শিশুসহ চারজন ধর্ষণের শিকার

আপডেট : ২৬ আগস্ট ২০১৯, ০২:০৩ এএম

নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ১৪ বছরের এক শিশুকে  ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় মহসিন (২০) নামে একজনকে আটক করলেও পরে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ। একটি প্রভাবশালী মহলের ইন্ধনে শিশুটির পরিবারকে এলাকা ছেড়ে চলে চাওয়ার জন্য হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, বিয়ে করার কথা বলে গত দুই বছর ধরে শিশুটিকে ধর্ষণ করে আসছিল

মহসিন। গত শনিবার বিকেলে বিষয়টি প্রকাশ হলে উভয় পরিবারের সম্মতিতে বিয়ের কথা চূড়ান্ত হয়। রাত ১০টার দিকে বিয়ে পড়াতে কাজি আসার পর মহসিন ও তার পরিবার বিয়েতে অমত পোষণ করে। এ নিয়ে দেখা দেয় উত্তেজনা। খবর পেয়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিদ্ধিরগঞ্জ থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক বেলায়েত হোসেন এসে অভিযুক্ত ধর্ষক মহসিন ও ওই ছাত্রীকে থানায় নিয়ে যায়।

সিদ্ধিরগঞ্জ থানার ওসি কামরুল ফারুক জানান, অভিযুক্ত মহসিনকে রাতেই আটক করা হয়েছিল। মেয়ের পিতা মামলা করতে ইচ্ছুক নয়। গতকাল রবিবার দুপুরে উভয়ের অভিভাবক থানায় এসে বিয়ের মাধ্যমে মীমাংসা করার কথা বলে ছেলে ও মেয়েকে নিয়ে গেছে।

খুলনায় ধর্ষণের শিকার নারী : খুলনায় এক নারীকে (২৫) ধর্ষণের অভিযোগে তিন যুবককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত শুক্রবার ভুক্তভোগী নারী নিজ বাড়ির ছাদে ধর্ষণের শিকার হয়। এই ঘটনায় গত শনিবার রাতে তিনি বাদী হয়ে নগরীর সোনাডাঙ্গা থানায় মামলা করেন। গতকাল রবিবার ধর্ষণ মামলায় অভিযুক্ত তিন যুবককে গ্রেপ্তার করে সোনাডাঙ্গা থানা পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন, সোনাডাঙ্গা থানার করিমতলা এলাকার এনামুল হকের ছেলে সৌরভ (২৯), অপর ব্যক্তি আবু নাসের হাসপাতালে পাশের এলাকার বাসিন্দা ইলিয়াস ও সন্দেহজনক এক যুবক।

সোনাডাঙ্গা থানার ওসি মোমতাজুল হক জানান, ওই নারীর সঙ্গে সৌরভের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। গত ২৩ আগস্ট রাত ৯টায় মিনাপাড়া মিকুশিস স্কুলপাড়া এলাকায় ওই নারীকে বাড়ির ছাদে নিয়ে সৌরভ ধর্ষণ করে। এ সময় অন্যরা তাকে মারধর করে। গত শনিবার রাতে ভুক্তভোগী নারী বাদী হয়ে থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেন। এই ঘটনায় এজাহারভুক্ত দুজনসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জের তরুণী ধর্ষণের শিকার : নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজারে এক তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে।

ওই তরুণী জানান, গত চার মাস ধরে আরিফ বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে শারীরিক সম্পর্ক করে। তাকে বিয়ের করার কথা বললে তাতে অস্বীকৃতি জানায়। বিষয়টি  আরিফের বাবা-মাকে জানালে তারা টালবাহানা করছেন।

এ ঘটনায় থানায় মামলা করতে গেলে প্রথমে মামলা নেয়নি পুলিশ।

এদিকে আড়াইহাজার থানার ওসি নজরুল ইসলাম দেশ রূপান্তরকে জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

চকরিয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ : কক্সবাজারের চকরিয়ায় উপজেলায় ৯ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গত শনিবার রাত ৮টার দিকে চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের উলুবনিয়া এলাকায় ঘটনাটি ঘটে। ধর্ষিত শিশুটি স্থানীয় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী। উলুবনিয়া এলাকার এক যুবকের হাতে ধর্ষণের শিকার হয় শিশুটি। আক্রান্ত শিশুর চিৎকারে প্রতিবেশী লোকজন এগিয়ে এলে ধর্ষক পালিয়ে যাওয়ায় তাকে চিহ্নিত করা যায়নি। বর্তমানে শিশুটি জেলা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

ওই শিশুর চাচা জানান, শনিবার রাত ৮টার দিকে বাড়িতে রান্না করার জন্য উলুবনিয়া স্টেশনের উপরের দোকানে চালের জন্য পাঠানো হয়। রাস্তায় রাতের আঁধারে স্থানীয় এক যুবক শিশুটিকে ধরে নির্জন স্থানে নিয়ে যায়। এ সময় তার চিৎকারে পথচারীরা এগিয়ে গেলে যুবকটি পালিয়ে যায়। এ সময় তার শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যায়। তিনি আরও জানান, ঘটনার পরপরই শিশুটিকে প্রথমে চকরিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তার অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় জেলা সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টার (ওসিসি) প্রেরণ করেন।

চকরিয়া থানার ওসি (তদন্ত) একে.এম সফিকুল আলম চৌধুরী বলেন, শিশু ধর্ষণের ঘটনার বিষয়টি শোনার পরে তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। কিন্তু ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কাউকে চিহ্নিত করা যায়নি। তবে ধর্ষককে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের অভিযান চালছে। ডাক্তারের প্রতিবেদন না পাওয়া পর্যন্ত ধর্ষণ হয়েছে কি না বিষয়টি বলা যাচ্ছে না।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত