ও জনপ্রশাসন সচিব, প্রিন্টিং ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্টদের রুলের জবাব দিতে বলা হয়। গত জুন মাসে রুলের শুনানি শুরু হয়।

শুনানিতে অ্যামিকাস কিউরি (আদালতের আইনি সহায়তাকারী) হিসেবে গত ১৬ জুলাই অভিমত দেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, নিকাহনামা ফরমের ৫ নম্বর কলামে থাকা ‘কুমারী’ শব্দটি ব্যক্তির গোপনীয়তা ও মর্যাদাকে ক্ষুণœ করে, একই সঙ্গে তা সংবিধানের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক। ফলে ওই শব্দটি বাদ দেওয়ার পক্ষে মত দেন তিনি।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত